রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Sunday, 27 September, 2026
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে শুক্রবার  বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের এক যৌথ প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্নেন্স অ্যাডভাইজার লুইস বেনন (Louise Beynon)-এর নেতৃত্বে চার সদস্যের
Sonali Bank

সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

ডিআইজিসহ পুলিশে ৩১ পদে রদবদল

মালয়েশিয়ার শ্রমাবাজার নিয়ে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

পুলিশ সদস্যদের প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / অপরাধে যুক্ত হলে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি ফৌজদারি ব্যবস্থা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা, জনআকাঙ্ক্ষা ও জনপ্রত্যাশাকে ধারণ করে বাংলাদেশ পুলিশকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তি-নির্ভর, মানবিক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার মাধ্যমে জনআস্থা অর্জন করতে হবে। একইসঙ্গে কোন পুলিশ সদস্য শৃঙ্খলাভঙ্গ, অপেশাদারিত্ব কিংবা কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হলে বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রচলিত ফৌজদারি আইনে কঠোর বিচার নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রী আজ শনিবার রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে 'পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর পদক প্রদান' অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তৃতা করেন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বিপিএম। মঞ্চে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেন। পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পদকপ্রাপ্তি শুধু কৃতিত্বের স্বীকৃতি নয়, বরং এটি দেশের ও জনগণের প্রতি দায়িত্ব আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিগত সরকারের সময়ে পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহার করে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত সাত মাসে প্রাতিষ্ঠানিক, আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে পুলিশের হারিয়ে যাওয়া ভাবমূর্তি উদ্ধার ও জনআস্থা পুনরুদ্ধারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের আস্থা অর্জন। জনগণের আস্থা ছাড়া কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা এমন এক পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে চাই, যে বাহিনী হবে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বে আধুনিক, প্রযুক্তিতে সক্ষম, আচরণে মানবিক, আইন প্রয়োগে দৃঢ়, দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষ এবং জনগণের একান্ত আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক। তিনি এটিকে নিছক বক্তৃতা হিসেবে অভিহিত না করে গভীরভাবে হৃদয়ে ধারণ করে সে অনুয়ায়ী দায়িত্ব পালনে ব্রতী হওয়ার জন্য উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। পুলিশের সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আইনি সংস্কার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জন-আকাঙ্ক্ষা অনুধাবন করে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড বজায় রেখে র‍্যাবসহ (বর্তমানে এসআরবি) বিভিন্ন সংস্থার সংস্কার ও আইনি কাঠামোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-কে আরও আধুনিকায়ন করতে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং তাদেরকে ক্ষেত্রমতে প্রয়োজনীয় তদন্তের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সাহসিকতা, সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা, প্রশংসনীয় ও কৃতিত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন ও জনসেবা প্রদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ পুলিশের ৯২ জন কৃতি সদস্যের হাতে 'বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)', 'বিপিএম-সেবা', 'রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)' এবং 'পিপিএম-সেবা' আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদরদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যগণ ও তাঁদের পরিবারবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
Sonali Bank
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে শুক্রবার  বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের এক যৌথ প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্নেন্স অ্যাডভাইজার লুইস বেনন (Louise Beynon)-এর নেতৃত্বে চার সদস্যের

সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

ডিআইজিসহ পুলিশে ৩১ পদে রদবদল

মালয়েশিয়ার শ্রমাবাজার নিয়ে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

