শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬
Saturday, 07 November, 2026
আর কেউ যেন এই দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ (বাসস): প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার হরণ করে বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই হোক এবারের ৭
Sonali Bank

ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী

আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাপান সফরের পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী

দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

৭ নভেম্বর: যে বিপ্লব বদলে দিয়েছিল বাংলাদেশের ইতিহাস
জি এম রাজিব হোসেন  ৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে রচিত হয় এক নতুন অধ্যায়। জন্ম হয় এক নতুন বাংলাদেশের। অনেকে এটাকে ইতিহাসের বাঁক হিসেবেও মনে করেন। আবার অনেকে একে রাষ্ট্রের স্বাধীন অস্তিত্ব, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সংহতির প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে ৫১ বছর আগে এই দিনটিতে বাংলাদেশের মধ্যমণিতে পরিণত হন তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের এক অকুতোভয় বীর যোদ্ধা, সেক্টর কমান্ডার, জেড ফোর্সের প্রধান ও স্বাধীনতার মহান ঘোষক।  ৭ই নভেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে উজ্জ্বলতম দিন। চেতনায় ভাস্বর অনন্য এ দিনটি বাংলাদেশে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’- হিসেবে পালিত হয়। মূলত ৭ই নভেম্বরে দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির গতিপথ নির্ধারিত হয়। সামরিক বাহিনীর মধ্যে চলা অস্থিরতার অবসান ঘটে। প্রতিষ্ঠিত হয় চেইন অব কমান্ড। তবে স্থিতিশীলতার এই পর্যায়ে উপনীত হতে বাংলাদেশকে একটা অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সামরিক বাহিনীর মধ্যে ঘটে অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান। এ সুযোগে গজিয়ে ওঠা দেশি-বিদেশি চক্রান্তও মোকাবিলা করতে হয় বাংলাদেশকে।  ইতিহাসবিদদের মতে, ৭৫ সালের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও হৃদয়বিদারক ধারাবাহিক ঘটনার চূড়ান্ত পর্যায় হলো ৭ই নভেম্বর। এর আগে ওই বছরের ১৫ই আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন সে সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান। নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা গুম, খুন, আওয়ামী লীগ দলীয় নেতা-কর্মীদের সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অনাচার, লুটপাট রোধে ব্যর্থতা এবং গণতন্ত্র হত্যা করে একদলীয় দুঃশাসন কায়েমের অভিযোগে এ অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন সামরিক বাহিনীর কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা মেজর।  আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো- সামরিক বাহিনীর একটি অংশের অভ্যুত্থানে শেখ মুজিব নিহত হওয়ার পর তারই বাকশাল সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন। তার সঙ্গে যোগ দেন সদ্য বিগত সরকারের ২৩ জন মন্ত্রীর মধ্যে ২১ জন। এছাড়া তার সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল সফিউল্লাহ, নৌবাহিনী প্রধান রিয়াল এডমিরাল এমএইচ খান, বিমানবাহিনী প্রধান একে খোন্দকার, বিডিআর প্রধান খলিলুর রহমান। রক্ষীবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর প্রধানরাও নতুন সরকারের প্রতি আনুগত্য দেখান।  এদিকে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের সার্বক্ষণিক সহোচর হন অভ্যুত্থানকারী সামরিক কর্মকর্তারা। তারা রাষ্ট্রপতিকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিতে থাকেন। এ নিয়ে সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসারদের মধ্যে সুপ্ত ক্ষোভ ছিল। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২৪শে আগস্ট মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান নতুন সেনাপ্রধান হন। জেনারেল (অব.) ওসমানীকে রাষ্ট্রপতির প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বানানো হয়। এছাড়া তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের জন্য বাহিনী প্রধানদের ওপর ‘চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ’- নামে একটি পদ তৈরি করা হয়। এ পদে নিয়োগ পান বিডিআর’র মহাপরিচালক খলিলুর রহমান। বাহিনী প্রধানদের চাপে রাখতেই রাষ্ট্রপতি মোশ্তাক সুচতুরভাবে এ কাজটি করেছিলেন। এর পাশাপাশি বঙ্গভবনে থাকা ১৫ই আগস্টে অভ্যুত্থানকারী মেজর ফারুক, রশীদের ক্ষমতা প্রদর্শনতো ছিলই। সবকিছু মিলিয়ে দেশে একটা অস্থিতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সবখানেই একটা গুমোট পরিস্থিতি। এ প্রেক্ষাপটেই এলো নভেম্বর মাস। এ মাসের অনুঘটক ছিলেন তিনজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ এবং সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল তাহের। এর মধ্যে দেশের মানুষ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের কাছে জিয়াউর রহমান ছিলেন অধিক জনপ্রিয়। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের ওপর  পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বর্বর হামলার প্রেক্ষাপটে দেশবাসীকে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দিতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তে চট্টগ্রামে নিজ সামরিক ইউনিট নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন জিয়াউর রহমান। এছাড়া চট্টগ্রামে অস্থায়ী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি দেশবাসীর প্রাণভোমরায় পরিণত হন। জেনারেল জিয়া সেনাপ্রধান হওয়ার পর খালেদ মোশাররফ সেনাবাহিনীতে নিজের অবস্থান নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন বলে আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) মইনুল হোসেন চৌধুরী তার ‘এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য’- গ্রন্থে উল্লেখ করেন। এ সময় প্রতিনিয়ত নানা গুজবের ডালপালা ছড়াতে থাকে। দেশের মানুষ এক ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। সেনানিবাসেও অস্থিরতা বিরাজ করছিল। দেশ প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। এ প্রেক্ষাপটে ২রা নভেম্বর রাতে ঢাকার ৪৬ ব্রিগেডের কমান্ডার কর্নেল শাফায়েত জামিলকে সঙ্গে নিয়ে সেনানিবাসে অভ্যুত্থান ঘটান সিজিএস খালেদ মোশাররফ। প্রথমে ২৮শে অক্টোবর অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করা হয়। পরে তারিখ বদলানো হয়। ভবিষ্যৎ অন্ধকার মনে করে খালেদ মোশাররফ জিয়াউর রহমানকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল। ২রা নভেম্বর রাতেই সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে সস্ত্রীক গৃহবন্দি করা হয় এবং জোরপূর্বক সেনাবাহিনীর পদ থেকে তার ইস্তফা আদায় করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছুই চলছিল। ৩রা নভেম্বর ভোরে খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানের সমর্থনে ঢাকার আকাশে যুদ্ধবিমান মহড়া দেয়।  জেনারেল ওসমানীর মধ্যস্থতায় খালেদ মোশাররফের সঙ্গে আপসরফার ভিত্তিতে ১৫ই আগস্ট অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত রশিদ, ফারুক, ডালিমসহ ১৫ জনকে বিমানে ব্যাংকক যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তারা ঢাকা থেকে বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ব্যাংকক চলে যান বলে লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ ‘জাসদের উত্থান পতন: অস্থির সময়ের রাজনীতি’- গ্রন্থে উল্লেখ করেন। ৩রা নভেম্বর আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। ইতিহাসে যা জেলহত্যা নামে পরিচিত। খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতি পওয়ার পর আওয়ামী লীগের চার নেতা তাজউদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী ও কামরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তারা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। খালেদ মোশাররফের গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে নভেম্বরের ৩ তারিখ রাতেই ওই চার নেতাকে রাষ্ট্রপতি মোশতাক আহমেদ , মেজর রশিদ-ফারুকের নির্দেশে জেলের ভেতরেই নৃশংসভাবে ১ম বেঙ্গল ল্যান্সারের ট্যাংক রেজিমেন্টের কয়েকজন সৈনিক হত্যা করেন বলেন মইনুল হোসেন বীরবিক্রম তার গ্রন্থে উল্লেখ করেন।  ৪রা নভেম্বর নুতন সেনাপ্রধান হন খালেদ মোশাররফ। তিনি ভারতপন্থি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এদিন ছাত্রলীগের উদ্যোগে একটি মিছিল হয়। এতে খালেদ মোশাররফের ভাই আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ মোশাররফ ও তার মা অংশ নেন। এতে সেনাবহিনীর একটি বড় অংশ ও দেশের মানুষ অনেকে মনে করেন আওয়ামী লীগ ও ভারতপন্থিদের পক্ষে অভ্যুত্থান হয়েছে। ৪ঠা নভেম্বর রাতেই খন্দকার মোশতাক পদত্যাগ করেন এবং তাকে ওইদিনই গৃহবন্দি করা হয়। ৬ই নভেম্বর প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।  আগেই বলেছি- সেনাবাহিনীতে জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা ছিল অসীম। তাই তাকে গৃহ অন্তরীণ করে খালেদ মোশাররফের সেনাপ্রধান হওয়া অনেককেই ক্ষুব্ধ করেছিল। তাদেরই একটি অংশ ৬ই নভেম্বর মধ্যরাতে পাল্টা অভ্যুত্থান করলো। তাদের সঙ্গে যোগ দেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল তাহেরের অনুগত ‘বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার’ সদস্যরা। বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা ছিল সৈনিকদের একটি গুপ্ত সংগঠন। এর সদস্যরা মূলত মুক্তিযুদ্ধের সময় নবম সেক্টরের অধিনায়ক মেজর জলিলের অনুগত। রাজনৈতিক দল জাসদে যোগ দেয়ার পর জলিল মূলত কর্নেল তাহেরকে সেনাসদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্ব দেন। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছিল। তাহের এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রচলিত সেনাবাহিনীর পরিবর্তে গণচীনের আদলে একটি বিপ্লবী গণবাহিনী গড়ে তোলার প্রয়াস চালান। জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তায় ভর করে তাহের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্নে মূলত ৭ই নভেম্বরে আবির্ভূত হন। তিনি জিয়াউর রহমানকে তুরুপের তাস হিসেবে খেলতে চেয়েছিলেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাসদের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সদস্যরা সামরিক বাহিনীর মধ্যে লিফলেট ছড়িয়ে সাধারণ সিপাহিদের উত্তেজিত করে তোলে। এমনকি সামরিক বাহিনীকে কর্মকর্তাশূন্য করার মত ভ্রান্ত প্রচারণাও তারা চালাতে থাকে। তাদের কয়েকটি শ্লোগান ছিল এ রকম, “সিপাহী সিপাহী ভাই ভাই, অফিসারদের রক্ত চাই”, “সিপাহী সিপাহী ভাই ভাই, সুবেদারের ওপরে অফিসার নাই”। তাহের সম্ভবত জিয়ার জনপ্রিয়তা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। জেনারেল জিয়ার প্রতি অনুগত সৈন্যদল ও ২য় ফিল্ড আর্টিলারির সেনা-কর্মকর্তা ও জওয়ানরা লে. কর্নেল (অব.) তাহেরের রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা আগে থেকে আঁচ করতে পেরে পৃথকভাবে একটি আগাম পরিকল্পনা প্রণয়ন করে ফেলেন অতি গোপনে। সেই অনুযায়ী ৬ নভেম্বর দিবাগত রাত অর্থাৎ ৭ নভেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিটে অর্থাৎ জাসদের অভুথান শুরু হবার ১ ঘন্টা আগেই ২য় ফিল্ড আর্টিলারীর জওয়ানরা মেজর মহিউদ্দিন এবং সুবেদার মেজর আনিসুল হকের নেতৃত্বে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাসায় গিয়ে তাকে মুক্ত করেন এবং কাঁধে করে তাকে ২য় ফিল্ড আর্টিলারীর হেড কোয়াটারে নিয়ে আসেন। এর কিছুক্ষণই পরই তাহের সেখানে হাজির হন। তিনি জিয়াকে সেনানিবাসের বাইরে বের করে নিয়ে যেতে চাচ্ছিলেন। তবে তিনি ব্যর্থ হন। তাহেরের কথামতো জিয়াউর রহমান সেদিন আর রেডিও সেন্টারে যাননি। তাহেরের উদ্দেশ্য ছিল জিয়াউর রহমানকে দিয়ে সমাজতান্ত্রিক ধাঁচে রাষ্ট্র কাঠামোর ঘোষণা দেয়া। এরই অংশ হিসেবে তাহেরের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সদস্যরা বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে নির্বিচারে হত্যাও করে। তবে জিয়াউর রহমান তাহেরের সঙ্গে সেনানিবাসের বাইরে না গিয়ে বরং সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগী হন।  ৭ই নভেম্বর অভ্যুত্থানের কোনো পূর্ব পরিকল্পনা ছিল না। এমনকি অভ্যুত্থানের পূর্ব-নির্ধারিত কোনো নেতাও ছিল না। মূলত জনপ্রিয় সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করে ক্ষমতা দখলে খালেদ মোশাররফের অভিপ্রায়ই তাৎক্ষণিক সিপাহী বিপ্লবের’ সূত্রপাত ঘটায়। সেনাবাহিনীর মধ্যকার অস্থিরতাও এ বিপ্লবের অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। এরই মধ্যে তাহের জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দিত্ব থেকে উদ্ধারের নামে তার দল জাসদের রাজনৈতিক দর্শন বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের অলীক স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিভোর ছিলেন। কিন্তু খালেদ মোশাররফ ও তাহের কেউ সফল হননি। মেধা, বিচক্ষণতা ও জনপ্রিয়তায় জিয়াউর রহমান তাদের দুইজনকেই টপকে যান। ঘটনার শেষান্তে তাই জিয়াউর রহমান নায়কের ভূমিকায় আবির্ভূত হন এবং সবকিছুই তার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রয়োজনের মুহূর্তে জীবন বাজি রেখে হলেও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। যেটা তিনি একবার ৭১ সালের ২৬শে মার্চ করে দেখিয়েছিলেন। তার স্বাধীনতার ঘোষণায় সেদিন হতবিহবল জাতি সম্বিত ফিরে পেয়েছিল। তিনি ছিলেন অমিত সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অন্যতম। আবার তিনি সুশৃঙ্খল আইন অনুগত সৈনিকও বটে। এসব গুণ জিয়াউর রহমানকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়। তিনি সাধারণ মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীকে পরিণত হন। জিয়াউর রহমানের সমর্থনে তাই ৭ই নভেম্বর সামরিক বাহিনীর জওয়ান ও আপামর জনসাধারণ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে তিনি হয়ে ওঠেন সিপাহী-জনতার বিপ্লবের অনুপ্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু। ৭ নভেম্বর তাই কেবল অতীতের কোনো অভ্যুত্থান কিংবা ক্ষমতার পালাবদলের দিন নয়; এটি ছিল এক চরম অনিশ্চয়তা, বিভক্তি ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে বিপর্যস্ত রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীকে স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনার এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ধারাবাহিক অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান, হত্যাকাণ্ড এবং সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিভাজনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সামরিক শৃঙ্খলা যখন গভীর সংকটের মুখে, তখন ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা করে। জিয়াউর রহমানের মুক্তি, তাঁর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ও সংহতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা পরবর্তী বাংলাদেশের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। শুধু সামরিক বাহিনী নয়, প্রশাসন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামগ্রিক সমাজজীবনেও স্বাভাবিকতা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে দিনটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য গভীর। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জিয়াউর রহমানের পরিচিতি, সেনাবাহিনীতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং সংকটকালে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা তাঁকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা, সামরিক শৃঙ্খলা, জাতীয় সংহতি ও রাজনৈতিক বিকাশের ইতিহাসে ৭ নভেম্বরের প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কারণ, সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ কেবল ক্ষমতার কেন্দ্র বদলায়নি; সংকটাপন্ন একটি রাষ্ট্রকে নতুন করে দাঁড়ানোর পথও তৈরি করেছিল। তাই ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু একটি স্মরণীয় তারিখ নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে এক তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহাসিক অধ্যায়। আর এ অধ্যায়ের মূল নায়ক জেনারেল জিয়াউর রহমান।  লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রধান প্রতিবেদক।
Sonali Bank
আর কেউ যেন এই দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ (বাসস): প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার হরণ করে বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই হোক এবারের ৭

ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী

আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাপান সফরের পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী

দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

৭ নভেম্বর: যে বিপ্লব বদলে দিয়েছিল বাংলাদেশের ইতিহাস
আর কেউ যেন এই দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী
ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী
আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আলজেরিয়া হঠাৎ করেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সব কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। আবুধাবির ধারাবাহিক ‘উসকানিমূলক ও বৈরী’ আচরণের কথা উল্লেখ করে গতকাল বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। তবে ঠিক কোন ঘটনার
মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক আজ শুক্রবার একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কায় এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। চুক্তিতে
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। আজ সোমবার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ গ্রহণের পর তিনি বাকিংহাম প্যালেস থেকে ১০ নম্বর ডাউনিং
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের সফরে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে পালাম বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। আজ রাতেই তাঁরা এক নৈশভোজে অংশ নেবেন।
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ বৃহস্পতিবার ভারত যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্বের ২৫তম বার্ষিকী উদযাপন করতেই মূলত পুতিনের এ সফর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদনের তথ্য
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফরকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনাসহ ভারত–রাশিয়া সামরিক সহযোগিতায় নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারতের সামরিক সরঞ্জামের বড় অংশ এখনো
ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার পেলেন মাহমুদা চৌধুরী ও মেজবাউর রহমান সুমন
চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার ২০২৬ পেয়েছেন মাহমুদা চৌধুরী। চলচ্চিত্র পরিচালনায় অবদানের জন্য একই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন প্রবর্তিত এই পুরস্কার আজ চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেকা ফেরদৌসী। স্বাগত বক্তব্য দেন সাংবাদিক আবদুর রহমান। এ সময় প্রয়াত ফজলুল হকের জীবন ও কর্ম নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন চলচ্চিত্র পরিচালক মতিন রহমান, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান, অভিনেত্রী ও নির্মাতা আফসানা মিমি, পরিচালক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আনন্দ আলো সম্পাদক রেজানুর রহমান, বাচসাসের সাবেক সভাপতি রাজু আলীম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের চেয়ারম্যান সাইয়িদ শাহজাদা আল কারিমসহ অনেকে। বক্তারা বলেন, ফজলুল হক ছিলেন স্বপ্নদ্রষ্টা একজন মানুষ। দেশ ও চলচ্চিত্রের উন্নয়নে নতুন নতুন ভাবনা নিয়ে কাজ করতেন তিনি। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করেই দেশের চলচ্চিত্র পরিচালনা ও সাংবাদিকতা এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেন তাঁরা। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগে ফজলুল হক বৃত্তি চালু করা হয়। একই বিভাগে ফজলুল হককে নিয়ে আয়োজিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী শুভ সেনকে ক্রেস্ট ও অর্থমূল্য দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। উল্লেখ্য, দেশের প্রথম চলচ্চিত্রবিষয়ক পত্রিকা ‘সিনেমা’র সম্পাদক এবং বাংলাদেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘সান অব পাকিস্তান’ (প্রেসিডেন্ট)-এর নির্মাতা প্রয়াত ফজলুল হকের স্মরণে গত ২৩ বছর ধরে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
২৬ অক্টোবর, ২০২৬
ঢাকায় রুশ চিত্রশিল্পী মিখাইল ভ্রুবেলের ১৭০তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন
আয়োজনে সোভিয়েত অ্যালুমনাই অ্যাসোসিয়েশন / ঢাকায় বাংলাদেশ-রাশিয়া সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন
বাংলার অজানা ইতিহাস নিয়ে ‘স্বর্গভূমি বাংলা’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠিত

 নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে শাকিব খান সেরা অভিনেতা ও বুবলী সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত

প্রথমবারের মতো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সোমবার শেষ হলো চারদিনের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ‘নিউইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’। জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে আয়োজিত এই উৎসবটি প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকসহ স্থানীয় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক উন্মাদনা ও সাড়া ফেলে। প্রিয়জন ফিল্মস ও লেমন স্টুডিওর যৌথ উদ্যোগে এবং আমেরিকান বাংলাদেশি প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। এছাড়া পুরো আয়োজনের অন্যতম প্রধান স্পন্সর ছিল ‘অল কাউন্টি হোম কেয়ার’। অলিভ আহমেদ, লিটু আনাম, পিকলু চৌধুরী ও তানভীর সানির অক্লান্ত প্রচেষ্টায় আয়োজিত এই প্রথম আসরটি আমেরিকায় প্রবাসী দর্শকদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে। উৎসবের প্রথম তিন দিনে বাংলাদেশ ও উত্তর আমেরিকার নির্মাতাদের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, তথ্যচিত্র এবং পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। প্রবাসী দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করেছে যে ভিনদেশে থেকেও দেশের সিনেমার প্রতি তাদের ভালোবাসা আজও অটুট। সমাপনী অনুষ্ঠানে ছিল বর্ণাঢ্য রেড কার্পেট, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং পুরস্কার বিতরণী পর্ব। এই আয়োজনে অংশ নেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক জায়েদ খান, কাজী মারুফ, ইমন, সজল, চিত্রনায়িকা বিন্দু এবং জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রতিক হাসান। প্রিয় তারকাদের সামনাসামনি দেখতে পেরে উচ্ছ্বসিত ছিলেন প্রবাসীরা। এবারের উৎসবে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের সেরা চলচ্চিত্র, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের বিভিন্ন বিভাগে সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রিয়তমা সিনেমায় অসামান্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শাকিব খান ও সেরা চলচ্চিত্র প্রিয়তমা। দেয়ালের দেশ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন‍্য সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন শবনম বুবলী এবং ১৯৭১ সেই সব দিন নির্মাণের জন‍্য সেরা পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন হৃদি হক। এছাড়া আরো যাঁরা পুরস্কৃত হয়েছেন তাঁরা হলেন সেরা পার্শ অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী (তুফান), সেরা পার্শ অভিনেত্রী সানজিদা প্রীতি (১৯৭১ সেইসব দিন), শ্রেষ্ঠ ওয়েব ফিল্ম কাছের মানুষ দূরে থুইয়া ও পরিচালক শিহাব শাহীন, সেরা অভিনেতা (ওয়েব ফিল্ম) মামুনুন ইমন (মায়া), সেরা অভিনেত্রী (ওয়েব ফিল্ম) আফসান আরা বিন্দু (উণিশ ২০), শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী কাজী আরিশা (গ্রীন কার্ড) ও নৈঋতা হাসিন রৌদ্রময়ী (জংলী), শ্রেষ্ঠ গায়ক বালাম (প্রিয়তমা- ও প্রিয়তমা) ও প্রীতম হাসান (লাগে উড়া ধুরা- তুফান), শ্রেষ্ঠ গায়িকা অবন্তি সিঁথি (সুড়ঙ্গ- গা ছুঁয়ে বলো), শ্রেষ্ঠ কহিনিকার ড. ইনামুল হক (১৯৭১  সেই সব দিন), শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার, নাজিম উদ দৌলা ও রাহয়ান রাফী (সুড়ঙ্গ), শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক সুমন সরকার (সুড়ঙ্গ) ও সাহেল রনি (দেয়ালের দেশ), শ্রেষ্ঠ সম্পাদক সিমিত রায় অন্তর (সুড়ঙ্গ), কামরুজ্জামান রনি (১৯৭১- সেই সব দিন), শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক রিপন নাথ (তুফান), শ্রেষ্ঠ গীতিকার আসিফ ইকবাল (মেঘের নৌকা- প্রহেলিকা) ও সোমেশ্বর অলি (ঈশ্বর- প্রিয়তমা), শ্রেষ্ঠ সুরকার প্রিন্স মাহমুদ (ঈশ্বর- প্রিয়তমা), শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক ইমন সাহা (প্রহেলিকা) শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র লস্ট (Lost) ও শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র Songs for a Country (একটি দেশের জন্য গান)। বাংলা চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কিংবদন্তি অভিনেতা আহমেদ শরীফ-কে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া বাংলা চলচ্চিত্রের বিকাশে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করে বায়োস্কোপ ফিল্মস, স্টার সিনেপ্লেক্স এবং জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘চরকি’। আয়োজকদের মতে, এই উৎসবের মূল লক্ষ্য কেবল চলচ্চিত্র প্রদর্শন নয়; বরং প্রবাসী নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি শক্ত সেতুবন্ধন তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলা সিনেমার অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করা। প্রথম আসরের অভাবনীয় সাফল্যের পর দর্শক, নির্মাতা ও শিল্পীদের প্রত্যাশা—আগামী বছর আরও বড় পরিসরে এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই উৎসব বাংলা চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রথম আসরে থাকছে জায়েদ খানের চমক

প্রবাসে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম বড় আয়োজন নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবার দর্শকদের জন্য নিয়ে আসছে বিশেষ চমক। সেই চমকের নাম জনপ্রিয় চিত্রনায়ক জায়েদ খান। শিল্পী সমিতি তথা বাংলা চলচ্চিত্রের মধ‍্যমনি জায়েদ খান। তাকে ছাড়া যেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই উৎসব যেন অসম্পূর্ণ। তাইতো আয়োজকরা জায়েদ খানের জন্য রেখেছেন একটি বিশেষ চমক। জায়েদ খানের সাথে এক যুগ পর পর মঞ্চ মাতাবেন ইতিহাস সিনেমার নায়ক কাজী মারুফ। আরো থাকবেন চিত্রনায়ক ইমন, চিত্রনায়ক সজল, চিত্রনায়িকা বিন্দু ও জনপ্রিয় গায়ক প্রতিক হাসান। আগামী ২ আগস্ট জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিতব্য এই আয়োজনে জায়েদ খানের অংশ নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রবাসী বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ফেস্টিভ্যালে দেশ-বিদেশের নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, চলচ্চিত্রপ্রেমী এবং সংস্কৃতিকর্মীদের মিলনমেলা বসবে। চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি থাকবে শিল্পীদের সঙ্গে মতবিনিময়, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিশেষ সম্মাননা প্রদানসহ নানা আয়োজন। মূল আয়োজনের পূর্বে  ৩দিন ব্যাপী চলচ্চিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রদর্শনীতে প্রথমদিন ৩০ জুলাই প্রদর্শিত হবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বিলাই’, তথ‍্যচিত্র ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ ও পূর্ণদৈর্ঘ‍্য চলচ্চিত্র সোহেল রানা বয়াতির ‘নয়া মানুষ’। দ্বিতীয়দিন ৩১ জুলাই প্রদর্শিত হবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ইশপাইট’ ও ‘The Eternal Journey’ এবং পূর্ণদৈর্ঘ‍্য চলচ্চিত্র মিশুক মনির ‘দেয়ালের দেশ’। তৃতীয়দিন ১ আগস্ট প্রদর্শিত হবে জায়েদ খানের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আমেরিকান ড্রিম’ ও ‘ঈদ মোবারক’ এবং পূর্ণদৈর্ঘ‍্য চলচ্চিত্র, রাইসুল ইসলাম অনিকের ‘বিশ্বাস করেন ভাই’ ও প্রসূন রহমানের ‘শিকড়’। আর ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে মূল আয়োজন। এতে অংশগ্রহণ করতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চলচ্চিত্র তারকারা নিউ ইয়র্কে পাড়ি জমিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের এটি প্রথম আসর হওয়ায় বিগত ৩ বছরের (২০২৩-২০২৫) সেরা চলচ্চিত্র, সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী, সেরা পরিচালক, গায়ক-গায়িকা ও কলাকুশলীদের মধ্যে মোট ২০টি ক্যাটাগরিতে সেরাদের পুরস্কৃত করা হবে। বাংলা চলচ্চিত্রের বিশ্বায়নে বিশেষ অবদানের জন্য বায়োস্কোপ ফিল্মসকে এবং বাংলাদেশে সিনেমা হলের আধুনিকায়ন ও দর্শকদের আবার প্রেক্ষাগৃহমুখী করতে, আধুনিক প্রদর্শনব্যবস্থা চালু করতে এবং দেশীয় চলচ্চিত্রের বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় স্টার সিনেপ্লেক্সকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে। সেরা ওটিটি প্লাটফর্ম হিসেবে চরকি পাচ্ছে বিশেষ সম্মাননা। এবং বাংলা চলচ্চিত্রের বরেণ্য ও কিংবদন্তি অভিনেতা আহমেদ শরীফকে আজীবন সম্মাননা (Lifetime Achievement Award) প্রদান করতে যাচ্ছে নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অসামান্য অবদান, শক্তিশালী অভিনয়শৈলী এবং চলচ্চিত্র শিল্পে অনন্য ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই এ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। প্রিয় অভিনেতাকে কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি তাঁর অভিনয়জীবনের নানা অভিজ্ঞতা শোনার সুযোগ পাবেন দর্শকরা। নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আয়োজকরা জানিয়েছেন, চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, তারকাদের উপস্থিতি এবং সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এবারের উৎসব আরও বর্ণাঢ্য হয়ে উঠবে। সেই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন জায়েদ খান। আয়োজকদের মতে, বাংলা চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও পরিচিত করে তুলতে এবং প্রবাসী নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দেশের চলচ্চিত্রের সেতুবন্ধন গড়ে তুলতেই এই উৎসবের আয়োজন। আর সেই আয়োজনে জায়েদ খানের অংশগ্রহণ উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি ফেস্টিভ্যালে থাকছে নির্মাতা, শিল্পী ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে নানা আয়োজন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবারের উৎসব প্রবাসে বাংলা চলচ্চিত্রের প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দর্শকদের জন্য হয়ে উঠবে এক স্মরণীয় চলচ্চিত্র উৎসব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুশকিন দিবস ও রুশ ভাষা দিবস উদযাপন

রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান রুশ কবি আলেকজান্ডার পুশকিনের ২২৭তম জন্মবার্ষিকী এবং রুশ ভাষা দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত পুশকিনের আবক্ষ ভাস্কর্যের পাশে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিসহ রুশ সংস্কৃতির অনুরাগীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে আলেকজান্ডার পুশকিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশে রাশিয়ান ফেডারেশনের দূতাবাসের প্রথম সচিব আনাস্তাসিয়া নেমোভা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজেস (আইএমএল)-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবসার কামাল। বক্তারা পুশকিনের সাহিত্যকর্মের চিরন্তন গুরুত্ব, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে রুশ ভাষার ভূমিকা এবং রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার দৃঢ় সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলা ভাষায় বক্তব্য প্রদানকালে আনাস্তাসিয়া নেমোভা রাশিয়া ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল রুশ ভাষা কোর্সের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ। তারা রুশ ভাষায় পুশকিনের কবিতা আবৃত্তি করেন এবং তার রচনার বাংলা অনুবাদ উপস্থাপন করেন। তাদের পরিবেশনা রুশ ভাষায় দক্ষতা ও রুশ সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায়। রুশ ভাষা কোর্সের শিক্ষকবৃন্দও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান করেন। এই আয়োজন বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে রুশ ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহকে তুলে ধরে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে।