সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬
Monday, 08 June, 2026
জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘের আবেই অঞ্চলের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনী (ইউএনআইএসএফএ)-তে দায়িত্ব পালনকালে নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়েছে। আজ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পরের ধাপে নিতে চায় তুরস্ক

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন শুরু ৮ জুন

তোফায়েল আহমেদ আর নেই

বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে হালাল পণ্যের বড় সম্ভাবনা
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে গতানুগতিক বাণিজ্যের বাইরে হালাল পণ্যের বড় সম্ভাবনা দেখছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত মিস. লিসতিওয়াতি (H.E Ms. Listyowati)। সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ও ইন্দোনেশিয়ার উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এ কথা বলেন। মিস. লিসতিওয়াতি বলেন, গতানুগতিক বাণিজ্যের বাইরে বিভিন্ন হালান পণ্য যেমন প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফ্যাশন সামগ্রী, ফার্মাসিউটিক্যালস, চিকিৎসা সরঞ্জাম, স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং উদীয়মান খাতসমূহে দুই দেশের ব্যাপক বাণিজ্য সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ৮-১২ জুলাই ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬”। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ পণ্য নিয়ে উক্ত প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছি বাংলাদেশ থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের বাণিজ্য প্রতিনিধি দল হালাল এক্সপোতে অংশগ্রহণ করবে। এ বিষয়ে ঢাকাস্থ ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাস সব ধরনের সহযোগিতা করবে।     ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত জানান, হালাল পণ্য বলতে শুধু হালাল মাংস বা হালাল খাদ্যকে বুঝায় না, হালাল পণ্যের তালিকায় রয়েছে পোশাক, কসমেটিকস, ঔষধ, স্বাস্থ্যসেবা, মেডিকেল সরঞ্জাম, হালাল অর্থায়ন, পর্যটন প্রভৃতি। তিনি আরও জানান, আসন্ন ডি-৮ হালাল এক্সপো কেবল একটি সাধারণ প্রদর্শনী নয়। এটি ডি-৮ ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে হালাল ইকো-সিস্টেমকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অংশীদারত্ব গড়ে তোলার এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম। সভায় “ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬” -এর উপরে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল কমিটি ফর ইসলামিক ইকোনমি অ্যান্ড ফাইন্যান্স (KNEKS)-এর ডিরেক্টর জেনারেল পুতু রাহউইধিয়াসা (Mr. Putu Rahwidhiyasa)। তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া কেবল হালাল পণ্য রপ্তানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ‘হালাল ভ্যালু চেইন’ উন্নয়নে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া এই হালাল ভ্যালু চেইনকে কাজে লাগিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণ করতে পারে। প্রতিবেদনে তিনি জানান, ওআইসি (OIC) ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়া শীর্ষ ১০টি রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। এই তালিকায় দেশটির সামনে রয়েছে কেবল তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। গ্লোবাল হালাল ইকোনমি ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইনডেক্স (Halal Economy Trade & Investment Index) -এর সূচকে ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে বিশ্বের মধ্যে ৬ষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে। এই সূচকে দেশটির হালাল খাদ্য খাতের বর্তমান র‍্যাংকিং চতুর্থ। এছাড়া ফ্যাশন ও পোশাক খাতেও ষষ্ঠ স্থান অর্জন করে নিজেদের বৈচিত্র্যময় হালাল বাজারের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে দেশটি। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, হালাল অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের মধ্যে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে হালাল খাদ্য। ২০২৩ সালে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোতে এই খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১,২৩৯.৫ বিলিয়ন বা প্রায় ১.২৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার সম্ভাব্য বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ৬.২ শতাংশ। দ্বিতীয় বৃহত্তম অবস্থানে থাকা হালাল পোশাক খাতে মুসলিম গ্রাহকদের ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ২৭৭.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এর বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৬.৮ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইবিসিসিআই) -এর সভাপতি এবং এফবিসিসিআই-এর সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াদ আলী বলেন, ডি-৮ ভুক্ত দেশগুলো কীভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবনে ও বাণিজ্যে হালাল পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করছে, তা দেখার একটি বড় সুযোগ ডি-৮ হালাল এক্সপো। পাশাপাশি, আমাদের দেশে হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ রয়েছে। এর আগে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মোঃ আলমগীর। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে অত্যন্ত চমৎকার ও সুদৃঢ় একটি বাণিজ্য সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। যদিও সেই বাণিজ্যে বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে আছে। তিনি মনে করেন, ডি-৮ হালাল এক্সপোর মতো বৃহৎ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের এই বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব আরও বহুমুখী হবে এবং হালাল বাণিজ্যের নতুন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে। এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মোঃ আলমগীর ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন- বাংলাদেশ থেকে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল যেন ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬ এ অংশগ্রহণ করে সে বিষয়ে এফবিসিসিআই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে। সভায় এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক ও বারভিডা’র সভাপতি আব্দুল হক, এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী (খোকন), এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল হাশেম আবুল হাশেম, বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, এফবিসিসিআই’র সাধারণ পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়, বিএসটিআই, বিডা, ইপিবি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘের আবেই অঞ্চলের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনী (ইউএনআইএসএফএ)-তে দায়িত্ব পালনকালে নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়েছে। আজ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পরের ধাপে নিতে চায় তুরস্ক

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন শুরু ৮ জুন

তোফায়েল আহমেদ আর নেই

নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন শুরু ৮ জুন
তোফায়েল আহমেদ আর নেই
গ্রেপ্তার থাকা সাংবাদিকদের কারো কারো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় আছে: জাহেদ উর রহমান
৫ দফা দাবিতে বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের সফরে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে পালাম বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। আজ রাতেই তাঁরা এক নৈশভোজে অংশ নেবেন।
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ বৃহস্পতিবার ভারত যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্বের ২৫তম বার্ষিকী উদযাপন করতেই মূলত পুতিনের এ সফর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদনের তথ্য
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফরকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনাসহ ভারত–রাশিয়া সামরিক সহযোগিতায় নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারতের সামরিক সরঞ্জামের বড় অংশ এখনো
দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সূত্রটা কী? এককথায় মাহাথির মোহাম্মদের জবাবটা হলো, শরীর ও মন—দুটিকেই সব সময় কাজের মধ্যে রাখতে হবে। তাহলেই মিলবে দীর্ঘ জীবন। তিনি নিজেও এর ব্যতিক্রম নন। সুস্থতা
আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় আগামী বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ইয়াওয়েরি মুসোভেনি। এর মধ্য দিয়ে মুসোভেরি দেশটিতে তাঁর প্রায় চার দশকের শাসনামল
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও ইরান একটি 'সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক' যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, আগামী
রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় রুশ ঐতিহ্য আবিষ্কার: মাতরিয়োশকা ডল পেইন্টিং মাস্টার ক্লাস অনুষ্ঠিত
রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় রুশ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় করিয়ে দিতে এক প্রাণবন্ত ও সৃজনশীল মাতরিয়োশকা ডল পেইন্টিং মাস্টার ক্লাসের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় সেরোভ একাডেমী অব ফাইন আর্টসের সহযোগিতায়। সেরোভ একাডেমী অব ফাইন আর্টসের সদস্যসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী এই সৃজনশীল কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা প্যাস্টেল, জলরং ও পোস্টার কালারের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী রুশ মাতরিয়োশকা পুতুল রঙ করার কৌশল শিখেন। পুরো কর্মশালাজুড়ে ছিল প্রাণবন্ত ও অনুপ্রেরণাময় পরিবেশ, যেখানে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশের পাশাপাশি মাতরিয়োশকা পুতলের ইতিহাস, প্রতীকী তাৎপর্য এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারেন। এই ব্যতিক্রমধর্মী মাস্টার ক্লাসটি সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে, যা সৃজনশীল শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
২২ মে, ২০২৬
“ফ্রেমস অব মেমোরি” চলচ্চিত্র উৎসবে মুগ্ধ বাংলাদেশের হাজারো শিক্ষার্থী
ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাশিয়ান হাউসের আয়োজনে ঢাকায় চলচ্চিত্র উৎসব শুরু
সেরোভ একাডেমি অব ফাইন আর্টস-এর আয়োজনে দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য “বৈশাখী শিশু উৎসব ২০২৬”

আর. পি. সাহা ইউনিভার্সিটি (আরপিএসইউ) তে চীন-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বের ৩০ বছরপূর্তি উপলক্ষে চলচ্চিত্র উৎসব

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা চীন-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বের ৩০ বছরপূর্তি উপলক্ষে একটি চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন করেছে, যার প্রথম দিনের আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় আর. পি. সাহা ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে। অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন, যা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া জোরদারের লক্ষ্যে এক প্রাণবন্ত সূচনা হিসেবে চিহ্নিত হয়। উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য প্রদান করেন অধ্যাপক ড. মণীন্দ্র কুমার রায়, উপাচার্য, আরপিএসইউ, আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই, পরিচালক, রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা, এবং লি শাওপেং, সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর, গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের দূতাবাস। মিস খ্লেভনয় তার বক্তব্যে রাশিয়া-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্বের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং গত ৩০ বছরের উন্নয়ন, পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক, বিশেষত জ্বালানি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রেও আলোকপাত করেন। মি. লি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিশেষ বক্তব্য প্রদান করেন, যেখানে তিনি সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং জনগণ-জনগণের সংযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। উদ্বোধনী পর্ব শেষে প্রদর্শিত হয় “রেড সিল্ক” একটি রাশিয়ান চলচ্চিত্র যা সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ তুলে ধরে, এবং “আই অ্যাম হোয়াট আই অ্যাম” একটি চীনা অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র যা অধ্যবসায় ও আত্মপরিচয়ের গল্প তুলে ধরে। এই উৎসব বিভিন্ন দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এসএএবি ও রাশিয়ান হাউস আয়োজন করল পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে সোভিয়েত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ  (এসএএবি) এবং রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা-এর যৌথ উদ্যোগে রাশিয়ান হাউস প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৭ এপ্রিল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুরুতে প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যেখানে সোভিয়েত ও রাশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন একটি বর্ণিল সমাবেশে। অতিথিরা দেশীয় ও রাশিয়ান বিভিন্ন ধরনের পিঠা আস্বাদন করেন, যা দুই দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটায় এবং একটি উষ্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে। মূল অনুষ্ঠানটি রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা-এর অডিটোরিয়ামে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার মাধ্যমে শুরু হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা-এর পরিচালক মিসেস আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই, এসএএবি -এর সাধারণ সম্পাদক স্থপতি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, এসএএবি -এর সভাপতি অধ্যাপক (ড.) মিজানুর রহমান এবং ও সহ-সভাপতি ডা. হামিদা মাইদার। আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানান এবং বলেন যে এই আয়োজনটি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষকে একীভূত করেছে। তিনি বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে এটিকে আশা ও ঐতিহ্যের সময় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বাংলাদেশের নারীদের সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, সোভিয়েত ও রাশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের উপস্থিতি দুই দেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। রাশিয়ান শিক্ষা শুধু পেশাগত দক্ষতা প্রদান করে না, বরং শিক্ষার্থীদের রাশিয়ার সংস্কৃতি ও ভাষার সঙ্গে যুক্ত করে। তিনি শিক্ষাগত সহযোগিতার মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং অ্যালামনাইদের অর্জন ও রাশিয়ান হাউসের সঙ্গে তাদের অবিচ্ছিন্ন সম্পর্কের জন্য গর্ব প্রকাশ করেন। আগামী বছরের জন্য সবার সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি। আলোচনা শেষে রাশিয়ান ও বাংলাদেশি সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অ্যালামনাই সদস্য ও তাদের সন্তানরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থিত সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়। এই আয়োজন বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে, যা শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক মানুষে-মানুষে সংযোগের মাধ্যমে আরও গভীর হচ্ছে।

ঢাকায় রাশিয়ান হাউসে গ্যাগারিন সায়েন্স ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ উদ্বোধন

ঢাকায় রাশিয়ান হাউসে ইউরি গ্যাগারিন সায়েন্স ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ উদ্বোধন করা হয়েছে। মানব ইতিহাসের প্রথম মহাকাশযাত্রার ৬৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।  ঐতিহাসিক প্রথম মহাকাশ যাত্রাটি সম্পন্ন করেন ইউরি গ্যাগারিন। উদ্বোধনী বক্তব্যে মিস আলেকজান্দ্রা খ্লেভনয় উপস্থিত সম্মানিত অতিথিদের স্বাগত জানান এবং ১২ এপ্রিল ১৯৬১ সালে গাগারিনের ঐতিহাসিক মহাকাশযাত্রার বৈশ্বিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই যাত্রা মহাকাশ যুগের সূচনা করে এবং মানব অর্জনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গাগারিনের উত্তরাধিকার আজও তরুণ প্রজন্মকে কৌতূহল, সাহস ও বৈজ্ঞানিক উদ্দীপনায় অনুপ্রাণিত করে। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন—যার মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প এবং রাশিয়া ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৬,০০০-এর বেশি বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটের অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে আগ্রহী হতে, নতুন দিগন্ত অন্বেষণে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করেন এবং বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনসহ সকল অংশগ্রহণকারী ও অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি তরুণদের রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার মাধ্যমে রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ অন্বেষণের আহ্বান জানান। এই উৎসবটি বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় যৌথভাবে আয়োজিত হয়েছে এবং এক সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক কৌতূহল, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা বিকাশের লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। উদ্বোধনী দিনে “ইউরি গাগারিন – মহাকাশে প্রথম মানব” শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং বিজ্ঞানীদের ভাস্কর্য প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এছাড়াও VII আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব “Tsiolkovsky” থেকে নির্বাচিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়, যার মধ্যে ছিল প্রামাণ্যচিত্র “Gagarin. Embracing the World” এবং অ্যানিমেটেড সিরিজ “The Flying Story” । এদিন আলবার্ট আইনস্টাইন-এর ওপর আরিফ আসগরের উপস্থাপনায় একটি বিজ্ঞান বিষয়ক সেমিনার এবং স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জনাব মশিউর আমিন Yuri Gagarin-এর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাকে “বিশ্ব নায়ক” এবং মানব সাহস ও অনুসন্ধানের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয় এবং টেলিস্কোপের মাধ্যমে আকাশ পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম সমাপ্ত হয়। উল্লেখ্য, ইউরি গাগারিন আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং বিজ্ঞানীদের ভাস্কর্য প্রদর্শনী ১০ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।