শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬
Saturday, 06 June, 2026
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে ৮ ভোটে পরাজিত করে

নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন শুরু ৮ জুন

তোফায়েল আহমেদ আর নেই

রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় রুশ ঐতিহ্য আবিষ্কার: মাতরিয়োশকা ডল পেইন্টিং মাস্টার ক্লাস অনুষ্ঠিত

জাপানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির অনুসমর্থনের প্রস্তাবে সায় মন্ত্রিসভার

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পরের ধাপে নিতে চায় তুরস্ক
বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বকে আরও গভীর করার পাশাপাশি তা বিস্তৃত পরিসরে উন্নীত করতে আগ্রহী তুরস্ক। দৃঢ় ভিত্তির ওপর গড়ে ওঠা সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে বিশেষ করে প্রতিরক্ষাশিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে আঙ্কারা। তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে এসে ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে এসব কথা বলেন হাকান ফিদান। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এতে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন নেওয়া হয়নি। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতা পাঠ করেন। এরপর তাঁরা সংবাদ সম্মেলনস্থল ছেড়ে যান। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে সিউল থেকে ঢাকায় আসেন। তিনি আজ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর তাঁর সম্মানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যহ্নভোজ শেষে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে দুপুরে কক্সবাজার গেছেন। রাতে তিনি ঢাকায় ফিরবেন। আগামীকাল শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। শনিবার তাঁর ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। সমঝোতা স্মারক সই আজ দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের পর তুরস্ক ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। এর আওতায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, প্রত্নসম্পদ রক্ষা, জাদুঘর ব্যবস্থাপনা, মহাফেজখানার নথি ও গ্রন্থাগার সামগ্রী সংরক্ষণ, ডিজিটাইজেশন এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত হলো। সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় দেশ ইউনেসকোর ১৯৭০ সালের কনভেনশনের আলোকে সাংস্কৃতিক সম্পদের অবৈধ আমদানি, রপ্তানি ও মালিকানা হস্তান্তর প্রতিরোধে যৌথভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস এবং সাংস্কৃতিক সম্পদের তালিকাভুক্তি ও নথিবদ্ধকরণে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হবে। এ চুক্তি দুই দেশের সাংস্কৃতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুই ধাপের বৈঠক গত মার্চে আঙ্কারায় বৈঠকের তিন মাসের মাথায় ঢাকায় বৈঠকে বসলেন খলিলুর রহমান ও হাকান ফিদান। প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠকে নির্ধারিত কোনো আলোচ্যসূচি ছিল না। আলোচনার শুরুতে প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনায় বসেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর বাংলাদেশ ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একান্তে প্রায় ৩০ মিনিট কথা বলেন। বৈঠকে নির্ধারিত কোনো আলোচ্যসূচি না থাকলেও দুই দেশের সম্পর্কের নানা বিষয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তবে এর অর্থ একা চলা নয়; বরং জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলাই এই নীতির মূল কথা। বাংলাদেশ বন্ধু ও অংশীদার চায়, কোনো প্রভু নয়। তিনি জানান, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ প্রস্তাবগুলোর একটি ছিল তুরস্কের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা। দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে তুর্কি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি শুধু তাঁদের জন্যই পৃথক এই অঞ্চলের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি বাস্তবায়িত হলে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, জাহাজনির্মাণ, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের তুর্কি বিনিয়োগ আসবে। প্রতিরক্ষাশিল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধি হাকান ফিদান বলেন, ‘আমরা বিস্তৃত পরিসরে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বকে আরও গভীর করার এবং দৃঢ় ভিত্তির ওপর এটিকে আরও শক্তিশালী ও দূরদর্শী পর্যায়ে উন্নীত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছি।’ বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১৩০ কোটি ডলার থেকে ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার সম্ভাব্য উদ্যোগগুলো খুঁজে দেখছেন বলে জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষ করে প্রতিরক্ষাশিল্পে, আমাদের সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য আমরা পদক্ষেপ নিতে পারি,’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। বৈঠকে দুই দেশ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে অভিন্ন অবস্থান ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানান হাকান ফিদান। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবিক সহযোগিতা অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতেও তুরস্কের আধুনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল এবং নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপন বা উন্নয়নে তুরস্ককে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন। খলিলুর রহমান জানান, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি তুরস্কে বসবাস করছেন, যাঁদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। সরকারের আশা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়লে দুই দেশের সম্পর্ক আরও মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি পাবে। রোহিঙ্গা সংকটে পাশে থাকার আশ্বাস রোহিঙ্গা সমস্যার একটি স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধান খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেশী দেশ ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সংহতি ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই সংকটকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আলোচ্যসূচিতে রাখার জন্য আমরা নিবিড় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি, আমরা তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলকভাবে নিজের মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তনের সমর্থনও অব্যাহত রাখব।’ হাকান ফিদান বলেন, ‘নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা, শান্তি ও সমৃদ্ধি জোরদার করার লক্ষ্যে আমাদের যৌথ অঙ্গীকারকে সুদৃঢ় করতে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখব।’ বিশ্বশান্তিতে বিশেষ গুরুত্ব আঞ্চলিক সংঘাতগুলো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বৈশ্বিক গতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলছে বলে উল্লেখ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সেগুলো বৃহত্তর অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা গভীর উদ্বেগের কারণ। হাকান ফিদান বলেন, ‘ইরানের যুদ্ধ আমাদের অঞ্চলের বাইরেও সমগ্র বিশ্বকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় অর্জিত অগ্রগতিকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা আশা করি, এই আলোচনা বাস্তব ফলাফল বয়ে আনবে এবং স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার ভিত্তি স্থাপন করবে।’ আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধ-পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়া বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্য অত্যাবশ্যক বলে উল্লেখ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিরোধ কেবল সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান করা যায়—এই উপলব্ধির আলোকে আমরা আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছি। হাকান ফিদান বলেন, ‘আমরা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গেই নয়, আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গেও পরামর্শ অব্যাহত রাখছি। এই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী করার জন্য পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে আমরা অত্যন্ত মূল্য দিই এবং সক্রিয়ভাবে সেই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য যৌথ অঙ্গীকার প্রদর্শন করতে হবে।’
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে ৮ ভোটে পরাজিত করে

নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন শুরু ৮ জুন

তোফায়েল আহমেদ আর নেই

রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় রুশ ঐতিহ্য আবিষ্কার: মাতরিয়োশকা ডল পেইন্টিং মাস্টার ক্লাস অনুষ্ঠিত

জাপানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির অনুসমর্থনের প্রস্তাবে সায় মন্ত্রিসভার

নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন শুরু ৮ জুন
তোফায়েল আহমেদ আর নেই
গ্রেপ্তার থাকা সাংবাদিকদের কারো কারো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় আছে: জাহেদ উর রহমান
৫ দফা দাবিতে বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের সফরে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে পালাম বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। আজ রাতেই তাঁরা এক নৈশভোজে অংশ নেবেন।
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ বৃহস্পতিবার ভারত যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্বের ২৫তম বার্ষিকী উদযাপন করতেই মূলত পুতিনের এ সফর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদনের তথ্য
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফরকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনাসহ ভারত–রাশিয়া সামরিক সহযোগিতায় নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারতের সামরিক সরঞ্জামের বড় অংশ এখনো
দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সূত্রটা কী? এককথায় মাহাথির মোহাম্মদের জবাবটা হলো, শরীর ও মন—দুটিকেই সব সময় কাজের মধ্যে রাখতে হবে। তাহলেই মিলবে দীর্ঘ জীবন। তিনি নিজেও এর ব্যতিক্রম নন। সুস্থতা
আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় আগামী বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ইয়াওয়েরি মুসোভেনি। এর মধ্য দিয়ে মুসোভেরি দেশটিতে তাঁর প্রায় চার দশকের শাসনামল
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও ইরান একটি 'সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক' যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, আগামী
রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় রুশ ঐতিহ্য আবিষ্কার: মাতরিয়োশকা ডল পেইন্টিং মাস্টার ক্লাস অনুষ্ঠিত
রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় রুশ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় করিয়ে দিতে এক প্রাণবন্ত ও সৃজনশীল মাতরিয়োশকা ডল পেইন্টিং মাস্টার ক্লাসের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় সেরোভ একাডেমী অব ফাইন আর্টসের সহযোগিতায়। সেরোভ একাডেমী অব ফাইন আর্টসের সদস্যসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী এই সৃজনশীল কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা প্যাস্টেল, জলরং ও পোস্টার কালারের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী রুশ মাতরিয়োশকা পুতুল রঙ করার কৌশল শিখেন। পুরো কর্মশালাজুড়ে ছিল প্রাণবন্ত ও অনুপ্রেরণাময় পরিবেশ, যেখানে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশের পাশাপাশি মাতরিয়োশকা পুতলের ইতিহাস, প্রতীকী তাৎপর্য এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারেন। এই ব্যতিক্রমধর্মী মাস্টার ক্লাসটি সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে, যা সৃজনশীল শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
২২ মে, ২০২৬
“ফ্রেমস অব মেমোরি” চলচ্চিত্র উৎসবে মুগ্ধ বাংলাদেশের হাজারো শিক্ষার্থী
ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাশিয়ান হাউসের আয়োজনে ঢাকায় চলচ্চিত্র উৎসব শুরু
সেরোভ একাডেমি অব ফাইন আর্টস-এর আয়োজনে দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য “বৈশাখী শিশু উৎসব ২০২৬”

আর. পি. সাহা ইউনিভার্সিটি (আরপিএসইউ) তে চীন-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বের ৩০ বছরপূর্তি উপলক্ষে চলচ্চিত্র উৎসব

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা চীন-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বের ৩০ বছরপূর্তি উপলক্ষে একটি চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন করেছে, যার প্রথম দিনের আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় আর. পি. সাহা ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে। অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন, যা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া জোরদারের লক্ষ্যে এক প্রাণবন্ত সূচনা হিসেবে চিহ্নিত হয়। উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য প্রদান করেন অধ্যাপক ড. মণীন্দ্র কুমার রায়, উপাচার্য, আরপিএসইউ, আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই, পরিচালক, রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা, এবং লি শাওপেং, সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর, গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের দূতাবাস। মিস খ্লেভনয় তার বক্তব্যে রাশিয়া-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্বের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং গত ৩০ বছরের উন্নয়ন, পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক, বিশেষত জ্বালানি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রেও আলোকপাত করেন। মি. লি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিশেষ বক্তব্য প্রদান করেন, যেখানে তিনি সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং জনগণ-জনগণের সংযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। উদ্বোধনী পর্ব শেষে প্রদর্শিত হয় “রেড সিল্ক” একটি রাশিয়ান চলচ্চিত্র যা সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ তুলে ধরে, এবং “আই অ্যাম হোয়াট আই অ্যাম” একটি চীনা অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র যা অধ্যবসায় ও আত্মপরিচয়ের গল্প তুলে ধরে। এই উৎসব বিভিন্ন দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এসএএবি ও রাশিয়ান হাউস আয়োজন করল পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে সোভিয়েত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ  (এসএএবি) এবং রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা-এর যৌথ উদ্যোগে রাশিয়ান হাউস প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৭ এপ্রিল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুরুতে প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যেখানে সোভিয়েত ও রাশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন একটি বর্ণিল সমাবেশে। অতিথিরা দেশীয় ও রাশিয়ান বিভিন্ন ধরনের পিঠা আস্বাদন করেন, যা দুই দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটায় এবং একটি উষ্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে। মূল অনুষ্ঠানটি রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা-এর অডিটোরিয়ামে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার মাধ্যমে শুরু হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা-এর পরিচালক মিসেস আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই, এসএএবি -এর সাধারণ সম্পাদক স্থপতি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, এসএএবি -এর সভাপতি অধ্যাপক (ড.) মিজানুর রহমান এবং ও সহ-সভাপতি ডা. হামিদা মাইদার। আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানান এবং বলেন যে এই আয়োজনটি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষকে একীভূত করেছে। তিনি বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে এটিকে আশা ও ঐতিহ্যের সময় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বাংলাদেশের নারীদের সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, সোভিয়েত ও রাশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের উপস্থিতি দুই দেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। রাশিয়ান শিক্ষা শুধু পেশাগত দক্ষতা প্রদান করে না, বরং শিক্ষার্থীদের রাশিয়ার সংস্কৃতি ও ভাষার সঙ্গে যুক্ত করে। তিনি শিক্ষাগত সহযোগিতার মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং অ্যালামনাইদের অর্জন ও রাশিয়ান হাউসের সঙ্গে তাদের অবিচ্ছিন্ন সম্পর্কের জন্য গর্ব প্রকাশ করেন। আগামী বছরের জন্য সবার সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি। আলোচনা শেষে রাশিয়ান ও বাংলাদেশি সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অ্যালামনাই সদস্য ও তাদের সন্তানরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থিত সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়। এই আয়োজন বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে, যা শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক মানুষে-মানুষে সংযোগের মাধ্যমে আরও গভীর হচ্ছে।

ঢাকায় রাশিয়ান হাউসে গ্যাগারিন সায়েন্স ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ উদ্বোধন

ঢাকায় রাশিয়ান হাউসে ইউরি গ্যাগারিন সায়েন্স ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ উদ্বোধন করা হয়েছে। মানব ইতিহাসের প্রথম মহাকাশযাত্রার ৬৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।  ঐতিহাসিক প্রথম মহাকাশ যাত্রাটি সম্পন্ন করেন ইউরি গ্যাগারিন। উদ্বোধনী বক্তব্যে মিস আলেকজান্দ্রা খ্লেভনয় উপস্থিত সম্মানিত অতিথিদের স্বাগত জানান এবং ১২ এপ্রিল ১৯৬১ সালে গাগারিনের ঐতিহাসিক মহাকাশযাত্রার বৈশ্বিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই যাত্রা মহাকাশ যুগের সূচনা করে এবং মানব অর্জনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গাগারিনের উত্তরাধিকার আজও তরুণ প্রজন্মকে কৌতূহল, সাহস ও বৈজ্ঞানিক উদ্দীপনায় অনুপ্রাণিত করে। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন—যার মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প এবং রাশিয়া ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৬,০০০-এর বেশি বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটের অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে আগ্রহী হতে, নতুন দিগন্ত অন্বেষণে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করেন এবং বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনসহ সকল অংশগ্রহণকারী ও অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি তরুণদের রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার মাধ্যমে রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ অন্বেষণের আহ্বান জানান। এই উৎসবটি বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় যৌথভাবে আয়োজিত হয়েছে এবং এক সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক কৌতূহল, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা বিকাশের লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। উদ্বোধনী দিনে “ইউরি গাগারিন – মহাকাশে প্রথম মানব” শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং বিজ্ঞানীদের ভাস্কর্য প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এছাড়াও VII আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব “Tsiolkovsky” থেকে নির্বাচিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়, যার মধ্যে ছিল প্রামাণ্যচিত্র “Gagarin. Embracing the World” এবং অ্যানিমেটেড সিরিজ “The Flying Story” । এদিন আলবার্ট আইনস্টাইন-এর ওপর আরিফ আসগরের উপস্থাপনায় একটি বিজ্ঞান বিষয়ক সেমিনার এবং স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জনাব মশিউর আমিন Yuri Gagarin-এর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাকে “বিশ্ব নায়ক” এবং মানব সাহস ও অনুসন্ধানের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয় এবং টেলিস্কোপের মাধ্যমে আকাশ পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম সমাপ্ত হয়। উল্লেখ্য, ইউরি গাগারিন আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং বিজ্ঞানীদের ভাস্কর্য প্রদর্শনী ১০ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।