রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Sunday, 13 September, 2026
বরিশালে সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
বরিশালে কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার ব্যুরো প্রধানদের সংগঠন ন্যাশনাল ডেইলিজ ব্যুরো চিফ অ্যাসোসিয়েশন- এনডিবিএ'র সভাপতি ও দৈনিক সমকাল পত্রিকার বরিশালের সাবেক ব্যুরো প্রধান, সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি আর নেই। শুক্রবার
Sonali Bank

আইন পেশায় সততা ও ন্যায়বিচারের আদর্শ ধারণের আহ্বান

ঢাকায় বাংলাদেশ-রাশিয়া সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া

ডিআরইউ দেশের গণতন্ত্র অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে: রিজভী

নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন / যৌথ ঘোষণাপত্রে একমত ব্রিকস
উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই যৌথ ঘোষণাপত্রের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন জোটের নেতারা। নয়াদিল্লিতে গতকাল শনিবার দুই দিনের এ শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে। জোটের বৈশ্বিক প্রভাব বৃদ্ধি করাই এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে। এমন এক সময়ে এ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইরান যুদ্ধ ছয় মাস পেরিয়েও সমঝোতার কোনো আভাস নেই। এ যুদ্ধ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত জটিল আকার ধারণ করেছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর অঞ্চলে তাদের অবস্থান সংহত করেছে। ব্রিকস জোটের দুই সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) সরাসরি এ সংঘাতের শিকার। ব্রিকসের সদস্যরা ওই দুই দেশের মতপার্থক্য কমিয়ে আনতেও কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জোটের সদস্যদেশগুলোর নেতারা একটি যৌথ ঘোষণাপত্রের বিষয়ে একমত হয়েছেন। যদিও ঘোষণাপত্রে সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে একপক্ষীয় যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানানো হবে। গতকালই জোটের নেতারা ঘোষণাপত্রের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। আগামী বছর ব্রিকস সম্মেলন চীনে অনুষ্ঠিত হবে বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। ঘোষণাপত্রের বিষয়ে জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও দিল্লির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই জোটের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল, মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে এমন একটি কূটনৈতিক ভাষা চূড়ান্ত করা, যা আবুধাবি ও তেহরান—উভয় পক্ষই মেনে নিতে পারে, যাতে যৌথ ঘোষণাপত্রের পথ সুগম হয়। সেখানে তারা সফল হয়েছে। এর আগে গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরান ও আমিরাতের মতভেদের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, গতকাল একমত হওয়া যৌথ ঘোষণাপত্র বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খুব বড় পরিবর্তন না আনলেও পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো নীতির বিরুদ্ধে উদীয়মান দেশগুলোর এই জোটের ঐক্য প্রদর্শন করবে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্য ব্রিকস জোট আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন ও নীতিনির্ধারণে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টার করছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। জোটের অনেক সদস্যের মতে, এই সংস্থাগুলোতে পশ্চিমা শক্তির প্রভাব রয়েছে। সম্মেলনে অংশ নেওয়া শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিল রামাফোসা, আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ অনেকে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা ভারত বর্তমানে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাধা দূরীকরণ ও ব্যবসার সুযোগ প্রসারের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের প্রভাব ঘিরে ইরান ও আমিরাতের দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতা করা ব্রিকসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ে আমিরাত গত আগস্টে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিয়ে ব্রিকস জোট গঠিত। যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের একক আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করতে ২০০৯ সালে ব্রিকস গঠিত হয়েছিল। বর্তমানে বিশ্ব জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই জোটের অন্তর্ভুক্ত। সম্পর্ক জোরদারে সম্মত রাশিয়া–ভারত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত শুক্রবার বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছেন। পুতিন বলেছেন, পশ্চিমা নিয়মকানুন থেকে মুক্ত বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য ব্রিকস জোটের একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা উচিত। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগের দিন ভারতের রাজধানীতে বৈঠকে বসেন মোদি ও পুতিন। পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ জানিয়েছেন, ব্রিকস এখন ভূরাজনৈতিক জোট থেকে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপান্তরিত হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি সংস্থা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সহযোগিতা সহজ করা। পাশাপাশি পেমেন্ট সিস্টেম ও যৌথ অবকাঠামোর উন্নতি করা। দিল্লিতে শুক্রবার ব্রিকস বিজনেস ফোরামের এক অনুষ্ঠানে পুতিন বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, আজ পশ্চিমা প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাদের আগের নেতৃত্ব পুনরুদ্ধারের জন্য যেকোনো পথ অবলম্বন করছে। পেজেশকিয়ান, মোদি ও রামাফোসার উপস্থিতিতে পুতিন বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতা কখনো কখনো কুরুচিকর রূপ নিচ্ছে। এমনকি এর মধ্যে সরাসরি শারীরিক আক্রমণ বা শিল্প ও লজিস্টিক সুবিধা, পাইপলাইন ইত্যাদির ধ্বংসসাধনও করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিবহন করিডর বন্ধ করা এবং জাহাজ জব্দের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যাঁরা অন্যদের স্বার্থে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তথাকথিত নিষেধাজ্ঞার কথা বলে অবৈধ বিধিনিষেধও আরোপ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ব্রিকস ‘বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি নতুন ও টেকসই প্ল্যাটফর্ম’ গড়ে তুলবে। গত বছর ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসন্তোষের কারণ হয়েছিল। তিনি ব্রিকস জোটের ‘আমেরিকাবিরোধী নীতি’র সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা যেকোনো দেশের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। ভারত, চীনের মতো বড় ক্রেতাসহ রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা অব্যাহত রাখা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিল ওয়াশিংটন। এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মোদি ও পুতিন পশ্চিম এশিয়া এবং কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের সংঘাতের বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন, যা সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুই দেশের মধ্যকার বিশেষ ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও জোরদার করার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত থাকতে দুই নেতা একমত হয়েছেন।
Sonali Bank
বরিশালে সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
বরিশালে কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার ব্যুরো প্রধানদের সংগঠন ন্যাশনাল ডেইলিজ ব্যুরো চিফ অ্যাসোসিয়েশন- এনডিবিএ'র সভাপতি ও দৈনিক সমকাল পত্রিকার বরিশালের সাবেক ব্যুরো প্রধান, সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি আর নেই। শুক্রবার

আইন পেশায় সততা ও ন্যায়বিচারের আদর্শ ধারণের আহ্বান

ঢাকায় বাংলাদেশ-রাশিয়া সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া

ডিআরইউ দেশের গণতন্ত্র অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে: রিজভী

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে অর্ধশতাধিক নবীন আইনজীবীকে সংবর্ধনা / আইন পেশায় সততা ও ন্যায়বিচারের আদর্শ ধারণের আহ্বান
জাকজমকপূর্ণভাবে ডিআরইউ’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন / ডিআরইউ দেশের গণতন্ত্র অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে: রিজভী
রোবটের হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে আফিয়া হুমায়রা
সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই এ দেশের সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আলজেরিয়া হঠাৎ করেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সব কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। আবুধাবির ধারাবাহিক ‘উসকানিমূলক ও বৈরী’ আচরণের কথা উল্লেখ করে গতকাল বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। তবে ঠিক কোন ঘটনার
মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক আজ শুক্রবার একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কায় এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। চুক্তিতে
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। আজ সোমবার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ গ্রহণের পর তিনি বাকিংহাম প্যালেস থেকে ১০ নম্বর ডাউনিং
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের সফরে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে পালাম বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। আজ রাতেই তাঁরা এক নৈশভোজে অংশ নেবেন।
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ বৃহস্পতিবার ভারত যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্বের ২৫তম বার্ষিকী উদযাপন করতেই মূলত পুতিনের এ সফর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদনের তথ্য
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফরকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনাসহ ভারত–রাশিয়া সামরিক সহযোগিতায় নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারতের সামরিক সরঞ্জামের বড় অংশ এখনো
আয়োজনে সোভিয়েত অ্যালুমনাই অ্যাসোসিয়েশন / ঢাকায় বাংলাদেশ-রাশিয়া সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন
সোভিয়েত অ্যালুমনাই অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এসএএবি)-এর উদ্যোগে ঢাকার রাশিয়ান হাউসে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। এতে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটস (সি আই এস) অঞ্চলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটরা অংশ নেন। তাঁদের শিক্ষাগত ঐতিহ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক ও মানবিক সংযোগ উদযাপনই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। কবিতা, সঙ্গীত ও নৃত্যে সমৃদ্ধ এই সন্ধ্যায় বাংলাদেশি ও রাশিয়ান সংস্কৃতির এক সুন্দর মেলবন্ধন ঘটে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী প্রজন্মের মাধ্যমে গড়ে ওঠা দুই দেশের দীর্ঘদিনের মানুষে-মানুষে সম্পর্কেরও প্রতিফলন ঘটে অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত সাবেক শিক্ষার্থীদের ঢাকা ও মস্কোর মধ্যকার “বন্ধুত্বের অনন্য ও জীবন্ত সেতু” হিসেবে অভিহিত করেন। বাংলাদেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক, শিল্প ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতেও তাঁদের ভূমিকার কথা তিনি তুলে ধরেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা ) জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি, দেশের উন্নয়নে এসএএবি-এর অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক সোভিয়েত, রাশিয়ান ও সিআইএস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনকারী বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নেতৃত্ব প্রকৌশল, চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষি, বিজ্ঞান, জনশাসন ও শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ঢাকার রাশিয়ান হাউসের পরিচালক সত্তর ও আশির দশকের সেই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাহস ও প্রত্যয়ের কথা স্মরণ করেন, যারা উচ্চশিক্ষার জন্য সুদূর সোভিয়েত ইউনিয়নে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে তাঁদের কর্মজীবনের সাফল্য সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ায় অর্জিত উচ্চশিক্ষার মানের একটি উজ্জ্বল প্রমাণ। তিনি তাঁদের দুই দেশের মধ্যকার “মৈত্রী ও সংস্কৃতির দূত” হিসেবে উল্লেখ করেন। বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পর্বে আলেকজান্ডার পুশকিনের বিশ্বখ্যাত কবিতা “আই লাভড ইউ” (Я вас любил) আবৃত্তি, ভরতনাট্যম ও মণিপুরী নৃত্য, মনোমুগ্ধকর বাংলা গান এবং এসএএবি -এর সদস্য ও প্রখ্যাত শিল্পী তিমির নন্দীর কণ্ঠে কালজয়ী রাশিয়ান গান “মস্কো নাইটস” (Подмосковные вечера)-এর বিশেষ পরিবেশনা ছিল। আমন্ত্রিত শিল্পী ও অতিথিদের সম্মিলিত পরিবেশনায় “আমরা করব জয়” (We Shall Overcome) গানটির মধ্য দিয়ে মূল সাংস্কৃতিক পর্বের সমাপ্তি ঘটে। পরে প্রীতি নৈশভোজ ও দলগত ছবি তোলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষাগত, সাংস্কৃতিক ও মানুষে-মানুষে সম্পর্কের এই স্মরণীয় সন্ধ্যা শেষ হয়।
২০ ঘণ্টা আগে
বাংলার অজানা ইতিহাস নিয়ে ‘স্বর্গভূমি বাংলা’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠিত
 নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে শাকিব খান সেরা অভিনেতা ও বুবলী সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত
নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রথম আসরে থাকছে জায়েদ খানের চমক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুশকিন দিবস ও রুশ ভাষা দিবস উদযাপন

রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান রুশ কবি আলেকজান্ডার পুশকিনের ২২৭তম জন্মবার্ষিকী এবং রুশ ভাষা দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত পুশকিনের আবক্ষ ভাস্কর্যের পাশে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিসহ রুশ সংস্কৃতির অনুরাগীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে আলেকজান্ডার পুশকিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশে রাশিয়ান ফেডারেশনের দূতাবাসের প্রথম সচিব আনাস্তাসিয়া নেমোভা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজেস (আইএমএল)-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবসার কামাল। বক্তারা পুশকিনের সাহিত্যকর্মের চিরন্তন গুরুত্ব, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে রুশ ভাষার ভূমিকা এবং রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার দৃঢ় সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলা ভাষায় বক্তব্য প্রদানকালে আনাস্তাসিয়া নেমোভা রাশিয়া ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল রুশ ভাষা কোর্সের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ। তারা রুশ ভাষায় পুশকিনের কবিতা আবৃত্তি করেন এবং তার রচনার বাংলা অনুবাদ উপস্থাপন করেন। তাদের পরিবেশনা রুশ ভাষায় দক্ষতা ও রুশ সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায়। রুশ ভাষা কোর্সের শিক্ষকবৃন্দও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান করেন। এই আয়োজন বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে রুশ ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহকে তুলে ধরে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে।

রাশিয়া দিবসে ঢাকায় সাংস্কৃতিক মেলা, প্রদর্শনী ও আন্তর্জাতিক কনসার্টের আয়োজন

রাশিয়া দিবস উপলক্ষে রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যেখানে রাশিয়ান ও বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং রাশিয়ার বন্ধুদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই। তিনি রাশিয়া দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, রাশিয়ান ফেডারেশনের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন জাতির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব জোরদারে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ভূমিকা সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। এরপর বক্তব্য দেন বাংলাদেশে রাশিয়ান ফেডারেশনের দূতাবাসের মিনিস্টার-কাউন্সেলর ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিন । তিনি রাশিয়া ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সাংস্কৃতিক ও মানবিক সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন। অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক পর্বে আধুনিক রাশিয়াকে তুলে ধরে একটি মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা প্রদর্শন করা হয়, যেখানে দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের ইয়েলাবুগা কলেজ অব কালচার অ্যান্ড আর্টস-এর লোকসংগীত ও নৃত্যদল “আলাবুগা”-এর পরিবেশনা। রুশ ও তাতার লোকসংগীত, বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনা এবং নৃত্যের মাধ্যমে তারা রাশিয়ার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করেন। কনসার্টে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীতশিল্পী রাজিল গাব্বাসভ ঐতিহ্যবাহী লোকবাদ্যযন্ত্র পরিবেশন করেন এবং তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের সম্মানিত শিল্পী দিলইয়ারা মিরোভায়েভা বিশেষ সংগীত পরিবেশন করেন। সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণ করে “হ্যাপিনেস” নামের একটি শিশু নৃত্যদল, যার সদস্যরা সোভিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সন্তান। তাদের পরিবেশিত বাংলা ঐতিহ্যবাহী নৃত্য রাশিয়া ও বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দর্শকদের মুগ্ধ করে। বাংলাদেশে বসবাসরত রাশিয়ান স্বদেশী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তারা “গ্লিয়াঝু ভ ওজিওরা সিনিয়ে” গান-কবিতা আবৃত্তি করেন এবং জনপ্রিয় রুশ লোকসংগীত “করোবেইনিকি”-এর সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ অংশ তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রকে উৎসর্গ করা হয়, যেখানে এর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং রাজধানী কাজান সম্পর্কে দর্শকদের পরিচিত করা হয়। কনসার্টের পর অতিথিরা রাশিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক মেলায় অংশগ্রহণ করেন এবং দুটি প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। “মাল্টিকালচারাল রাশিয়া” প্রদর্শনীতে রাশিয়ার বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়, আর “প্রিস্টিন রাশিয়া” প্রদর্শনীতে দেশটির অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বন্যপ্রাণী উপস্থাপন করা হয়। মেলায় মাতরিয়োশকা রঙ করার কর্মশালা, রুশ ধাঁচের ফটোজোন, স্মারক সামগ্রীর প্রদর্শনী, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পানীয় এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। এই উদযাপন বাংলাদেশে রুশ সংস্কৃতির প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায় এবং দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করে।

রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় রুশ ঐতিহ্য আবিষ্কার: মাতরিয়োশকা ডল পেইন্টিং মাস্টার ক্লাস অনুষ্ঠিত

রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় রুশ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় করিয়ে দিতে এক প্রাণবন্ত ও সৃজনশীল মাতরিয়োশকা ডল পেইন্টিং মাস্টার ক্লাসের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় সেরোভ একাডেমী অব ফাইন আর্টসের সহযোগিতায়। সেরোভ একাডেমী অব ফাইন আর্টসের সদস্যসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী এই সৃজনশীল কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা প্যাস্টেল, জলরং ও পোস্টার কালারের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী রুশ মাতরিয়োশকা পুতুল রঙ করার কৌশল শিখেন। পুরো কর্মশালাজুড়ে ছিল প্রাণবন্ত ও অনুপ্রেরণাময় পরিবেশ, যেখানে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশের পাশাপাশি মাতরিয়োশকা পুতলের ইতিহাস, প্রতীকী তাৎপর্য এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারেন। এই ব্যতিক্রমধর্মী মাস্টার ক্লাসটি সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে, যা সৃজনশীল শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।