
সিন্ডিকেট মুক্ত, স্বচ্ছ ও কম খরচে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম। বুধবার ( ১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস(বায়রা)শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার দাবিতে ঢাকায় একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন।
ফখরুল ইসলাম বলেন, শুরুতেই আমরা একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই- আমরা মালয়েশিয়া শ্রমবাজার বন্ধ রাখার পক্ষে নই। আমরা চাই প্রমবাজার দ্রুত ক্ষুলুক। তবে কোনো ব্যাক্তি বা গোষ্ঠীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে নয়, সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির সমান অংশগ্রহণের মাধ্যমে।
তিনি বলেন,বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের বক্তব্য আমাদের আশাবাদী করেছিল। আমরাও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কাছে বারবার অনুরোধ জানিয়েছি-মালয়েশিয়া শ্রমবাজার সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে বিভিন্ন মহল ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে- আবারও মাত্র ২৫টি এজেন্সিকে কেন্দ্র করে একচেটিয়া নিয়োগব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে। তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ৫ মিলিয়ন রিঙ্গিত বা প্রায় ১৭ কোটি টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে; কর্মীপ্রতি ৫ হাজার রিঙ্গিত সিন্ডিকেট ফি আদায়ের পরিকল্পনার অভিযোগও উঠেছে।
আমরা এসব গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।
তিনি আরো বলেন,অভিযোগগুলো সত্য হলে এর চূড়ান্ত বোঝা বহন করবেন সাধারণ কর্মীরা এবং তাদের অভিবাসন ব্যয় আবারও কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া-উভয় দেশের সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রন্ত হবে।
তিনি বলেন, ২০১৬ সালে মাত্র ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী প্রেরণের ব্যবস্থা চালু হয় এবং ২০১৮ সালে শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়।২০২২ সালে পুনরায় ২৫টি এজেন্সির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়, পরে তা ১০১টি এজেন্সিতে সম্প্রসারিত হয়।
অনিয়ম, উচ্চ অভিবাসন ব্যয় ও ব্যবস্থাপনাগত সমস্যার মধ্যে ২০২৪ সালে আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়।এ প্রক্রিয়া নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের পাশাপাশি LO, IOM ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিগত সিরিফেটে বিভিন্ন বাক্তি, ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে এবং সাবেক সরকারের মন্ত্রী-এমপিসহ
বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগ ও মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকার ৪৯ টি লাইসেন্স বাতিল করেছে,
অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একই ধরনের অস্বচ্ছ, একচেটিয়া ও সীমিত এজেপিনির্ভর ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি আরো বলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মালয়েশিয়া সরকারের প্রদত্ত কথিত ১০টি ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে রিক্রুটিং এজেন্সির কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়। আমরা শুরু থেকেই বলেছি, এর বেশ কিছু শর্ত অবাস্তব ও বৈষম্যমূলক ছিল।পরবর্তীতে জানা যায়- ৭টি ক্রাইটেরিয়া পূরণকারী ২৬০টি এজেন্সি। ৬টি ক্রাইটেরিয়া পূরণকারী ১৬৩টি এজেন্সি। মোট ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়া সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি মাননীয় প্রতিমন্ত্রীও গণমাধ্যমে তা উল্লেখ করেছেন,আমাদের জিজ্ঞাসা: যদি শেষ পর্যন্ত ৩ বা ৪টি ক্রাইটেরিয়া শিখিল করেই তালিকা করা হয়, তাহলে-শিখিলকৃত শর্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে সকল বৈধ এজেন্সিকে পুনরায় আবেদনের সমান সুযোগ দেওয়া হলো না কেন?প্রায় দুই হাজার বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিকে সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হলো কেন?
তিনি বলেন,সাবেক সরকারের সময়ে যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট তৈরির অভিযোগ উঠেছিল, একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কি আবারও বর্তমান সরকারকেপ্রভাবিত করে একই ধরনের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে?অতীতের সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে যদি ৪৯টি লাইসেন্স বাতিল ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে আবারও সিন্ডিকেট কেন?গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ অনুযায়ী আগে যেখানে সিন্ডিকেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকা এবং কর্মীপ্রতি প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ ছিল, এখন যদি ১৭ কোটি টাকা ও কর্মীপ্রতি ৫ হাজার রিঙ্গিত নেওয়ার অভিযোগ সত্য হয়-তাহলে কি আগের চেয়েও শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে না? সিন্ডিকেটভিত্তিক ব্যবস্থাই যদি আবার চালু হয়, তাহলে পূর্বের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও লাইসেন্স বাতিলের উদ্দেশ্য কী?
আমাদের আশঙ্কা-কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সরকারকে ভুল বুঝিয়ে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থে আবারও একচেটিয়া ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, যা সরকারকে বিব্রত করবে এবং জনশক্তি রপ্তানি খাতে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।মালয়েশিয়া শ্রমবাজার সিরিকেটযুক্ত, যাছ ও সফল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।
আমাদের দাবিসমূহ:
1. সকল বৈষ রিক্রুটিং এজেন্সির সমান সুযোগ। মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণকারী নেপালসহ অন্যান্য সোর্স কান্ট্রির মতো বাংলাদেশের সকল বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দিতে হবে। অন্যান্য সোর্স দেশের জন্য এক নিয়ম আর বাংলাদেশের জন্য ভিন্ন নিয়ম-এটি আমাদের জন্য
২.বৈষম্যমূলক এবং জাতীয় মর্যাদার প্রশ্ন। ২. বৈষম্যমূলক এজেপি সিলেকশন বন্ধ করা। ২৫, ৫০ বা ১০০টি এজেন্সির হাতে পুরো শ্রমবাজার কুক্ষিগত করা যাবে না। কোনো এজেণী তালিকা প্রয়োজন হলে তা হতে হবে প্রকাশ্য, স্বাম, যৌক্তিক এবং সকল বৈধ এজেন্সির জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নীতিমালার ভিত্তিতে।
3. বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া MOU-এর বিতর্কিত ধারা সংশোধন: বাংলাদেশের কোন রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী পাঠাবে তা মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ বাছাই। করষে-এ ধরনের বিধান সংশোধন করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ থেকে কারা কর্মী পাঠাবে তা বাংলাদেশ সরকার নির্ধারণ করবে অথবা নিয়োগকর্তা ঠিক করবে।
4. সীমিত এজেন্সি বাধ্যতামূলক হলে BOESL-এর মাধ্যমে One Stop Service: মালয়েশিয়া সরকার যদি একাজই সীমিত সংখ্যক লাইসেন্সের মাধ্যমে কর্মী নিতে চায়, তাহলে সরকারি প্রতিষ্ঠান BOESL-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করে One Stop Service চালু করা যেতে পারে।
থাকে সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি BOESL-এর মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ পাবে, BOESL প্রয়োজনীয় তদারকি ও NOC প্রদান করবে।
সংশ্লিষ্ট এজেন্সি নিজ নামে BMET Clearance সম্পন্ন করতে পারবে সরকার নির্ধারিত যৌক্তিক সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করা যেতে পারে।VFS যদি বিভিন্ন দেশের ভিসাসেবা সারা দেশের মানুষের জন্য দিতে পারে, তাহলে সরকারি প্রতিষ্ঠান BOESL-ও একটি স্বচ্ছ One Stop Service পরিচালনা করতে পারবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
5. কম খরচে কর্মী প্রেরণ নিশ্চিত করতে হবে: BMET-এর মাধ্যমে হচ্ছে কর্মী ডাটাব্যাংক তৈরি করতে হবে; সরকার নির্ধারিত যৌক্তিক অভিবাসন ব্যয় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে তিন কিস্তিতে গ্রহণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। শক্তিশালী সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রিয়াজুল ইসলাম সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি,বায়রা ফখরুল ইসলাম,সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, বায়রা ,এম এ ছালাম সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, বায়রা, মফিজ উদ্দিন সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, বায়রা,শাখাওয়াত হোসেন লিন্টু স্বত্বাধিকারী, এম সি ও ট্রেডিং. মাহাবুবুল করিম সিদ্দিকী জাফর স্বত্বাধিকারী, জয়নাব জাফরীন ইন্টারন্যাশনাল. মোহাম্মদ আলী সাবেক ই সি সদস্য বায়রা মজিবুর রহমান মজু সাবেক এমপি ও সহসভাপতি বায়রা ও আটাব. আকবর হোসেন মঞ্জু
সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, বায়রা. নুরুল আমিন
সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, বায়রা, কাজী এম এ কাসেম
স্বত্বাধিকারী - আল-জাজিরা ইন্টারন্যাশনাল. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক, সহ অন্য নেতৃবৃন্দ।
Comments