বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
Wednesday, 29 April, 2026
দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ
ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় প্রণয় ভার্মার

সেরোভ একাডেমি অব ফাইন আর্টস-এর আয়োজনে দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য “বৈশাখী শিশু উৎসব ২০২৬”

সাইবার আইনের অপব্যবহার আগের সরকারের দমন–পীড়নেরই পুনরাবৃত্তি: এইচআরডব্লিউ

ঢাকায় “গার্ডেন অব মেমোরি” বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

টোকিও দূতাবাসে বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপাক্ষিক   বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানো নিয়ে মতবিনিময় সভা

ডিক্যাব টকে সারাহ কুক / যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের ২৫ কোটি পাউন্ডের বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দ
বাংলাদেশ সরকার পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়ার পর যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি ব্যক্তিদের ২৫ কোটি পাউন্ডের বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের জুন থেকে এসব সম্পদ জব্দ করেছে বলে ঢাকায় দেশটির হাইকমিশনার সারাহ কুক জানিয়েছেন। তবে জব্দ হওয়া এসব অর্থ যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে ফেরত আনার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হতে হবে উল্লেখ করে সারাহ কুক বলেছেন, ‘আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি সম্পন্ন করতে হলে যথেষ্ট শক্তিশালী প্রমাণের প্রয়োজন হয়ে থাকে।’ মঙ্গলবার ডিক্যাব টক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন হাইকমিশনার সারাহ কুক। দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে ডিক্যাব টকের আয়োজন করে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব)। ডিক্যাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বলেন, ‘গত ১৮ মাস থেকে দুই বছর ধরে সরকারের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছি। আমরা এ ক্ষেত্রে আরও কাজ করতে অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা নিয়ে কথা বলতে পারি না। সেগুলোর সব কটিতেই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এটি আমাদের জন্য একটি উচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়।’ সম্পদ জব্দের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন বজায় রাখার প্রতি যুক্তরাজ্যের দৃঢ় অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ বলেও উল্লেখ করেন সারাহ কুক। অবৈধ অর্থের প্রবাহ বন্ধে কী করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছেন বলে জানান তিনি। সারাহ কুক বলেন, ‘এটি এমন কিছু নয়, যা রাতারাতি ঘটে যেতে পারে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই জব্দ হওয়া অর্থ ফেরাতে হবে।’ এ ধরনের আর্থিক অপরাধ দমনে সহযোগিতার জন্য যুক্তরাজ্য এই গ্রীষ্মে লন্ডনে একটি ইলিসিট ফিন্যান্স সামিট (অবৈধ অর্থায়ন শীর্ষক সম্মেলন) আয়োজন করবে, যেখানে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার আনার লক্ষ্যে প্রণীত জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বলেন, স্পষ্টতই বাংলাদেশে এখন একটি সংসদ রয়েছে এবং একটি সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সংসদ সদস্যদেরই দায়িত্ব হলো সংসদে একত্র হয়ে বিতর্ক ও আলোচনা করা। সংস্কারগুলো ও জুলাই সনদকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম কর্মপন্থা নির্ধারণের দায়িত্ব সংসদ সদস্যদের। এটি জাতীয় সংসদে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে। এটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোনো বিষয় নয়। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে সংস্কারের দৃঢ় সমর্থক বলে উল্লেখ করেন সারাহ কুক। এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এমন কয়েকটি ক্ষেত্র ইতিমধ্যে তুলে ধরেছি, যেখানে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করেছি এবং এখন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কীভাবে কাজ করতে পারি তা নিয়ে আলোচনা করছি। অর্থনৈতিক সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তন এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আমরা কীভাবে একত্রে কাজ করতে পারি, সে বিষয়েও কথা বলেছি।’ যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের অংশীদারত্বের অনেক ক্ষেত্র রয়েছে উল্লেখ করে সারাহ কুক বলেন, ‘আমরা সেদিকেই মনোযোগ দিতে চাই, কীভাবে এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও গভীর করতে পারি, সেদিকেও নজর দিতে চাই।’ মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে সংস্কার নিয়ে বর্তমান সংসদের ভূমিকার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন বিষয়ে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছি। আমরা এমন সংস্কারের সমর্থক, যা দেশে সুশাসন, মানবাধিকার ও স্থিতিশীলতা উন্নত করে। আপনি যে নির্দিষ্ট বিষয়গুলোর কথা উল্লেখ করেছেন, তা সংসদের বিষয়। এখন একটি কার্যকর সংসদ রয়েছে। সুতরাং কোন সংস্কার এবং কোন আইন ও অধ্যাদেশগুলো এগিয়ে যাবে, তা নির্ধারণ করা সংসদের কাজ।’ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গণতন্ত্রের গতিপথ কোন দিকে যাচ্ছে, সে প্রশ্নের জবাবে সারাহ কুক বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব রয়েছে। আমরা বিগত সময়ে গণতান্ত্রিক সংস্কারে একসঙ্গে কাজ করেছি। যুক্তরাজ্য নির্বাচন কমিশনকে সমর্থন করেছে এবং আরও অন্যান্য কাজের ক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক সংস্কারে সমর্থন দিচ্ছি। সুতরাং এ ক্ষেত্রগুলোতে আমরা ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।’ অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে সারাহ কুক বলেন, ‘আমরা কাঠামোগত অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে অনেক কাজ করছি, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিডার সঙ্গে কাজ করছি। কিন্তু অবশ্যই, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী যা ঘটছে তার দ্বারাও প্রভাবিত। সুতরাং এ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া বিশ্বের অনেক দেশের জন্যই একটি চ্যালেঞ্জ। এ কারণেই আমরা এই কঠিন অর্থনৈতিক সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চাই।’ দু্ই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে কি না জানতে চাইলে সারাহ কুক বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের একটি অত্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা রয়েছে। আমরা একটি সমীক্ষা জাহাজ হস্তান্তরের জন্য দুই দেশের সরকার চুক্তি সই করেছে। আমরা ভবিষ্যৎ সামরিক নেতৃত্ব গঠনে প্রশিক্ষণে সহায়তা করার জন্যও একসঙ্গে কাজ করছি।’ মানবাধিকার ও মব সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্নে সারাহ কুক বলেন, বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকার রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্য সম্প্রতি মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশনের বৈশ্বিক সহসভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এটিও মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গীকারের একটি অত্যন্ত জোরালো সংকেত। ‘সুতরাং আমি আশা করি, এটি প্রমাণ করে যে আমরা এ বিষয়গুলোকে কতটা গুরুত্ব দিই এবং আমাদের কাজের অংশ হিসেবে আমরা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলা চালিয়ে যাব। আর বাংলাদেশের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই খুব স্পষ্টভাবে জানিয়ে আসছে যে আইনের শাসনের ওপর মনোযোগ দেওয়াই তাদের ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য এবং এটি অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। সরকার আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ,’ বলেন তিনি। এয়ারবাস কেনার বিষয়ে বাংলাদেশ চুক্তি সই করেছিল। এ নিয়ে অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বলেন, ‘এটি দুই দেশের সরকারের মধ্যকার চুক্তি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিমান চলাচল খাতে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে অংশীদারত্বকে উন্নত বা শক্তিশালী করা। একটি আঞ্চলিক বিমান চলাচল কেন্দ্র হওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে বাংলাদেশের। যুক্তরাজ্য সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে সহায়তা করতে পারে। তাই আমরা চুক্তিটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছি।’
দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ
ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় প্রণয় ভার্মার

