বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
Thursday, 29 October, 2026
শেখ হাসিনা দেশে এলে মবের শিকার হবেন না, ন্যায় বিচার পাবেন: তথ্য উপদেষ্টা
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. জাহেদুর রহমান বলেছেন, পলাতক শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে মবের শিকার হবেন না, সাজা অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হবেন। তিনি ন্যায় বিচার পাবেন। মঙ্গলবার তথ্য অধিদফতরের
Sonali Bank

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী

আরামবাগ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক্স স্টুডেন্ট ফোরামের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই উপহার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ-জাপান ছয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি
টোকিও, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ (বাসস): প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান জাপান সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি দুটি প্রকল্পে প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। স্বাক্ষরিত দলিলগুলোতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কৃষি, কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের বিভিন্ন অর্জনের বিষয়ে উপ প্রেস সচিব শাহাদাত স্বাধীন এ তথ্য জানান। দলিলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদারে একটি টহল জাহাজ সরবরাহের জন্য সর্বোচ্চ ২.১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৩.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) অনুদান চুক্তি রয়েছে। এ ছাড়া, জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়নবিষয়ক একটি সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) স্বাক্ষরিত হয়েছে। জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি (এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-ইএসডিপি) বিষয়েও একটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ ছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সহযোগিতা জোরদারে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি আগ্রহপত্র (লেটার অব ইনটেন্ট-এলওআই) স্বাক্ষরিত হয়েছে। অন্যদিকে, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নবিষয়ক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৫.৮৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১০০.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। এ ছাড়া, উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে ৩০.৬৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৯৪.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। দুটি প্রকল্পে ঋণের মোট পরিমাণ ৪৬.৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন, যা প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। এসব দলিল, সহযোগিতা স্মারক ও ঋণের প্রতিশ্রুতিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরকালে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এর আগে, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে জাপান আগমন করেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল তার সফরসঙ্গী হিসেবে জাপান আসেন।
Sonali Bank
শেখ হাসিনা দেশে এলে মবের শিকার হবেন না, ন্যায় বিচার পাবেন: তথ্য উপদেষ্টা
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. জাহেদুর রহমান বলেছেন, পলাতক শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে মবের শিকার হবেন না, সাজা অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হবেন। তিনি ন্যায় বিচার পাবেন। মঙ্গলবার তথ্য অধিদফতরের

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী

আরামবাগ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক্স স্টুডেন্ট ফোরামের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই উপহার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ

শেখ হাসিনা দেশে এলে মবের শিকার হবেন না, ন্যায় বিচার পাবেন: তথ্য উপদেষ্টা
আরামবাগ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক্স স্টুডেন্ট ফোরামের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই উপহার
কক্সবাজারে রিসোর্টে নিহত ১০ / ‘আমার তিন বোনের পাঁচ–ছেলে মেয়ে মারা গেছে, ওরা ৯ জন বেড়াতে এসেছিল’
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ / দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটি’রনেতা পরিচয়ে ব্যাংকারের জমি দখলের চেষ্টা ও হত্যার হুমকি
আলজেরিয়া হঠাৎ করেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সব কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। আবুধাবির ধারাবাহিক ‘উসকানিমূলক ও বৈরী’ আচরণের কথা উল্লেখ করে গতকাল বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। তবে ঠিক কোন ঘটনার
মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক আজ শুক্রবার একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কায় এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। চুক্তিতে
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। আজ সোমবার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ গ্রহণের পর তিনি বাকিংহাম প্যালেস থেকে ১০ নম্বর ডাউনিং
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের সফরে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে পালাম বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। আজ রাতেই তাঁরা এক নৈশভোজে অংশ নেবেন।
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ বৃহস্পতিবার ভারত যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্বের ২৫তম বার্ষিকী উদযাপন করতেই মূলত পুতিনের এ সফর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদনের তথ্য
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফরকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনাসহ ভারত–রাশিয়া সামরিক সহযোগিতায় নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারতের সামরিক সরঞ্জামের বড় অংশ এখনো
ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার পেলেন মাহমুদা চৌধুরী ও মেজবাউর রহমান সুমন
চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার ২০২৬ পেয়েছেন মাহমুদা চৌধুরী। চলচ্চিত্র পরিচালনায় অবদানের জন্য একই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন প্রবর্তিত এই পুরস্কার আজ চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেকা ফেরদৌসী। স্বাগত বক্তব্য দেন সাংবাদিক আবদুর রহমান। এ সময় প্রয়াত ফজলুল হকের জীবন ও কর্ম নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন চলচ্চিত্র পরিচালক মতিন রহমান, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান, অভিনেত্রী ও নির্মাতা আফসানা মিমি, পরিচালক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আনন্দ আলো সম্পাদক রেজানুর রহমান, বাচসাসের সাবেক সভাপতি রাজু আলীম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের চেয়ারম্যান সাইয়িদ শাহজাদা আল কারিমসহ অনেকে। বক্তারা বলেন, ফজলুল হক ছিলেন স্বপ্নদ্রষ্টা একজন মানুষ। দেশ ও চলচ্চিত্রের উন্নয়নে নতুন নতুন ভাবনা নিয়ে কাজ করতেন তিনি। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করেই দেশের চলচ্চিত্র পরিচালনা ও সাংবাদিকতা এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেন তাঁরা। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগে ফজলুল হক বৃত্তি চালু করা হয়। একই বিভাগে ফজলুল হককে নিয়ে আয়োজিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী শুভ সেনকে ক্রেস্ট ও অর্থমূল্য দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। উল্লেখ্য, দেশের প্রথম চলচ্চিত্রবিষয়ক পত্রিকা ‘সিনেমা’র সম্পাদক এবং বাংলাদেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘সান অব পাকিস্তান’ (প্রেসিডেন্ট)-এর নির্মাতা প্রয়াত ফজলুল হকের স্মরণে গত ২৩ বছর ধরে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
২৬ অক্টোবর, ২০২৬
ঢাকায় রুশ চিত্রশিল্পী মিখাইল ভ্রুবেলের ১৭০তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন
আয়োজনে সোভিয়েত অ্যালুমনাই অ্যাসোসিয়েশন / ঢাকায় বাংলাদেশ-রাশিয়া সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন
বাংলার অজানা ইতিহাস নিয়ে ‘স্বর্গভূমি বাংলা’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠিত

 নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে শাকিব খান সেরা অভিনেতা ও বুবলী সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত

প্রথমবারের মতো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সোমবার শেষ হলো চারদিনের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ‘নিউইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’। জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে আয়োজিত এই উৎসবটি প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকসহ স্থানীয় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক উন্মাদনা ও সাড়া ফেলে। প্রিয়জন ফিল্মস ও লেমন স্টুডিওর যৌথ উদ্যোগে এবং আমেরিকান বাংলাদেশি প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। এছাড়া পুরো আয়োজনের অন্যতম প্রধান স্পন্সর ছিল ‘অল কাউন্টি হোম কেয়ার’। অলিভ আহমেদ, লিটু আনাম, পিকলু চৌধুরী ও তানভীর সানির অক্লান্ত প্রচেষ্টায় আয়োজিত এই প্রথম আসরটি আমেরিকায় প্রবাসী দর্শকদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে। উৎসবের প্রথম তিন দিনে বাংলাদেশ ও উত্তর আমেরিকার নির্মাতাদের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, তথ্যচিত্র এবং পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। প্রবাসী দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করেছে যে ভিনদেশে থেকেও দেশের সিনেমার প্রতি তাদের ভালোবাসা আজও অটুট। সমাপনী অনুষ্ঠানে ছিল বর্ণাঢ্য রেড কার্পেট, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং পুরস্কার বিতরণী পর্ব। এই আয়োজনে অংশ নেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক জায়েদ খান, কাজী মারুফ, ইমন, সজল, চিত্রনায়িকা বিন্দু এবং জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রতিক হাসান। প্রিয় তারকাদের সামনাসামনি দেখতে পেরে উচ্ছ্বসিত ছিলেন প্রবাসীরা। এবারের উৎসবে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের সেরা চলচ্চিত্র, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের বিভিন্ন বিভাগে সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রিয়তমা সিনেমায় অসামান্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শাকিব খান ও সেরা চলচ্চিত্র প্রিয়তমা। দেয়ালের দেশ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন‍্য সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন শবনম বুবলী এবং ১৯৭১ সেই সব দিন নির্মাণের জন‍্য সেরা পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন হৃদি হক। এছাড়া আরো যাঁরা পুরস্কৃত হয়েছেন তাঁরা হলেন সেরা পার্শ অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী (তুফান), সেরা পার্শ অভিনেত্রী সানজিদা প্রীতি (১৯৭১ সেইসব দিন), শ্রেষ্ঠ ওয়েব ফিল্ম কাছের মানুষ দূরে থুইয়া ও পরিচালক শিহাব শাহীন, সেরা অভিনেতা (ওয়েব ফিল্ম) মামুনুন ইমন (মায়া), সেরা অভিনেত্রী (ওয়েব ফিল্ম) আফসান আরা বিন্দু (উণিশ ২০), শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী কাজী আরিশা (গ্রীন কার্ড) ও নৈঋতা হাসিন রৌদ্রময়ী (জংলী), শ্রেষ্ঠ গায়ক বালাম (প্রিয়তমা- ও প্রিয়তমা) ও প্রীতম হাসান (লাগে উড়া ধুরা- তুফান), শ্রেষ্ঠ গায়িকা অবন্তি সিঁথি (সুড়ঙ্গ- গা ছুঁয়ে বলো), শ্রেষ্ঠ কহিনিকার ড. ইনামুল হক (১৯৭১  সেই সব দিন), শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার, নাজিম উদ দৌলা ও রাহয়ান রাফী (সুড়ঙ্গ), শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক সুমন সরকার (সুড়ঙ্গ) ও সাহেল রনি (দেয়ালের দেশ), শ্রেষ্ঠ সম্পাদক সিমিত রায় অন্তর (সুড়ঙ্গ), কামরুজ্জামান রনি (১৯৭১- সেই সব দিন), শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক রিপন নাথ (তুফান), শ্রেষ্ঠ গীতিকার আসিফ ইকবাল (মেঘের নৌকা- প্রহেলিকা) ও সোমেশ্বর অলি (ঈশ্বর- প্রিয়তমা), শ্রেষ্ঠ সুরকার প্রিন্স মাহমুদ (ঈশ্বর- প্রিয়তমা), শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক ইমন সাহা (প্রহেলিকা) শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র লস্ট (Lost) ও শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র Songs for a Country (একটি দেশের জন্য গান)। বাংলা চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কিংবদন্তি অভিনেতা আহমেদ শরীফ-কে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া বাংলা চলচ্চিত্রের বিকাশে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করে বায়োস্কোপ ফিল্মস, স্টার সিনেপ্লেক্স এবং জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘চরকি’। আয়োজকদের মতে, এই উৎসবের মূল লক্ষ্য কেবল চলচ্চিত্র প্রদর্শন নয়; বরং প্রবাসী নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি শক্ত সেতুবন্ধন তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলা সিনেমার অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করা। প্রথম আসরের অভাবনীয় সাফল্যের পর দর্শক, নির্মাতা ও শিল্পীদের প্রত্যাশা—আগামী বছর আরও বড় পরিসরে এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই উৎসব বাংলা চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রথম আসরে থাকছে জায়েদ খানের চমক