পুলিশ সদস্যদের প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / অপরাধে যুক্ত হলে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি ফৌজদারি ব্যবস্থা
ডিআইজিসহ পুলিশে ৩১ পদে রদবদল
আরামবাগে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নতুন বেতনের প্রজ্ঞাপন হলো, জুলাই থেকে বাড়তি বেতন পাবেন
আলজেরিয়া হঠাৎ করেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সব কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। আবুধাবির ধারাবাহিক ‘উসকানিমূলক ও বৈরী’ আচরণের কথা উল্লেখ করে গতকাল বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। তবে ঠিক কোন ঘটনার
মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক আজ শুক্রবার একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কায় এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। চুক্তিতে
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। আজ সোমবার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ গ্রহণের পর তিনি বাকিংহাম প্যালেস থেকে ১০ নম্বর ডাউনিং
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের সফরে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে পালাম বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। আজ রাতেই তাঁরা এক নৈশভোজে অংশ নেবেন।
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ বৃহস্পতিবার ভারত যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্বের ২৫তম বার্ষিকী উদযাপন করতেই মূলত পুতিনের এ সফর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদনের তথ্য
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফরকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনাসহ ভারত–রাশিয়া সামরিক সহযোগিতায় নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারতের সামরিক সরঞ্জামের বড় অংশ এখনো
আয়োজনে সোভিয়েত অ্যালুমনাই অ্যাসোসিয়েশন / ঢাকায় বাংলাদেশ-রাশিয়া সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন
সোভিয়েত অ্যালুমনাই অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এসএএবি)-এর উদ্যোগে ঢাকার রাশিয়ান হাউসে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। এতে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটস (সি আই এস) অঞ্চলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটরা অংশ নেন। তাঁদের শিক্ষাগত ঐতিহ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক ও মানবিক সংযোগ উদযাপনই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। কবিতা, সঙ্গীত ও নৃত্যে সমৃদ্ধ এই সন্ধ্যায় বাংলাদেশি ও রাশিয়ান সংস্কৃতির এক সুন্দর মেলবন্ধন ঘটে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী প্রজন্মের মাধ্যমে গড়ে ওঠা দুই দেশের দীর্ঘদিনের মানুষে-মানুষে সম্পর্কেরও প্রতিফলন ঘটে অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত সাবেক শিক্ষার্থীদের ঢাকা ও মস্কোর মধ্যকার “বন্ধুত্বের অনন্য ও জীবন্ত সেতু” হিসেবে অভিহিত করেন। বাংলাদেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক, শিল্প ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতেও তাঁদের ভূমিকার কথা তিনি তুলে ধরেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা ) জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি, দেশের উন্নয়নে এসএএবি-এর অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক সোভিয়েত, রাশিয়ান ও সিআইএস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনকারী বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নেতৃত্ব প্রকৌশল, চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষি, বিজ্ঞান, জনশাসন ও শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ঢাকার রাশিয়ান হাউসের পরিচালক সত্তর ও আশির দশকের সেই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাহস ও প্রত্যয়ের কথা স্মরণ করেন, যারা উচ্চশিক্ষার জন্য সুদূর সোভিয়েত ইউনিয়নে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে তাঁদের কর্মজীবনের সাফল্য সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ায় অর্জিত উচ্চশিক্ষার মানের একটি উজ্জ্বল প্রমাণ। তিনি তাঁদের দুই দেশের মধ্যকার “মৈত্রী ও সংস্কৃতির দূত” হিসেবে উল্লেখ করেন। বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পর্বে আলেকজান্ডার পুশকিনের বিশ্বখ্যাত কবিতা “আই লাভড ইউ” (Я вас любил) আবৃত্তি, ভরতনাট্যম ও মণিপুরী নৃত্য, মনোমুগ্ধকর বাংলা গান এবং এসএএবি -এর সদস্য ও প্রখ্যাত শিল্পী তিমির নন্দীর কণ্ঠে কালজয়ী রাশিয়ান গান “মস্কো নাইটস” (Подмосковные вечера)-এর বিশেষ পরিবেশনা ছিল। আমন্ত্রিত শিল্পী ও অতিথিদের সম্মিলিত পরিবেশনায় “আমরা করব জয়” (We Shall Overcome) গানটির মধ্য দিয়ে মূল সাংস্কৃতিক পর্বের সমাপ্তি ঘটে। পরে প্রীতি নৈশভোজ ও দলগত ছবি তোলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষাগত, সাংস্কৃতিক ও মানুষে-মানুষে সম্পর্কের এই স্মরণীয় সন্ধ্যা শেষ হয়।
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বাংলার অজানা ইতিহাস নিয়ে ‘স্বর্গভূমি বাংলা’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠিত
 নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে শাকিব খান সেরা অভিনেতা ও বুবলী সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত
নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রথম আসরে থাকছে জায়েদ খানের চমক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুশকিন দিবস ও রুশ ভাষা দিবস উদযাপন

রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান রুশ কবি আলেকজান্ডার পুশকিনের ২২৭তম জন্মবার্ষিকী এবং রুশ ভাষা দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত পুশকিনের আবক্ষ ভাস্কর্যের পাশে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিসহ রুশ সংস্কৃতির অনুরাগীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে আলেকজান্ডার পুশকিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশে রাশিয়ান ফেডারেশনের দূতাবাসের প্রথম সচিব আনাস্তাসিয়া নেমোভা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজেস (আইএমএল)-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবসার কামাল। বক্তারা পুশকিনের সাহিত্যকর্মের চিরন্তন গুরুত্ব, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে রুশ ভাষার ভূমিকা এবং রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার দৃঢ় সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলা ভাষায় বক্তব্য প্রদানকালে আনাস্তাসিয়া নেমোভা রাশিয়া ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল রুশ ভাষা কোর্সের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ। তারা রুশ ভাষায় পুশকিনের কবিতা আবৃত্তি করেন এবং তার রচনার বাংলা অনুবাদ উপস্থাপন করেন। তাদের পরিবেশনা রুশ ভাষায় দক্ষতা ও রুশ সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায়। রুশ ভাষা কোর্সের শিক্ষকবৃন্দও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান করেন। এই আয়োজন বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে রুশ ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহকে তুলে ধরে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে।

রাশিয়া দিবসে ঢাকায় সাংস্কৃতিক মেলা, প্রদর্শনী ও আন্তর্জাতিক কনসার্টের আয়োজন

রাশিয়া দিবস উপলক্ষে রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যেখানে রাশিয়ান ও বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং রাশিয়ার বন্ধুদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই। তিনি রাশিয়া দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, রাশিয়ান ফেডারেশনের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন জাতির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব জোরদারে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ভূমিকা সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। এরপর বক্তব্য দেন বাংলাদেশে রাশিয়ান ফেডারেশনের দূতাবাসের মিনিস্টার-কাউন্সেলর ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিন । তিনি রাশিয়া ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সাংস্কৃতিক ও মানবিক সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন। অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক পর্বে আধুনিক রাশিয়াকে তুলে ধরে একটি মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা প্রদর্শন করা হয়, যেখানে দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের ইয়েলাবুগা কলেজ অব কালচার অ্যান্ড আর্টস-এর লোকসংগীত ও নৃত্যদল “আলাবুগা”-এর পরিবেশনা। রুশ ও তাতার লোকসংগীত, বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনা এবং নৃত্যের মাধ্যমে তারা রাশিয়ার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করেন। কনসার্টে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীতশিল্পী রাজিল গাব্বাসভ ঐতিহ্যবাহী লোকবাদ্যযন্ত্র পরিবেশন করেন এবং তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের সম্মানিত শিল্পী দিলইয়ারা মিরোভায়েভা বিশেষ সংগীত পরিবেশন করেন। সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণ করে “হ্যাপিনেস” নামের একটি শিশু নৃত্যদল, যার সদস্যরা সোভিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সন্তান। তাদের পরিবেশিত বাংলা ঐতিহ্যবাহী নৃত্য রাশিয়া ও বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দর্শকদের মুগ্ধ করে। বাংলাদেশে বসবাসরত রাশিয়ান স্বদেশী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তারা “গ্লিয়াঝু ভ ওজিওরা সিনিয়ে” গান-কবিতা আবৃত্তি করেন এবং জনপ্রিয় রুশ লোকসংগীত “করোবেইনিকি”-এর সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ অংশ তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রকে উৎসর্গ করা হয়, যেখানে এর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং রাজধানী কাজান সম্পর্কে দর্শকদের পরিচিত করা হয়। কনসার্টের পর অতিথিরা রাশিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক মেলায় অংশগ্রহণ করেন এবং দুটি প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। “মাল্টিকালচারাল রাশিয়া” প্রদর্শনীতে রাশিয়ার বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়, আর “প্রিস্টিন রাশিয়া” প্রদর্শনীতে দেশটির অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বন্যপ্রাণী উপস্থাপন করা হয়। মেলায় মাতরিয়োশকা রঙ করার কর্মশালা, রুশ ধাঁচের ফটোজোন, স্মারক সামগ্রীর প্রদর্শনী, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পানীয় এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। এই উদযাপন বাংলাদেশে রুশ সংস্কৃতির প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায় এবং দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করে।

রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় রুশ ঐতিহ্য আবিষ্কার: মাতরিয়োশকা ডল পেইন্টিং মাস্টার ক্লাস অনুষ্ঠিত

রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় রুশ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় করিয়ে দিতে এক প্রাণবন্ত ও সৃজনশীল মাতরিয়োশকা ডল পেইন্টিং মাস্টার ক্লাসের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় সেরোভ একাডেমী অব ফাইন আর্টসের সহযোগিতায়। সেরোভ একাডেমী অব ফাইন আর্টসের সদস্যসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী এই সৃজনশীল কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা প্যাস্টেল, জলরং ও পোস্টার কালারের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী রুশ মাতরিয়োশকা পুতুল রঙ করার কৌশল শিখেন। পুরো কর্মশালাজুড়ে ছিল প্রাণবন্ত ও অনুপ্রেরণাময় পরিবেশ, যেখানে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশের পাশাপাশি মাতরিয়োশকা পুতলের ইতিহাস, প্রতীকী তাৎপর্য এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারেন। এই ব্যতিক্রমধর্মী মাস্টার ক্লাসটি সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে, যা সৃজনশীল শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।