সেরোভ একাডেমি অব ফাইন আর্টস-এর আয়োজনে দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য “বৈশাখী শিশু উৎসব ২০২৬”

সাইবার আইনের অপব্যবহার আগের সরকারের দমন–পীড়নেরই পুনরাবৃত্তি: এইচআরডব্লিউ

ঢাকায় “গার্ডেন অব মেমোরি” বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

টোকিও দূতাবাসে বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপাক্ষিক   বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানো নিয়ে মতবিনিময় সভা

৫ দফা দাবিতে বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলন
বর্ষবরণ: ১৪৩৩ / বৈশাখী উৎসবে মুখর জনজীবন
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ–সংক্রান্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী বিল পাস
ময়মনসিংহে তথ্য কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: প্রশংসায় ভাসছেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের সফরে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে পালাম বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। আজ রাতেই তাঁরা এক নৈশভোজে অংশ নেবেন।
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ বৃহস্পতিবার ভারত যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্বের ২৫তম বার্ষিকী উদযাপন করতেই মূলত পুতিনের এ সফর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদনের তথ্য
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফরকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনাসহ ভারত–রাশিয়া সামরিক সহযোগিতায় নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারতের সামরিক সরঞ্জামের বড় অংশ এখনো
দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সূত্রটা কী? এককথায় মাহাথির মোহাম্মদের জবাবটা হলো, শরীর ও মন—দুটিকেই সব সময় কাজের মধ্যে রাখতে হবে। তাহলেই মিলবে দীর্ঘ জীবন। তিনি নিজেও এর ব্যতিক্রম নন। সুস্থতা
আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় আগামী বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ইয়াওয়েরি মুসোভেনি। এর মধ্য দিয়ে মুসোভেরি দেশটিতে তাঁর প্রায় চার দশকের শাসনামল
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও ইরান একটি 'সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক' যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, আগামী
সেরোভ একাডেমি অব ফাইন আর্টস-এর আয়োজনে দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য “বৈশাখী শিশু উৎসব ২০২৬”
১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যতম স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেরোভ একাডেমি অব ফাইন আর্টস-এর আয়োজনে শনিবার “বৈশাখী শিশু উৎসব ২০২৬”-এর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান আনন্দঘন, বর্ণিল ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সেরোভ একাডেমী অব ফাইন আর্টস শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিবছর একাডেমিটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসকেন্দ্রিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, শিল্প প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক উৎসব, কর্মশালা এবং প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক পরিসরে নিজেদের তুলে ধরার সুযোগ করে দিচ্ছে। উৎসবের প্রথম দিনে গতকাল বয়সভেদে ৩টি গ্রুপে শিশুদের চিত্রাঙ্কন, সংগীত ও সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়, যেখানে একাডেমির দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। দ্বিতীয় দিনে সারাদিনব্যাপী বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয় এবং বিকেলে আনুষ্ঠানিক পরিবেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ম্যাজিক শো ও সকল অংশগ্রহণকারীদের সনদপত্র প্রদান এবং পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে উৎসবের সমাপনী ঘটে।
২৬ এপ্রিল, ২০২৬
আর. পি. সাহা ইউনিভার্সিটি (আরপিএসইউ) তে চীন-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বের ৩০ বছরপূর্তি উপলক্ষে চলচ্চিত্র উৎসব
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ / এসএএবি ও রাশিয়ান হাউস আয়োজন করল পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
ঢাকায় রাশিয়ান হাউসে গ্যাগারিন সায়েন্স ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ উদ্বোধন

ঢাকায় রাশিয়ান হাউসের আয়োজনে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে মনোমুগ্ধকর সঙ্গীত সন্ধ্যা

ঢাকায় রাশিয়ান হাউস , ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (IQAC) এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৃহস্পতিবার এক মনোমুগ্ধকর সঙ্গীত সন্ধ্যার আয়োজন করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস এবং “রাশিয়ার জনগণের ঐক্যের বছর” উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ৮০০-রও বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন, যা এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক বিনিময় ও শিল্পময় পরিবেশ সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার প্রধান আলেক্সান্দ্রা খ্লেভনয়ের বক্তব্যের মাধ্যমে। তিনি তাঁর বক্তব্যে রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ, বিশেষ করে রাশিয়ান সরকারি স্কলারশিপ (কোটা প্রোগ্রাম) এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক সম্ভাবনার ওপর আলোকপাত করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে কথা তুলে ধরেন, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় থেকে বিদ্যমান এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার গুরুত্বও উল্লেখ করেন। আনুষ্ঠানিক পর্বের পর “দ্য ঢাকা মেলোডিয়া প্রজেক্ট”-এর মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। পরিবেশিত সঙ্গীতের তালিকায় ছিল— দিমিত্রি শোস্তাকোভিচ — ওয়াল্টজ নং ২ (স্যুট ফর ভ্যারাইটি অর্কেস্ট্রা থেকে) সের্গেই রাখমানিনভ — ভোকালিস, অপ. ৩৪ নং ১৪ লোকসঙ্গীত: করোবেইনিকি (দ্য পেডলার্স) এবং কালিঙ্কা আলেক্সেই কোজলোভ ও ব্যান্ড আর্সেনাল — নস্টালজি এছাড়াও জ্যাজ, ফাঙ্ক ও সোল ধারার অতিরিক্ত পরিবেশনা ক্লাসিক্যাল ঐতিহ্য ও আধুনিক সঙ্গীতের সমন্বয়ে এই সন্ধ্যা দর্শকদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।

ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও ভাবনার এক গভীর সন্ধ্যা

৮ এপ্রিল ২০২৬ ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসে -এ অনুষ্ঠিত হয় কিংবদন্তি চলচ্চিত্র ব্যালাড অফ আ সোলজার -এর একটি বিশেষ প্রদর্শনী। এ আয়োজন ভবিষ্যৎ কূটনীতিক ও বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে পরিণত হয় সংস্কৃতি ও চিন্তার এক তাৎপর্যপূর্ণ মিলনমেলায়। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভবিষ্যৎ কূটনীতিক এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন, যা আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার প্রতি তাদের আগ্রহকে তুলে ধরে। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইকবাল আহমেদ, মহাপরিচালক, ফরেন সার্ভিস একাডেমি বাংলাদেশ এবং ড. মিজানুর রহমান, সভাপতি, সোভিয়েত অ্যালামনাই এসোসিয়েশন বাংলাদেশ। উদ্বোধনী বক্তব্যে আলেক্সান্দ্রা আলেক্সান্দ্রোভনা যুদ্ধের প্রকৃত মূল্য ও মানবিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে একটি হৃদয়স্পর্শী সাদৃশ্য টানেন, যা শান্তির গুরুত্বকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের পর অতিথিরা উপভোগ করেন ব্যালাড অফ আ সোলজার —একটি কালজয়ী চলচ্চিত্র, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দর্শকদের হৃদয়ে অনুরণিত হয়ে আসছে। অনুষ্ঠানটি শেষ হয় প্রাণবন্ত আলোচনা এবং সংস্কৃতির মাধ্যমে পারস্পরিক সংযোগের এক গভীর উপলব্ধির মধ্য দিয়ে।

১৪ দিনের লড়াই শেষ, স্তব্ধ হলো ফরিদা পারভীনের কণ্ঠ

তাঁর কণ্ঠের মাধুর্যে মুগ্ধ হয়েছে বাংলাদেশ। তাঁর দৃপ্ত গায়কির আকর্ষণ আচ্ছন্ন করেছে বাংলা গানের শ্রোতাদের। বাংলাদেশের লালনসংগীতের সঙ্গে যাঁর নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে, সেই ফরিদা পারভীন আর নেই। শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। খবরটি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্তী ও ফরিদা পারভীনের ছেলে ইমাম নিমেরি উপল। মৃত্যুকালে ফরিদা পারভীনের বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন ফরিদা পারভীন। কিছুদিন ধরে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছিল, সপ্তাহে দুই দিন তাঁকে ডায়ালাইসিস করাতে হতো। এর আগেও সংকটাপন্ন অবস্থায় বেশ কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল ফরিদাকে। কিন্তু পরিবারের সদস্য-অনুরাগীদের আশ্বস্ত করে প্রতিবারই সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন। নিয়মিত ডায়ালাইসিসের অংশ হিসেবে ২ সেপ্টেম্বর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু ডায়ালাইসিসের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তখন চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। এর পর থেকে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত বুধবার অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার দুপুরে প্রথম আলোকে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্তী বলেছিলেন, ফরিদা পারভীনের কিডনি, ব্রেন কাজ করছে না। ফুসফুসে সমস্যা আছে। হার্টে অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন আছে। রক্তের সংক্রমণ সারা শরীরে ছড়িয়ে গেছে। রক্তচাপ কম থাকার কারণে ডায়ালাইসিস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আশীষ কুমার চক্রবর্তী রাতে মন খারাপ করা খবরটি জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আর পারলাম না আপাকে ফেরাতে। ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক করেছেন তিনি।’ শৈশবের রোদ্দুর থেকে গানের হাতেখড়ি ফরিদা পারভীনকে বলা হতো ‘লালনসম্রাজ্ঞী’। লালন সাঁইজির গানের প্রসঙ্গ উঠলে প্রথমেই বাঙালির কানে ভেসে উঠত তাঁর কণ্ঠস্বর। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি লালনের গানকে বিশ্বপরিসরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানার শাঁঔঁল গ্রামে জন্ম নেন ফরিদা পারভীন। শৈশবের দিনগুলো কেটেছে মাগুরা, নাটোর, কুষ্টিয়া—দেশের নানা প্রান্তে। বাবার চাকরির বদলির কারণে ঘুরে বেড়ানো সেই শৈশবেই শুরু হয় গানের হাতেখড়ি। মাত্র চার-পাঁচ বছর বয়সে ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে প্রথম গান শেখা। তারপর নজরুলসংগীত দিয়ে তাঁর শিল্পীজীবনের সূচনা। ১৯৬৮ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি রাজশাহী বেতারে তালিকাভুক্ত নজরুলসংগীতশিল্পী হন। কিন্তু ভাগ্য যেন তাঁকে অন্য পথে নিয়ে যেতে চাইছিল, সেই পথের নাম—লালন। লালনের গানে মোড় ঘোরা জীবন স্বাধীনতার পর কুষ্টিয়ার দোলপূর্ণিমার মহাসমাবেশে প্রথমবারের মতো লালনের গান পরিবেশন করেন ফরিদা পারভীন। সেই গান ছিল—‘সত্য বল সুপথে চল’। শ্রোতার আবেগ, উচ্ছ্বাস আর প্রশংসা তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছিল, এই পথেই তাঁর যাত্রা। শুরুতে অনীহা থাকলেও বাবার উৎসাহে মকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছে লালনের গান শেখা শুরু করেন। এরপর খোদা বক্স সাঁই, করিম সাঁই, ব্রজেন দাসসহ গুরুপরম্পরার সাধকদের কাছে তালিম নিয়ে লালনের গানকে তিনি কণ্ঠে ধারণ করেন। তাঁর কণ্ঠে লালনের গান হয়ে ওঠে শুধু সংগীত নয়, এক অনন্য জীবনদর্শন। জীবনকালে প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে এটা ঘটে। কুষ্টিয়ায় স্থানীয় এক হোমিও চিকিৎসক আমার গানের বেশ মুগ্ধ শ্রোতা ছিলেন। কিন্তু কেন জানি, তিনি আমার কণ্ঠে লালনগীতি শুনতে চাইতেন। তাঁর মনে হতো, লালনের গান আমার কণ্ঠে বেশি ভালো লাগবে। তাই হঠাৎ করেই আমাকে একদিন লালন ফকিরের গান শেখার পরামর্শ দেন। কিন্তু শুরুতে লালনের গান গাইতে চাইনি। আমার এই অনীহা দেখে বাবা আমাকে অনেক বুঝিয়ে গান শেখার জন্য রাজি করান। বলেন, “ভালো না লাগলে গাইবি না।” এই শর্তে রাজি হই এবং লালনসংগীতের পুরোধা ব্যক্তিত্ব মকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছে তালিম নেওয়া শুরু করি। “সত্য বল সুপথে চল ওরে আমার মন”, লালনের বিখ্যাত গানটি শিখি। একই বছর দোলপূর্ণিমা উৎসবে গানটি গাইলে শ্রোতারা আমাকে লালনের আরও একটি গান গাইতে অনুরোধ করেন। তখন আমি গান গাইতে অসম্মতি জানাই। শ্রোতাদের বলি, “আমি একটি গান গাইতে শিখেছি। এটাই ভালোভাবে গাইতে চাই।” এ গানই আমার নতুন পথের দিশা হয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে বুঝতে শিখি, কী আছে লালনের গানে। তাঁর গানে মিশে থাকা আধ্যাত্মিক কথা ও দর্শন আমাকে ভাবিয়ে তোলে। এ পর্যায়ে অনুভব করি, লালন তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে অনবদ্য এক স্রষ্টা হয়ে উঠেছেন। এটা বোঝার পর লালনের গান ছাড়া অন্য কিছু ভাবতেই পারি না।’ কণ্ঠে দার্শনিকতার মূর্ছনা ফরিদা পারভীনের কণ্ঠে ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, ‘সময় গেলে সাধন হবে না’, ‘নিন্দার কাঁটা’ কিংবা ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’—শুধু গান নয়, মানুষের আত্মাকে নাড়া দেওয়া এক দর্শন। তাঁর কণ্ঠে লালন যেন নতুন ভাষা খুঁজে পেত। তিনি নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘লালনের গান গাইতে গাইতে বুঝেছি, তাঁর বাণীতে যে আধ্যাত্মিকতা আছে, তা আমাকে ভেতর থেকে নাড়া দেয়। এই গান ছাড়া আমি অন্য কিছু ভাবতেই পারি না।’ বিশ্বমঞ্চে লালনের জয়যাত্রা শুধু বাংলাদেশ নয়, লালনের গান তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বমঞ্চেও। জাপান, সুইডেন, ডেনমার্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য—সবখানেই তাঁর কণ্ঠে বেজেছে লালনের দর্শন। সুইডেন সফরের সেই ঘটনা আজও কিংবদন্তি—যেখানে রানী তাঁর গান শুনে অশ্রুসিক্ত হয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘আমি কথাগুলো বুঝি না, কিন্তু তাঁর কণ্ঠে যে বেদনা আছে, তা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।’ ৫৫ বছরের সংগীতজীবনে ফরিদা পারভীনের অনেক স্মরণীয় স্মৃতি আছে। সে রকম একটি ঘটনার কথা এভাবেই বলেছিলেন, ‘১৯৭৩ সাল। বিভিন্ন আখড়া থেকে বাউলশিল্পীদের ঢাকায় এনে লালনের গান রেকর্ডের পরিকল্পনা করেন ওস্তাদ মকছেদ আলী সাঁই। তিনি তৎকালীন রেডিওর ট্রান্সক্রিপশনে কর্মরত ছিলেন। তাঁর আমন্ত্রণে ঢাকায় রেডিওতে আসি। এ সময় স্টুডিওতে উপস্থিত ছিলেন আবদুল হামিদ চৌধুরী, কমল দাশগুপ্ত, সমর দাস, কাদের জমিলির মতো বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞরা। খুব ভয় হয়েছিল। তাঁদের সামনে আমাকে গাইতে হলো। ১৫ মিনিটের একক সংগীতানুষ্ঠান করে তাঁদের প্রশংসা পেয়েছিলাম। এটিই আমার অন্যতম স্মরণীয় স্মৃতি।’ ২০০১ সালে ‘ফরিদা পারভীন প্রজেক্ট কমিটি’র উদ্যোগে তিনি জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে লালনের গান পরিচয় করিয়ে দেন। পরে গড়ে তোলেন ‘ফরিদা পারভীন ট্রাস্ট’, যার লক্ষ্য ছিল লালনের গান সংরক্ষণ, স্বরলিপি তৈরি এবং বাদ্যযন্ত্রের আর্কাইভ তৈরি করা। স্বীকৃতি লালনসংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে একুশে পদক পান তিনি। ১৯৯৩ সালে চলচ্চিত্র ‘অন্ধ প্রেম’-এ ব্যবহৃত তাঁর গাওয়া ‘নিন্দার কাঁটা’র জন্য পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ২০০৮ সালে জাপানের মর্যাদাপূর্ণ ফুকুওয়াকা পুরস্কারে ভূষিত হন। তবে পুরস্কার-সম্মান নয়, তাঁর কাছে আসল অর্জন ছিল মানুষের ভালোবাসা। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমার গানের শ্রোতা যখন কাঁদেন, হাসেন, আবেগে ভেসে যান—সেটাই আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।’ ব্যক্তিজীবন ব্যক্তিজীবনে তিনি একসময়ের জনপ্রিয় গীতিকার ও সুরকার আবু জাফরের স্ত্রী ছিলেন। তাঁদের সংসারে এক মেয়ে ও তিন ছেলে। আবু জাফরের লেখা-সুর করা অনেক গানই তাঁর কণ্ঠে অমর হয়ে আছে। যেমন, ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’, ‘তোমরা ভুলে গেছো মল্লিকাদির নাম’, ‘নিন্দার কাঁটা’। তবে দাম্পত্যজীবনে বিচ্ছেদ ঘটলেও গানই ছিল তাঁর চিরসঙ্গী। ২০০৫ সালের ১৭ জানুয়ারি তিনি বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিমের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে জড়ান। শেষ জীবন শেষ সময় জীবনের শেষ কয়েক বছর তিনি কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। ডায়ালাইসিসের পরও তাঁর শিল্পীসত্তা কখনো ক্লান্ত হয়নি। হাসপাতালের বিছানায় থেকেও তাঁর মনে ছিল গান। অবশেষে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে চলে গেলেন। সেই সঙ্গে বাংলার সংগীতের আকাশের উজ্জ্বল এক নক্ষত্র অস্ত গেল। নিভে গেল এক কণ্ঠস্বর, যে কণ্ঠ শুনে প্রজন্মের পর প্রজন্ম লালনকে নতুনভাবে চিনেছে।