শুক্রবার, ০৬ মার্চ, ২০২৬
Friday, 06 March, 2026
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আজ শুক্রবার দুপুরে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা। বেলা ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। কয়েক সেকেন্ড ধরে

জাতিসংঘের নির্বাচনে বাংলাদেশকে সমর্থনের আশ্বাস সৌদিসহ কয়েকটি মুসলিম দেশের

সরে দাঁড়াল ফিলিস্তিন, বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

খলিলুর রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জয়শঙ্করের

খলিলুরকে ইসহাক দারের ফোন, ভবিষ্যৎমুখী অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠায় সম্মত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে বিএনপি-জামায়াত ‘সম্মতি দিয়েছিল’: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির করার আগে এ বিষয়ে দুই রাজনৈতিক দল— বিএনপি ও জামায়াত থেকে ‘সম্মতি’ আসার কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এসে তিনি বলেন, “ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ আমাদের প্রধান দুটি দলের প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনের আগেই কথা বলেছেন এবং তারাও এতে সম্মতি দিয়েছিল। “সুতরাং এমন না যে, এইটা আমরা অন্ধকারে করেছি।” অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ওই চুক্তি করার ক্ষেত্রে বিশ্লেষকদের সমালোচনার মধ্যে এমন তথ্য দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ওই সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে বিএনপির নতুন সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন খলিলুর রহমান। চুক্তির আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দরকষাকষিতে বাংলাদেশের তরফে প্রধান ভূমিকায় থাকা খলিলুর রহমান বলছেন, “এই ডিলটা কিন্তু ঠিক তিনদিন আগে শেষ হয়েছে, তা নয়।” চুক্তির হওয়ার ঘটনাক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, “এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম তাদের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে আমরা কথা বলি। “এই রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ আরোপ করা হয় সম্ভবত এপ্রিল মাসে এবং তারপর থেকে এই আলোচনা শুরু হয়। এপ্রিল থেকে জুলাই টানা আলোচনা চলেছে। শুধু আমাদের না, আরও অনেক দেশের সঙ্গে। সেই আলোচনার পরে কিন্তু আমরা ২০ শতাংশ পেয়েছিলাম, আপনাদের হয়ত খেয়াল আছে। সেই সময় মোটামুটিভাবে এগ্রিমেন্টটা হয়ে গেছিল।” এরপর যুক্তরাষ্ট্রের তুলা বা সুতা দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানির উপর শূন্য শতাংশ পাল্টা শুল্ক এবং ‘রুলস অব অরিজিন’ নিয়ে আলোচনায় সময় লাগার কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “একটা হচ্ছে, আমরা তাদেরকে বলেছিলাম যে, আমেরিকান কটন দিয়ে তৈরি বা আমেরিকান ম্যানমেড ফাইবার দিয়ে তৈরি যে পোশাক আমরা তাদের কাছে পাঠাব, সেইখানে আমরা জিরো রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ চাই, সেইটা করতে তাদের সময় লেগেছে। এটা কিন্তু আমাদের স্বার্থে। “আর দ্বিতীয় হচ্ছে রুলস অব অরিজিন, তাতেও তারা সময় নিয়েছেন। এগ্রিমেন্ট আমরা করে রেখেছিলাম জুলাইয়ের ৩১ তারিখে এবং এক তারিখে আমরা ২০% পেয়েছিলাম। সুতরাং এটা যে চট করে নির্বাচনের তিন দিন আগে করা হয়েছে, সেটা ঠিক নয়।” যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর চড়া হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা আসে। পরে দর কষাকষি করে এ হার ২০ শতাংশ নামে, যা ১ অগাস্ট কার্যকর হয়। আর আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে ছিল ১৫ শতাংশ শুল্ক; সব মিলিয়ে শুল্ক দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশ। এরপর নয় মাসের দীর্ঘ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক শুল্ক নিয়ে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ; যাতে আগের চেয়ে শুল্কহার কমেছে ১ শতাংশ। ওই চুক্তিতে পৌঁছতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আরও পণ্য কিনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ইতোমধধ্যে