সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
Monday, 31 August, 2026
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানমন্ত্রী ক্রিস রাইট (Chris Wright)-এর মধ্যে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার,

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন আইরিন খান

সব ধরনের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে ২৫ এজেন্সির তালিকা প্রকাশে বায়রা সদস্যদের গভীর উদ্বেগ

রিপ্যাট্রিয়েশন ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ থেকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও সমন্বিত করতে আজ রিপ্যাট্রিয়েশন ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আরডিএমএস) চালু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বোর্ডরুমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এর সভাপতিত্বে জাস্টিস এন্ড কেয়ার, বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রিপ্যাট্রিয়েশন ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RDMS)-এর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্পেশাল ব্রাঞ্চ বাংলাদেশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন, স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিআইজি, এসসিও জাহাঙ্গীর হোসেন ও অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের কাউন্সেলর রুবেন গ্রে (Ruben Grey)। স্বাগত বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান। আরডিএমএস সিস্টেম এর উদ্দেশ্য ও সুবিধা সম্পর্কে আলোকপাত করেন জাস্টিস এন্ড কেয়ার, বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর তারিকুল ইসলাম। সভাপতির বক্তব্যে ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ মানবপাচার প্রতিরোধ ও উদ্ধারকৃতদের পুনরেকত্রীকরণ প্রক্রিয়া বেগবান করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডোমেইনে রেফারাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আরডিএমএস) অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফেরত আসা ব্যক্তি ও সারভাইভারদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণে আরডিএমএস প্ল্যাটফর্মটি ইতোমধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ডাটাবেজের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া শিশুদের নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে এটিকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের পাশাপাশি পাসপোর্ট সেবার সাথে সমন্বিত করার কাজ চলমান রয়েছে। অবৈধ অভিবাসন রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আন্তঃসংস্থার সমন্বিত এ উদ্যোগ সারভাইভারদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশ এর কারিগরি সহায়তায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরডিএমএস তৈরি করেছে। সিস্টেমটির উন্নয়ন ও আপগ্রেডেশনে অস্ট্রেলিয়া সরকার সহায়তা করেছে। এটি একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশে থেকে দেশে ফেরানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও সহজ ও কার্যকর হবে। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তিসহ বিদেশে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় একাধিক সরকারি সংস্থার সম্পৃক্ততা থাকে। এ প্রক্রিয়ায় জাতীয়তা যাচাই, পুলিশ রেকর্ড যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। প্রচলিতভাবে এসব কাজের বড় একটি অংশ কাগজপত্র ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় অনেক সময় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়। অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ আরডিএমএস-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরে। উপস্থাপনায় দেখানো হয়, কীভাবে এই সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত মামলার তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, জাতীয়তা ও পুলিশ রেকর্ড যাচাই আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা এবং তথ্যের নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা ও সহজে অনুসরণযোগ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সিস্টেমটি প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত পাওয়া এবং রিয়েল-টাইমে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরির সুযোগ দেবে। আরডিএমএস-এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি হাইকমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আরও নির্ধারিত ও সমন্বিত পদ্ধতিতে প্রত্যাবাসনের আবেদন করতে পারবে। জাতীয়তা যাচাইয়ের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানও আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও সিস্টেমে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আরডিএমএস চালুর মাধ্যমে তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করা, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে। এই সিস্টেম বিদেশ থেকে দেশে ফেরা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আরও সমন্বিত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। আরডিএমএস উন্নয়ন ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানমন্ত্রী ক্রিস রাইট (Chris Wright)-এর মধ্যে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার,

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন আইরিন খান

সব ধরনের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে ২৫ এজেন্সির তালিকা প্রকাশে বায়রা সদস্যদের গভীর উদ্বেগ

রিপ্যাট্রিয়েশন ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি
অপরাধীদের গ্রেফতারে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নেয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তেজগাঁও থানা আকস্মিক পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিতকরণে কঠোর নির্দেশ
মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক আজ শুক্রবার একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কায় এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। চুক্তিতে
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। আজ সোমবার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ গ্রহণের পর তিনি বাকিংহাম প্যালেস থেকে ১০ নম্বর ডাউনিং
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের সফরে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে পালাম বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। আজ রাতেই তাঁরা এক নৈশভোজে অংশ নেবেন।
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ বৃহস্পতিবার ভারত যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্বের ২৫তম বার্ষিকী উদযাপন করতেই মূলত পুতিনের এ সফর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদনের তথ্য
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফরকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনাসহ ভারত–রাশিয়া সামরিক সহযোগিতায় নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারতের সামরিক সরঞ্জামের বড় অংশ এখনো
দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সূত্রটা কী? এককথায় মাহাথির মোহাম্মদের জবাবটা হলো, শরীর ও মন—দুটিকেই সব সময় কাজের মধ্যে রাখতে হবে। তাহলেই মিলবে দীর্ঘ জীবন। তিনি নিজেও এর ব্যতিক্রম নন। সুস্থতা
বাংলার অজানা ইতিহাস নিয়ে ‘স্বর্গভূমি বাংলা’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠিত
বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির গৌরবময় ও ইতিবাচক দিক তুলে ধরে সাংবাদিক ও গবেষক, রয়াল হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি (ইউকে)-এর অ্যাসোসিয়েট ফেলো মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান-এর নতুন বই ‘স্বর্গভূমি বাংলা’-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠান রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৮টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত দেড় সহস্রাধিক দর্শকের উপস্থিতিতে প্রকাশনা সংস্থা রুটস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্সের পরিচালক প্রফেসর ড. শেখ তৌফিক এম হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খ্যাতিমান প্রত্নতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান। বইয়ের লেখক মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান অনুষ্ঠানে বাংলার গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে একটি আকর্ষণীয় প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. শেখ তৌফিক এম হক বলেন, বাংলার ইতিহাসকে শুধু রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক অবদানকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ‘স্বর্গভূমি বাংলা’ সেই প্রয়োজনীয় আলোচনাকে সমৃদ্ধ করবে এবং পাঠকের সামনে বাংলার ইতিহাসের একটি বিস্তৃত ও ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরবে। সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের মধ্যে যে সমৃদ্ধ অতীতের পরিচয় পাওয়া যায়, তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা জরুরি। প্রচলিত ইতিহাসের বাইরে গিয়ে বাংলার নিজস্ব শক্তি, সৃজনশীলতা ও সভ্যতার অবদানকে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বইটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। লেখক মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান বলেন, প্রায় দুই দশকের গবেষণা ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে তিনি ‘স্বর্গভূমি বাংলা’ রচনা করেছেন। বাংলার মানুষ যুদ্ধ, উপনিবেশ স্থাপন কিংবা লুটপাটের মাধ্যমে নয়; বরং মেধা, শিক্ষা, দক্ষতা, শিল্প, বাণিজ্য, সৃষ্টিশীলতা ও উদার মানবিকতার মাধ্যমে বিশ্বে প্রভাব বিস্তার করেছে—বইটিতে সেই ইতিহাসই তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। ‘স্বর্গভূমি বাংলা’ বই হাজারো বছর ধরে কৃষি, বাণিজ্য, শিল্প, শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলার অবদান এবং বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতা ও অঞ্চলের সঙ্গে বাংলার যোগাযোগ ও প্রভাবের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। গ্রন্থে বলা হয়েছে, প্রাচীন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতাগুলোর সমসাময়িক হিসেবে বাংলা কোনোভাবেই পিছিয়ে ছিল না। পরবর্তী সময়েও বাংলার বাণিজ্য ও উৎপাদন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলায় উৎপাদিত বস্ত্রের জন্য ইউরোপের বাজারে ব্যাপক চাহিদা ছিল; আরব ও আফ্রিকাতেও বাংলার পণ্য ছিল সমাদৃত। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বাংলার বাণিজ্য ও সংস্কৃতির প্রভাব বিস্তৃত ছিল বলে বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে আরও তুলে ধরা হয়েছে, বাংলা তার প্রভাব বিস্তার করেছে উপনিবেশ স্থাপন, যুদ্ধ, রাহাজানি বা লুটপাটের মাধ্যমে নয়; বরং অসাম্প্রদায়িক ও উদার মানবিকতা, মেধা, দক্ষতা, শিক্ষা, শিল্প, বাণিজ্য ও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে। আতিথেয়তা, বদান্যতা ও মানবিকতার জন্যও বাংলার যে স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে উঠেছে, বইয়ে তারও অনুসন্ধান করা হয়েছে। প্রায় দুই দশকের গবেষণা ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে রচিত ‘স্বর্গভূমি বাংলা’ প্রচলিত ধারার ইতিহাসচর্চার বাইরে গিয়ে বাংলার গৌরবময় ও ইতিবাচক ইতিহাসকে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করেছে।
২২ আগস্ট, ২০২৬
 নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে শাকিব খান সেরা অভিনেতা ও বুবলী সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত
নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রথম আসরে থাকছে জায়েদ খানের চমক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুশকিন দিবস ও রুশ ভাষা দিবস উদযাপন

রাশিয়া দিবসে ঢাকায় সাংস্কৃতিক মেলা, প্রদর্শনী ও আন্তর্জাতিক কনসার্টের আয়োজন

রাশিয়া দিবস উপলক্ষে রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যেখানে রাশিয়ান ও বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং রাশিয়ার বন্ধুদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই। তিনি রাশিয়া দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, রাশিয়ান ফেডারেশনের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন জাতির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব জোরদারে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ভূমিকা সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। এরপর বক্তব্য দেন বাংলাদেশে রাশিয়ান ফেডারেশনের দূতাবাসের মিনিস্টার-কাউন্সেলর ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিন । তিনি রাশিয়া ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সাংস্কৃতিক ও মানবিক সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন। অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক পর্বে আধুনিক রাশিয়াকে তুলে ধরে একটি মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা প্রদর্শন করা হয়, যেখানে দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের ইয়েলাবুগা কলেজ অব কালচার অ্যান্ড আর্টস-এর লোকসংগীত ও নৃত্যদল “আলাবুগা”-এর পরিবেশনা। রুশ ও তাতার লোকসংগীত, বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনা এবং নৃত্যের মাধ্যমে তারা রাশিয়ার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করেন। কনসার্টে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীতশিল্পী রাজিল গাব্বাসভ ঐতিহ্যবাহী লোকবাদ্যযন্ত্র পরিবেশন করেন এবং তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের সম্মানিত শিল্পী দিলইয়ারা মিরোভায়েভা বিশেষ সংগীত পরিবেশন করেন। সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণ করে “হ্যাপিনেস” নামের একটি শিশু নৃত্যদল, যার সদস্যরা সোভিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সন্তান। তাদের পরিবেশিত বাংলা ঐতিহ্যবাহী নৃত্য রাশিয়া ও বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দর্শকদের মুগ্ধ করে। বাংলাদেশে বসবাসরত রাশিয়ান স্বদেশী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তারা “গ্লিয়াঝু ভ ওজিওরা সিনিয়ে” গান-কবিতা আবৃত্তি করেন এবং জনপ্রিয় রুশ লোকসংগীত “করোবেইনিকি”-এর সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ অংশ তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রকে উৎসর্গ করা হয়, যেখানে এর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং রাজধানী কাজান সম্পর্কে দর্শকদের পরিচিত করা হয়। কনসার্টের পর অতিথিরা রাশিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক মেলায় অংশগ্রহণ করেন এবং দুটি প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। “মাল্টিকালচারাল রাশিয়া” প্রদর্শনীতে রাশিয়ার বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়, আর “প্রিস্টিন রাশিয়া” প্রদর্শনীতে দেশটির অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বন্যপ্রাণী উপস্থাপন করা হয়। মেলায় মাতরিয়োশকা রঙ করার কর্মশালা, রুশ ধাঁচের ফটোজোন, স্মারক সামগ্রীর প্রদর্শনী, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পানীয় এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। এই উদযাপন বাংলাদেশে রুশ সংস্কৃতির প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায় এবং দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করে।

রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় রুশ ঐতিহ্য আবিষ্কার: মাতরিয়োশকা ডল পেইন্টিং মাস্টার ক্লাস অনুষ্ঠিত

রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় রুশ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় করিয়ে দিতে এক প্রাণবন্ত ও সৃজনশীল মাতরিয়োশকা ডল পেইন্টিং মাস্টার ক্লাসের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় সেরোভ একাডেমী অব ফাইন আর্টসের সহযোগিতায়। সেরোভ একাডেমী অব ফাইন আর্টসের সদস্যসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী এই সৃজনশীল কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা প্যাস্টেল, জলরং ও পোস্টার কালারের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী রুশ মাতরিয়োশকা পুতুল রঙ করার কৌশল শিখেন। পুরো কর্মশালাজুড়ে ছিল প্রাণবন্ত ও অনুপ্রেরণাময় পরিবেশ, যেখানে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশের পাশাপাশি মাতরিয়োশকা পুতলের ইতিহাস, প্রতীকী তাৎপর্য এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারেন। এই ব্যতিক্রমধর্মী মাস্টার ক্লাসটি সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে, যা সৃজনশীল শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

“ফ্রেমস অব মেমোরি” চলচ্চিত্র উৎসবে মুগ্ধ বাংলাদেশের হাজারো শিক্ষার্থী

রাশিয়ান হাউস ইন বাংলাদেশ সফলভাবে সমাপ্ত করেছে তাদের ব্যতিক্রমধর্মী সপ্তাহব্যাপী চলচ্চিত্র প্রদর্শনী “মস্কো থেকে বাংলাদেশ: ফ্রেমস অব মেমোরি” । মহান বিজয় দিবসের ৮১তম বার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে গত ১৪ মে শুরু হওয়া এই বৃহৎ চলচ্চিত্র উৎসব আজ সমাপ্ত হয়েছে। উৎসবটি দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছে। রাজধানী ঢাকার বাইরেও আয়োজন সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎসবটি জাতীয় পরিসরে ব্যাপক সাড়া সৃষ্টি করে। ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউস অডিটোরিয়ামে প্রতিদিনের প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিশেষ বৃহৎ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (CBIU)এবং এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (DIU) এ। দর্শকদের জন্য প্রদর্শিত হয় সোভিয়েত চলচ্চিত্রের কালজয়ী সব সৃষ্টি, যার মধ্যে ছিল “ব্যালাড অব আ সোলজার”, “কাম অ্যান্ড সি”, “ইভানস চাইল্ডহুড”, “দে ফট ফর দেয়ার কান্ট্রি” এবং সমাপনী প্রদর্শনীতে ছিল “দ্য ক্রেইন্স আর ফ্লাইং” । প্রতিটি ভেন্যু প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়, যেখানে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধের গভীর ইতিহাস, চলচ্চিত্র শিল্পের নবতর উদ্ভাবন এবং মানবিক দৃঢ়তা ও শান্তির অভিন্ন মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুনভাবে জানার সুযোগ পায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের অংশীদার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ধারাবাহিক সহযোগিতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টা দুই দেশের সংস্কৃতিকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।