ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার / বাংলাদেশ–ভারতের সম্পর্কের অগ্রগতি ধরে রাখতে শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া জরুরি
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়ে। তিনি বলেছেন, এই অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া জরুরি।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পাওয়ান বঢ়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধিতে যৌথ উদ্যোগ ফলপ্রসূ হয়েছে।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় গ্যালারি কায়াতে একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সমসাময়িক শিল্পচর্চায় নতুন মাত্রা যুক্ত করতে শিল্পী রনজিৎ দাসের ৬৫টি ছবি নিয়ে শুরু হয়েছে এই একক শিল্প প্রদর্শনী।
ভারপ্রাপ্ত এই হাইকমিশনার বলেন, পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমেই দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। দুই দেশের জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়লে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার প্রশংসা করে পাওয়ান বঢ়ে বলেন, এই অগ্রগতিতে ভারত বাংলাদেশের পাশে থাকতে চায়। উভয় দেশের যৌথ উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার বলেন, সে জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
দুই দেশের সম্পর্ক কেবল ভৌগোলিক অবস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলে মনে করিয়ে দেন পাওয়ান বঢ়ে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মানুষের আন্তসম্পর্ক এই বন্ধনকে আরও গভীর করেছে। এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, যোগাযোগ এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপারে উভয় দেশ কাজ করছে।
ঘণ্টা বাজিয়ে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু ও ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়ে। ২ মে ছবি: প্রথম আলো
প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু। বক্তব্যে তিনি বলেন, এই আয়োজন কেবল শিল্পকর্ম প্রদর্শনের জন্য নয়, বরং শিল্পী ও দর্শকের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং দেশের শিল্পচর্চাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ তিনি।
শিল্পী রনজিৎ দাসের শিল্পকর্ম প্রসঙ্গে গ্যালারি কায়ার পরিচালক শিল্পী গৌতম চক্রবর্তী বলেন, এটি একটি স্বতন্ত্র অঙ্কনধারা, যেখানে সরল রেখা ও ফাঁকা স্থানকে কাজে লাগিয়ে গভীর অনুভূতি প্রকাশ করা হয়। কখনো একটি তুলির আঁচড়ই বিশাল শূন্যতাকে অর্থবহ করে তোলে। শিল্পী সম্পর্কে তিনি বলেন, সমকালীন বাংলাদেশের শিল্পভুবনে তিনি একটি শক্তিশালী উপস্থিতি।
প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন দর্শকেরা। ২ মে ছবি: প্রথম আলো
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পী রনজিৎ দাস বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ এবং পাহাড়-প্রকৃতির সংস্পর্শ তাঁর কাজকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এই অভিজ্ঞতাগুলোই তাঁর শিল্পে প্রতিফলিত হচ্ছে।
‘কাঠি ড্রয়িংস অ্যান্ড আদার্স’ শীর্ষক এই প্রদর্শনী প্রতিদিন বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হয়ে চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত। প্রদর্শনীতে জলরং, মিশ্রমাধ্যম, কালি ও চারকোলে আঁকা এসব ছবির পাশাপাশি ২৯টি কাজ নিয়ে শিল্পীর স্বাক্ষরসহ সীমিত সংখ্যক পোর্টফলিও প্রকাশ করা হয়েছে।