গম আমদানি বাড়ানো হয়েছে। তুলা ও সয়াবিনসহ আরও পণ্য আমদানি বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ শেষের তিন দিন আগে হওয়া এই চুক্তির সমালোচনা করেছেন অনেকে। একটি অনির্বাচিত সরকার হয়েও বিগত অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তা দেখে ‘হতভম্ব’ ও ‘স্তম্ভিত’ হওয়ার কথা বলেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি। ২৮ ফেব্রুয়ারি সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের একটি চুক্তি কীভাবে একটি সরকার, অনির্বাচিত সরকার করে যেতে পারে, যার দায় চাপবে নির্বাচিত সরকারের ওপর। ‘স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছি, এটা সত্য নয়’ বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে যেসব সমালোচনা আসছে, সেক্ষেত্রে ‘পাঠ বিভ্রাট’ থাকার কথা তুলে ধরে অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাদের চুক্তির ‘ভাষা’ তুলনার পরামর্শ দেন খলিলুর রহমান। ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একই ধরনের চুক্তি পড়ে দেখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “এই ভাষা তুলনা করলে দেখবেন, মোটামুটি একই রকম ভাষা সব জায়গাতে।” পণ্য আনা-নেওয়ায় বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন রকম শর্ত থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এক জায়গাতে আছে, এটাকে বলে ‘বর্ডার মেজার’। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ‘বর্ডার মেজার’ হচ্ছে, এখন একটা পণ্য বা সেবা যখন এক সীমান্তের এপাড় থেকে অন্য পাড়ে যায়, তখন আপনি কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন, ট্যারিফ কিংবা আপনি ধরেন, টেকনিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড। “যখন যুক্তরাষ্ট্র একটা ‘বর্ডার মেজার’ নেবে, আপনি দেখবেন, কম্বোডিয়া বা ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে তারা বলেছে, তাদের সে ধরনের একটা মেজার নিতে হবে। আর আমরা কী বলেছি? আমরা বলেছি, আমরা সেটা পর্যালোচনা করব এবং বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী যদি কোনো পদক্ষেপ নিতে হয়, আমরা নিব। আপনি বিবেচনা করে দেখেন, কার ভাষা তুলনামূলক ভালো। তো, আমরা বাংলাদেশ বাংলাদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে করেছি, এ কথা সত্য নয়।” চুক্তিতে ঢোকা এবং বের হয়ে যাওয়ার যে বিধান, সেটির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আরেকটা জিনিস মনে রাখবেন, এটাতে একটা ‘এন্ট্রি ক্লজ’ এবং ‘এক্সিট ক্লজ’ আছে। “এন্ট্রি ক্লজ হচ্ছে, নোটিফিকেশন না হলে এটা কার্যকর হবে না। এখনও নোটিফিকেশনে যায়নি, সরকার ইচ্ছা করলে রিভিউ করতে পারে। আর এক্সিট ক্লজ হচ্ছে, আপনি ৬০ দিনের নোটিস দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারেন। এমন না যে, আমরা একটা বন্ধ ঘরে বাংলাদেশকে ঠেলে দিয়েছি।” ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তি সাংঘর্ষিক কিনা, এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মোটেই না। আমি আগেও বলেছি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আমরা একই ধরনের নীতি পালন করেছি এবং আপনি একটা জিনিস চিন্তা করেন, চুক্তিটা যদি না হত, তাহলে কী হত? “৩৭ শতাংশ ট্যারিফে আপনি বাজারে টিকতে পারতেন কি না? তো আমাদের যে পারচেস কমিটমেন্ট, আমরা বলেছি যে, আমরা ২২ বিলিয়ন ডলারের গুডস কিনব তার কাছ থেকে এবং তার মধ্যে এনার্জি আছে, ১৫ বছর ধরে কিনব। আপনারা ভারতের দিকে দেখেন, ৫০০ বিলিয়ন ডলার পাঁচ বছরে। আমরা পেয়েছি ১৯ শতাংশ, ভারত পেয়েছে ১৮ শতাংশ। “তো আপনারা তুলনা করবেন যে, বাংলাদেশ অন্য দেশের তুলনায় কী কী দিল, আর কী কী পেল এবং আমরা যে কটন এবং ম্যানমেড ফাইবারে যে জিরো রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ পেয়েছি, দেখান আর কে কী পেয়েছে।” আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর প্রক্রিয়া বাকি থাকায় চুক্তি নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “নোটিফিকেশন পিরিয়ডটা আছে। আজ আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রী নিজেই কথাটি বলেছেন যে, দরকার হলে আমরা এটা পুনরায় আলোচনা করব। সে ধারা তো আছেই। “আমার মনে হলো, আচ্ছা এই জিনিসটা কাজ করছে না। যে জিনিসটা কাজ করছে না, তাদের সঙ্গে বসে আলাপ করে নিব এবং সে রাস্তা তো এখানে দেওয়াই আছে, তাই না। কিন্তু আমি আপনাকে বলব একটা কথা, এটার একটা পাঠ বিভ্রাট আছে। আপনি যদি অন্যান্য দেশের সঙ্গে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে না দেখেন, তাহলে আপনি জিনিসটা পুরোপুরি হৃদয়ঙ্গম করতে পারবেন না।” ‘সামরিক সহযোগিতার আলোচনা হয়নি’ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পাঠানো চিঠিতে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি ‘সুন্দরভাবে’ বাস্তবায়ন এবং প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ২০২২ সালের এপ্রিলে ‘সিকিউরিটি ডায়ালগ’ সামনে রেখে বাংলাদেশের কাছে জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট বা জিসোমিয়ার একটি খসড়া হস্তান্তর করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। দুপক্ষের মধ্যে আদান-প্রদান করা সামরিক তথ্যের সুরক্ষা ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রাখতে জিসোমিয়া সই করা হয়। আর সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গেও অ্যাকুইজিশন ক্রস সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট বা আকসা সই করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষার এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি, সেটা তো আমার দপ্তর নয়।” প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথার প্রসঙ্গ ধরে জিসোমিয়া ও আকসা চুক্তি করার বিষয়ে আলোচনার বিষয়ে আরেক প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আকসা, জিসোমিয়া এ শব্দগুলি উচ্চারিত হয়নি।” বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে আলোচনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “রেসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট, সেটার ব্যাপারে উনি ইতিমধ্যে আশ্বস্ত হয়েছেন যে, বাংলাদেশ সরকার এটার ইমপ্লিমেন্টেশন অব্যাহত রাখবে।” ইন্দো-প্যাসিফিক নিয়ে বাংলাদেশে অবস্থান ছিল, কোনো প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মধ্যে না ঢোকা। সেই অবস্থানে কোনো পরিবর্তন এসেছে কিনা, এমন প্রশ্নে খলিলুর বলেন, “আমরা মাত্র দু সপ্তাহ দায়িত্ব নিয়েছি। এই পুরো ইন্দো-প্যাসিফিক জিনিসটা আমাদের পুনর্বিবেচনা করতে হবে। “এবং তার আগে আমরা এ নিয়ে বলতে পারব না। আমাদের দেশের সুরক্ষা যেন বিপর্যস্ত না হয়, সেটা আমাদের সবচাইতে বড় একটা অগ্রাধিকার। এটা আপনারা জেনে রাখবেন, কারো কোনো জোটে আমরা ঢুকব না।” আওয়ামী লীগ ও নির্বাচন প্রসঙ্গ পল কাপুর আওয়ামী লীগের রাজনীতি স্বাভাবিক করার বিষয়ে কোনো বার্তা দিয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “না, উনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলেন নাই। এটা সম্পূর্ণভাবে দ্বিপক্ষীয়।” ত্রয়োদশ নির্বাচনের ‘আশাতীত’ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ‘অবাক’ হয়েছেন, এমন তথ্য দিয়ে বৈঠকে আলোচনার একটা বর্ণনা দেন তিনি। খলিলুর রহমান বলেন, “উনি আমাদের নির্বাচন ‘এত শান্তিপূর্ণ এবং এত অবাক হয়েছে’, সেটা তাদের আশাতীত ছিল। এবং আমাকে তিনি বললেন যে, ‘আমার মনে আছে, আপনি বলেছিলেন ওয়াশিংটন সফরের সময় যে, আপনারা এই নির্বাচন উৎসবমুখর করতে চান। তখন আমরা ভেবেছিলাম, তা হবে কি? পরে আমরা দেখলাম আসলেই এটা একটা উৎসবমুখর নির্বাচন হয়েছে।’ “এবং আমেরিকান রাষ্ট্রদূত উনিও সে সময় বললেন যে, কিছু কিছু কেন্দ্রের বাইরে উনি দেখেছেন অনেকটা মেলার মত অবস্থা। তো খুব আনন্দের একটা নির্বাচন হয়েছে এবং এই নির্বাচনে বিপুল বিজয় অর্জন করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এবং তিনি আমার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে তার সরকারের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।”
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আজ শুক্রবার দুপুরে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা। বেলা ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। কয়েক সেকেন্ড ধরে

জাতিসংঘের নির্বাচনে বাংলাদেশকে সমর্থনের আশ্বাস সৌদিসহ কয়েকটি মুসলিম দেশের

সরে দাঁড়াল ফিলিস্তিন, বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

খলিলুর রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জয়শঙ্করের

খলিলুরকে ইসহাক দারের ফোন, ভবিষ্যৎমুখী অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠায় সম্মত

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা
একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার শ্রদ্ধা
জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী / দলীয় প্রভাব নয়, রাষ্ট্র চলবে আইনের শাসনে
নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ও গণভোটের গেজেট প্রকাশ
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের সফরে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে পালাম বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। আজ রাতেই তাঁরা এক নৈশভোজে অংশ নেবেন।
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ বৃহস্পতিবার ভারত যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্বের ২৫তম বার্ষিকী উদযাপন করতেই মূলত পুতিনের এ সফর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদনের তথ্য
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফরকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনাসহ ভারত–রাশিয়া সামরিক সহযোগিতায় নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারতের সামরিক সরঞ্জামের বড় অংশ এখনো
দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সূত্রটা কী? এককথায় মাহাথির মোহাম্মদের জবাবটা হলো, শরীর ও মন—দুটিকেই সব সময় কাজের মধ্যে রাখতে হবে। তাহলেই মিলবে দীর্ঘ জীবন। তিনি নিজেও এর ব্যতিক্রম নন। সুস্থতা
আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় আগামী বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ইয়াওয়েরি মুসোভেনি। এর মধ্য দিয়ে মুসোভেরি দেশটিতে তাঁর প্রায় চার দশকের শাসনামল
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও ইরান একটি 'সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক' যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, আগামী
১৪ দিনের লড়াই শেষ, স্তব্ধ হলো ফরিদা পারভীনের কণ্ঠ
তাঁর কণ্ঠের মাধুর্যে মুগ্ধ হয়েছে বাংলাদেশ। তাঁর দৃপ্ত গায়কির আকর্ষণ আচ্ছন্ন করেছে বাংলা গানের শ্রোতাদের। বাংলাদেশের লালনসংগীতের সঙ্গে যাঁর নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে, সেই ফরিদা পারভীন আর নেই। শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। খবরটি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্তী ও ফরিদা পারভীনের ছেলে ইমাম নিমেরি উপল। মৃত্যুকালে ফরিদা পারভীনের বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন ফরিদা পারভীন। কিছুদিন ধরে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছিল, সপ্তাহে দুই দিন তাঁকে ডায়ালাইসিস করাতে হতো। এর আগেও সংকটাপন্ন অবস্থায় বেশ কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল ফরিদাকে। কিন্তু পরিবারের সদস্য-অনুরাগীদের আশ্বস্ত করে প্রতিবারই সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন। নিয়মিত ডায়ালাইসিসের অংশ হিসেবে ২ সেপ্টেম্বর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু ডায়ালাইসিসের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তখন চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। এর পর থেকে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত বুধবার অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার দুপুরে প্রথম আলোকে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্তী বলেছিলেন, ফরিদা পারভীনের কিডনি, ব্রেন কাজ করছে না। ফুসফুসে সমস্যা আছে। হার্টে অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন আছে। রক্তের সংক্রমণ সারা শরীরে ছড়িয়ে গেছে। রক্তচাপ কম থাকার কারণে ডায়ালাইসিস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আশীষ কুমার চক্রবর্তী রাতে মন খারাপ করা খবরটি জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আর পারলাম না আপাকে ফেরাতে। ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক করেছেন তিনি।’ শৈশবের রোদ্দুর থেকে গানের হাতেখড়ি ফরিদা পারভীনকে বলা হতো ‘লালনসম্রাজ্ঞী’। লালন সাঁইজির গানের প্রসঙ্গ উঠলে প্রথমেই বাঙালির কানে ভেসে উঠত তাঁর কণ্ঠস্বর। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি লালনের গানকে বিশ্বপরিসরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানার শাঁঔঁল গ্রামে জন্ম নেন ফরিদা পারভীন। শৈশবের দিনগুলো কেটেছে মাগুরা, নাটোর, কুষ্টিয়া—দেশের নানা প্রান্তে। বাবার চাকরির বদলির কারণে ঘুরে বেড়ানো সেই শৈশবেই শুরু হয় গানের হাতেখড়ি। মাত্র চার-পাঁচ বছর বয়সে ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে প্রথম গান শেখা। তারপর নজরুলসংগীত দিয়ে তাঁর শিল্পীজীবনের সূচনা। ১৯৬৮ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি রাজশাহী বেতারে তালিকাভুক্ত নজরুলসংগীতশিল্পী হন। কিন্তু ভাগ্য যেন তাঁকে অন্য পথে নিয়ে যেতে চাইছিল, সেই পথের নাম—লালন। লালনের গানে মোড় ঘোরা জীবন স্বাধীনতার পর কুষ্টিয়ার দোলপূর্ণিমার মহাসমাবেশে প্রথমবারের মতো লালনের গান পরিবেশন করেন ফরিদা পারভীন। সেই গান ছিল—‘সত্য বল সুপথে চল’। শ্রোতার আবেগ, উচ্ছ্বাস আর প্রশংসা তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছিল, এই পথেই তাঁর যাত্রা। শুরুতে অনীহা থাকলেও বাবার উৎসাহে মকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছে লালনের গান শেখা শুরু করেন। এরপর খোদা বক্স সাঁই, করিম সাঁই, ব্রজেন দাসসহ গুরুপরম্পরার সাধকদের কাছে তালিম নিয়ে লালনের গানকে তিনি কণ্ঠে ধারণ করেন। তাঁর কণ্ঠে লালনের গান হয়ে ওঠে শুধু সংগীত নয়, এক অনন্য জীবনদর্শন। জীবনকালে প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে এটা ঘটে। কুষ্টিয়ায় স্থানীয় এক হোমিও চিকিৎসক আমার গানের বেশ মুগ্ধ শ্রোতা ছিলেন। কিন্তু কেন জানি, তিনি আমার কণ্ঠে লালনগীতি শুনতে চাইতেন। তাঁর মনে হতো, লালনের গান আমার কণ্ঠে বেশি ভালো লাগবে। তাই হঠাৎ করেই আমাকে একদিন লালন ফকিরের গান শেখার পরামর্শ দেন। কিন্তু শুরুতে লালনের গান গাইতে চাইনি। আমার এই অনীহা দেখে বাবা আমাকে অনেক বুঝিয়ে গান শেখার জন্য রাজি করান। বলেন, “ভালো না লাগলে গাইবি না।” এই শর্তে রাজি হই এবং লালনসংগীতের পুরোধা ব্যক্তিত্ব মকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছে তালিম নেওয়া শুরু করি। “সত্য বল সুপথে চল ওরে আমার মন”, লালনের বিখ্যাত গানটি শিখি। একই বছর দোলপূর্ণিমা উৎসবে গানটি গাইলে শ্রোতারা আমাকে লালনের আরও একটি গান গাইতে অনুরোধ করেন। তখন আমি গান গাইতে অসম্মতি জানাই। শ্রোতাদের বলি, “আমি একটি গান গাইতে শিখেছি। এটাই ভালোভাবে গাইতে চাই।” এ গানই আমার নতুন পথের দিশা হয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে বুঝতে শিখি, কী আছে লালনের গানে। তাঁর গানে মিশে থাকা আধ্যাত্মিক কথা ও দর্শন আমাকে ভাবিয়ে তোলে। এ পর্যায়ে অনুভব করি, লালন তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে অনবদ্য এক স্রষ্টা হয়ে উঠেছেন। এটা বোঝার পর লালনের গান ছাড়া অন্য কিছু ভাবতেই পারি না।’ কণ্ঠে দার্শনিকতার মূর্ছনা ফরিদা পারভীনের কণ্ঠে ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, ‘সময় গেলে সাধন হবে না’, ‘নিন্দার কাঁটা’ কিংবা ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’—শুধু গান নয়, মানুষের আত্মাকে নাড়া দেওয়া এক দর্শন। তাঁর কণ্ঠে লালন যেন নতুন ভাষা খুঁজে পেত। তিনি নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘লালনের গান গাইতে গাইতে বুঝেছি, তাঁর বাণীতে যে আধ্যাত্মিকতা আছে, তা আমাকে ভেতর থেকে নাড়া দেয়। এই গান ছাড়া আমি অন্য কিছু ভাবতেই পারি না।’ বিশ্বমঞ্চে লালনের জয়যাত্রা শুধু বাংলাদেশ নয়, লালনের গান তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বমঞ্চেও। জাপান, সুইডেন, ডেনমার্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য—সবখানেই তাঁর কণ্ঠে বেজেছে লালনের দর্শন। সুইডেন সফরের সেই ঘটনা আজও কিংবদন্তি—যেখানে রানী তাঁর গান শুনে অশ্রুসিক্ত হয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘আমি কথাগুলো বুঝি না, কিন্তু তাঁর কণ্ঠে যে বেদনা আছে, তা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।’ ৫৫ বছরের সংগীতজীবনে ফরিদা পারভীনের অনেক স্মরণীয় স্মৃতি আছে। সে রকম একটি ঘটনার কথা এভাবেই বলেছিলেন, ‘১৯৭৩ সাল। বিভিন্ন আখড়া থেকে বাউলশিল্পীদের ঢাকায় এনে লালনের গান রেকর্ডের পরিকল্পনা করেন ওস্তাদ মকছেদ আলী সাঁই। তিনি তৎকালীন রেডিওর ট্রান্সক্রিপশনে কর্মরত ছিলেন। তাঁর আমন্ত্রণে ঢাকায় রেডিওতে আসি। এ সময় স্টুডিওতে উপস্থিত ছিলেন আবদুল হামিদ চৌধুরী, কমল দাশগুপ্ত, সমর দাস, কাদের জমিলির মতো বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞরা। খুব ভয় হয়েছিল। তাঁদের সামনে আমাকে গাইতে হলো। ১৫ মিনিটের একক সংগীতানুষ্ঠান করে তাঁদের প্রশংসা পেয়েছিলাম। এটিই আমার অন্যতম স্মরণীয় স্মৃতি।’ ২০০১ সালে ‘ফরিদা পারভীন প্রজেক্ট কমিটি’র উদ্যোগে তিনি জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে লালনের গান পরিচয় করিয়ে দেন। পরে গড়ে তোলেন ‘ফরিদা পারভীন ট্রাস্ট’, যার লক্ষ্য ছিল লালনের গান সংরক্ষণ, স্বরলিপি তৈরি এবং বাদ্যযন্ত্রের আর্কাইভ তৈরি করা। স্বীকৃতি লালনসংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে একুশে পদক পান তিনি। ১৯৯৩ সালে চলচ্চিত্র ‘অন্ধ প্রেম’-এ ব্যবহৃত তাঁর গাওয়া ‘নিন্দার কাঁটা’র জন্য পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ২০০৮ সালে জাপানের মর্যাদাপূর্ণ ফুকুওয়াকা পুরস্কারে ভূষিত হন। তবে পুরস্কার-সম্মান নয়, তাঁর কাছে আসল অর্জন ছিল মানুষের ভালোবাসা। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমার গানের শ্রোতা যখন কাঁদেন, হাসেন, আবেগে ভেসে যান—সেটাই আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।’ ব্যক্তিজীবন ব্যক্তিজীবনে তিনি একসময়ের জনপ্রিয় গীতিকার ও সুরকার আবু জাফরের স্ত্রী ছিলেন। তাঁদের সংসারে এক মেয়ে ও তিন ছেলে। আবু জাফরের লেখা-সুর করা অনেক গানই তাঁর কণ্ঠে অমর হয়ে আছে। যেমন, ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’, ‘তোমরা ভুলে গেছো মল্লিকাদির নাম’, ‘নিন্দার কাঁটা’। তবে দাম্পত্যজীবনে বিচ্ছেদ ঘটলেও গানই ছিল তাঁর চিরসঙ্গী। ২০০৫ সালের ১৭ জানুয়ারি তিনি বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিমের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে জড়ান। শেষ জীবন শেষ সময় জীবনের শেষ কয়েক বছর তিনি কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। ডায়ালাইসিসের পরও তাঁর শিল্পীসত্তা কখনো ক্লান্ত হয়নি। হাসপাতালের বিছানায় থেকেও তাঁর মনে ছিল গান। অবশেষে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে চলে গেলেন। সেই সঙ্গে বাংলার সংগীতের আকাশের উজ্জ্বল এক নক্ষত্র অস্ত গেল। নিভে গেল এক কণ্ঠস্বর, যে কণ্ঠ শুনে প্রজন্মের পর প্রজন্ম লালনকে নতুনভাবে চিনেছে।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ঢাকায় রাশিয়ান হাউজে লোকগানের উৎসব “দোব্রোভিদেনির”র বিশেষ প্রদর্শনী
ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউজে উদযাপিত হলো ‘পরিবার, ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততার দিবস’
ঢাকা ছাড়ার আগে স্ত্রীকে যাত্রী সাজিয়ে চালকের আসনে জার্মান দূত

মালয়েশিয়ায় বর্ণীল আয়োজনে 'বাংলাদেশ উৎসব'  উদযাপন

জমকালো আয়োজন এবং বিপুল উৎসাহ - উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে  'বাংলাদেশ উৎসব' উদযাপন করেছে কুয়ালালামপুরস্থ  বাংলাদেশ হাই কমিশন। এ   উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৬ জুন ২০২৫ ) রাজধানী কুয়ালালামপুরের ক্রাফট কমপ্লেক্সে    বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সুমধুর গান, দৃষ্টিনন্দন নাচ, ফ্যাশন শো এবং ঐতিহ্যবাহী দেশীয় খাবারের মাধ্যমে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতি তুলে ধরা হয় এ বর্ণিল আয়োজনে। বাংলাদেশের ঐতিহ‍্যবাহী রিকশাসহ অন‍্যান‍্য দেশীয় কারুপন‍্য দিয়ে সাজানো হয় অনুষ্ঠানস্থল। এছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রার উপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। মালয়েশিয়া   টুরিজম, আর্টস এবং  কালচার মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল ওয়াইবিএইচজি দাতো শাহারুদ্দিন বিন আবু সহত  ( YBhg. Dato’ Shaharuddin bin Abu Sohot)  অনুষ্ঠানে “গেস্ট অব অনার” হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মালয়েশিয়ার  পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সহ বিভিন্ন দপ্তরের  উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, কুয়ালালামপুরে  বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিপুল সংখ‍্যক  কূটনীতিক ছাড়াও শিক্ষাবিদ,  প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ,  সাংবাদিক এবং হাই কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ এ আয়োজনে  উপস্থিত ছিলেন।   হাই কমিশনার মোঃ শামীম আহসান ও তাঁর সহধর্মিণী পেন্ডোরা চৌধুরী আমন্ত্রিত অতিথিদের উষ্ণভাবে বরণ করে নেন এবং সকলের  সাথে  শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।  টুরিজম, আর্টস এবং  কালচার মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল   তার বক্তৃতায় বাংলাদেশ -মালয়েশিয়ার দ্বি-পাক্ষিক চমৎকার সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার এর মত বাংলাদেশও সমৃদ্ধ  সংস্কৃতির ও বহু জাতি -গোষ্ঠীর  দেশ।  'বাংলাদেশ ফেস্টিভাল'  বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত সমাজের চিত্র তুলে ধরেছে, যা অত্যন্ত  প্রশংসনীয়।  তিনি বাংলাদেশের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।  হাইকমিশনার শামীম আহসান  তার বক্তৃতায় শুরুতে '৭১  এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং '২৪ এর জুলাই -আগস্ট অভ্যুত্থানের সকল শহিদের   স্মৃতির প্রতি গভীর  শ্রদ্ধা জানান এবং বীর যোদ্ধাদের অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। এছাড়া তিনি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার প্রথম দেশ হিসাবে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টি গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্ণিল উৎসবের দেশ। আমরা আমাদের বিশ্বাস, জীবন, স্বাধীনতা, প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং অর্জনগুলি বছরব্যাপী বিভিন্ন মেলা এবং উৎসবের মাধ্যমে উদযাপন করি, যা প্রচুর উৎসাহ এবং উদ্দীপনার সাথে আয়োজিত হয়। হাই কমিশনের জনকূটনীতির অংশ হিসাবে আমাদের বিশিষ্ট বিদেশী বন্ধুবান্ধব এবং প্রবাসী  দের নিয়ে এই উৎসব আয়োজন।  জুলাই -আগস্ট অভ্যুত্থানের পর প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শপথের পরপরই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. আনোয়ার ইব্রাহীম প্রধান উপদেষ্টাকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানান এবং প্রথম সরকার প্রধান হিসাবে বাংলাদেশ সফর করেন। বিপ্লব পরবর্তী   প্রথম সরকার প্রধান হিসেবে ৪ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে দাতো সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের বাংলাদেশ সফর, অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্ব এবং "নতুন বাংলাদেশ"-এর জন্য তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি মালয়েশিয়ার  দৃঢ়  সমর্থন প্রদর্শন করে। এবছরই বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার মালয়েশিয়ায় ফিরতি সফর এর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে হাইকমিশনার জানান।  তিনি আরও বলেন, একজন কূটনীতিক হিসেবে, আমরা বিশ্বাস করি যে সংস্কৃতি দেশ ও সম্প্রদায়ের মধ্যে বৃহত্তর বোঝাপড়া তৈরি করতে এবং তাদের মধ্যে ভুল ধারণা দূর করতে একটি অত্যন্ত কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে।  তিনি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে পারস্পরিক মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও ঐতিহাসিক বন্ধনের উপর ভিত্তি করে চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্বালানি, পর্যটন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করেছে। আলোচনা সভার পরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি,  প্রবাসী বাংলাদেশী  ও হাই কমিশন পরিবারের সদস্যদের  অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান  অতিথিদের মুগ্ধ করে। বিশেষত  বাংলাদেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী মেহরিন এর পরিবেশনা অনুষ্ঠানে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দকে ঐতিহ্যবাহী রকমারী বাংলাদেশী খাবার দিয়ে আপ্যায়িত করা হয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে কর্মরত দুজন পেশাদার শেফ কর্তৃক রান্না করা খাবার বিশেষত  'স্মোকড্ ইলিশ ' বিদেশী  অতিথিদের দ্বারা  প্রশংসিত হয়।  অনুষ্ঠান  প্রাঙ্গনে স্থাপিত বাংলাদেশ কর্নার,  রিকশা ,  ফুচকা,  চা ও ঝাল-মুড়ির স্টল এবং পিঠা ঘর উপস্থিত বিদেশী অতিথিবৃন্দের মাঝে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়।  এছাড়া   বাংলাদেশি প্রখ্যাত  কোম্পানি  প্রাণ, মৈত্রী এবং হোপ তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করে এবং ন্যাশনাল ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক রেমিট্যান্স হাউজ বুথ স্থাপনের মাধ্যমে  তাদের সেবা প্রবাসীদের অবহিত করে।  অনুষ্ঠানস্থলে সুসজ্জিত 'বাংলাদেশ কর্নারে'  ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন , রপ্তানিযোগ্য পণ্য ও হস্তশিল্প প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া, মহান মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই -আগস্ট অভ্যুত্থান,  সংস্কৃতি, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয়ক প্রকাশনা কর্নারে স্থান পায় যা অতিথিদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করে। এছাড়া,  ক্রাফট কমপ্লেক্স-কে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির অনেক অনুসঙ্গ দিয়ে সুসজ্জিত করা হয় যা সহজেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং সকলের মাঝে উৎসবের আমেজ তৈরী করে । অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পর্যটন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, বিনিয়োগ এবং দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মালয়েশিয়ার সেক্রেটারি জেনারেল- কে  বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানির ফ্রেম উপহার দেয়া হয়।

এখনো স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে : মেহজাবীন

বিয়ের পরে তারকাজুটি আদনান আল রাজীব-মেহজাবীন চৌধুরীর সময়টা বেশ ভালোই যাচ্ছে। সম্প্রতি প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের পাশে রোমান্টির ফটোশুট করেছেন এ তারকা জুটি। শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, ভালোবেসে একে অপরকে কাছে টেনে নিয়েছেন তারা। এদিকে নেটিজেনরা কমেন্ট বক্সে রাজীব-মেহজাবীনের বেশ প্রশংসা করেছেন। ছবি শেয়ার করে মেহজাবীন ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘এখনও স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে, তবু এটা আমাদেরই। ভালবাসার শহরে যেখানে প্রতিটি রাস্তা ভালোবাসার গল্প বলে। আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি তিনি আমাদের গল্পটা এমনভাবে লিখেছেন।’ তার কথায়, ‘তোমার পাশে শান্ত সকালের জন্য, প্যারিসের ছাদে প্রতিধ্বনিত হাসির জন্য আর সেই বন্ধনের জন্য যা সময়ের সাথে আরও গভীর হয়। তুমি আমার প্রার্থনার উত্তর এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে।’ প্রসঙ্গত, মেহজাবীন চৌধুরী ২০০৯ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার থেকে বিজয়ী হয়ে মিডিয়া জগতে আসেন। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন টিভি বিজ্ঞাপন ও নাটকে নিয়মিত অভিনয় করছেন। মোবাইল ফোন অপারেটর বাংলালিংকের একটি টিভি বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের মাধ্যমে মেহজাবীন পরিচিতি অর্জন করেন। এটিএন বাংলায় প্রচারিত টেলিভিশন নাটক ‘তুমি থাকো সিন্ধু পাড়ে’র মাধ্যমে তার ছোট পর্দায় আত্মপ্রকাশ ঘটে।

ঢাকায় রাশিয়ান হাউসে আন্তর্জাতিক ম্যারাথন ‘ওয়ান রান’-এর উদ্বোধন

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় আন্তর্জাতিক ম্যারাথন ‘ওয়ান রান’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার রাশিয়ান হাউসে বড় পরিসরে দৌড় প্রতিযোগিতা ‘ওয়ান রান’-এর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। “ওয়ান রান” একটি অনন্য ক্রীড়া প্রকল্প যা ২৪ শে মে অনুষ্ঠিত হবে এবং সার্বিয়া, বাহরাইন, আর্মেনিয়া, মিশর, কিরগিজস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, ক্যামেরুন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন এবং অন্যান্য সহ বিশ্বব্যাপী ২৫ টি দেশ থেকে২০০,০০০ এরও বেশি অংশগ্রহণকারীদের একত্রিত করবে। এ বছর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এই ম্যারাথনে অংশ নেবে, যেখানে প্রায় এক হাজার দৌড়বিদ অংশ নিচ্ছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে রাশিয়ান ফেডারেশন দূতাবাসের মিনিস্টার-কাউন্সেলর একাতেরিনা সেমেনোভা, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, সাংবাদিক এবং দৌড়ের ভবিষ্যত অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।