প্রবাসে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম বড় আয়োজন নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবার দর্শকদের জন্য নিয়ে আসছে বিশেষ চমক। সেই চমকের নাম জনপ্রিয় চিত্রনায়ক জায়েদ খান। শিল্পী সমিতি তথা বাংলা চলচ্চিত্রের মধ‍্যমনি জায়েদ খান। তাকে ছাড়া যেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই উৎসব যেন অসম্পূর্ণ। তাইতো আয়োজকরা জায়েদ খানের জন্য রেখেছেন একটি বিশেষ চমক। জায়েদ খানের সাথে এক যুগ পর পর মঞ্চ মাতাবেন ইতিহাস সিনেমার নায়ক কাজী মারুফ। আরো থাকবেন চিত্রনায়ক ইমন, চিত্রনায়ক সজল, চিত্রনায়িকা বিন্দু ও জনপ্রিয় গায়ক প্রতিক হাসান। আগামী ২ আগস্ট জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিতব্য এই আয়োজনে জায়েদ খানের অংশ নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রবাসী বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ফেস্টিভ্যালে দেশ-বিদেশের নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, চলচ্চিত্রপ্রেমী এবং সংস্কৃতিকর্মীদের মিলনমেলা বসবে। চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি থাকবে শিল্পীদের সঙ্গে মতবিনিময়, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিশেষ সম্মাননা প্রদানসহ নানা আয়োজন। মূল আয়োজনের পূর্বে  ৩দিন ব্যাপী চলচ্চিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রদর্শনীতে প্রথমদিন ৩০ জুলাই প্রদর্শিত হবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বিলাই’, তথ‍্যচিত্র ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ ও পূর্ণদৈর্ঘ‍্য চলচ্চিত্র সোহেল রানা বয়াতির ‘নয়া মানুষ’। দ্বিতীয়দিন ৩১ জুলাই প্রদর্শিত হবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ইশপাইট’ ও ‘The Eternal Journey’ এবং পূর্ণদৈর্ঘ‍্য চলচ্চিত্র মিশুক মনির ‘দেয়ালের দেশ’। তৃতীয়দিন ১ আগস্ট প্রদর্শিত হবে জায়েদ খানের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আমেরিকান ড্রিম’ ও ‘ঈদ মোবারক’ এবং পূর্ণদৈর্ঘ‍্য চলচ্চিত্র, রাইসুল ইসলাম অনিকের ‘বিশ্বাস করেন ভাই’ ও প্রসূন রহমানের ‘শিকড়’। আর ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে মূল আয়োজন। এতে অংশগ্রহণ করতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চলচ্চিত্র তারকারা নিউ ইয়র্কে পাড়ি জমিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের এটি প্রথম আসর হওয়ায় বিগত ৩ বছরের (২০২৩-২০২৫) সেরা চলচ্চিত্র, সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী, সেরা পরিচালক, গায়ক-গায়িকা ও কলাকুশলীদের মধ্যে মোট ২০টি ক্যাটাগরিতে সেরাদের পুরস্কৃত করা হবে। বাংলা চলচ্চিত্রের বিশ্বায়নে বিশেষ অবদানের জন্য বায়োস্কোপ ফিল্মসকে এবং বাংলাদেশে সিনেমা হলের আধুনিকায়ন ও দর্শকদের আবার প্রেক্ষাগৃহমুখী করতে, আধুনিক প্রদর্শনব্যবস্থা চালু করতে এবং দেশীয় চলচ্চিত্রের বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় স্টার সিনেপ্লেক্সকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে। সেরা ওটিটি প্লাটফর্ম হিসেবে চরকি পাচ্ছে বিশেষ সম্মাননা। এবং বাংলা চলচ্চিত্রের বরেণ্য ও কিংবদন্তি অভিনেতা আহমেদ শরীফকে আজীবন সম্মাননা (Lifetime Achievement Award) প্রদান করতে যাচ্ছে নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অসামান্য অবদান, শক্তিশালী অভিনয়শৈলী এবং চলচ্চিত্র শিল্পে অনন্য ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই এ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। প্রিয় অভিনেতাকে কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি তাঁর অভিনয়জীবনের নানা অভিজ্ঞতা শোনার সুযোগ পাবেন দর্শকরা। নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আয়োজকরা জানিয়েছেন, চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, তারকাদের উপস্থিতি এবং সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এবারের উৎসব আরও বর্ণাঢ্য হয়ে উঠবে। সেই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন জায়েদ খান। আয়োজকদের মতে, বাংলা চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও পরিচিত করে তুলতে এবং প্রবাসী নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দেশের চলচ্চিত্রের সেতুবন্ধন গড়ে তুলতেই এই উৎসবের আয়োজন। আর সেই আয়োজনে জায়েদ খানের অংশগ্রহণ উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি ফেস্টিভ্যালে থাকছে নির্মাতা, শিল্পী ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে নানা আয়োজন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবারের উৎসব প্রবাসে বাংলা চলচ্চিত্রের প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দর্শকদের জন্য হয়ে উঠবে এক স্মরণীয় চলচ্চিত্র উৎসব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুশকিন দিবস ও রুশ ভাষা দিবস উদযাপন

রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান রুশ কবি আলেকজান্ডার পুশকিনের ২২৭তম জন্মবার্ষিকী এবং রুশ ভাষা দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত পুশকিনের আবক্ষ ভাস্কর্যের পাশে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিসহ রুশ সংস্কৃতির অনুরাগীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে আলেকজান্ডার পুশকিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশে রাশিয়ান ফেডারেশনের দূতাবাসের প্রথম সচিব আনাস্তাসিয়া নেমোভা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজেস (আইএমএল)-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবসার কামাল। বক্তারা পুশকিনের সাহিত্যকর্মের চিরন্তন গুরুত্ব, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে রুশ ভাষার ভূমিকা এবং রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার দৃঢ় সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলা ভাষায় বক্তব্য প্রদানকালে আনাস্তাসিয়া নেমোভা রাশিয়া ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল রুশ ভাষা কোর্সের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ। তারা রুশ ভাষায় পুশকিনের কবিতা আবৃত্তি করেন এবং তার রচনার বাংলা অনুবাদ উপস্থাপন করেন। তাদের পরিবেশনা রুশ ভাষায় দক্ষতা ও রুশ সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায়। রুশ ভাষা কোর্সের শিক্ষকবৃন্দও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান করেন। এই আয়োজন বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে রুশ ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহকে তুলে ধরে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে।