সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Monday, 07 September, 2026
ক্র্যাব সদস্য সন্তানদের রোবোটিক্স প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) সদস্যদের সন্তানদের নিয়ে দিনব্যাপী রোবোটিক্স প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উইংস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রযুক্তি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্যায়সবের) যৌথ আয়োজনে শনিবার
Sonali Bank

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে আরো সময় লাগবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা সজীব ভুঁইয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত দুদকের

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ইরানের রাষ্ট্রদূতের, মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার অবসান প্রত্যাশা ঢাকার

সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই এ দেশের সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, বরং এ দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। আমাদের সবার প্রধান ও প্রথম পরিচিতি হওয়া উচিত ‘আমরা সবাই বাংলাদেশী’। মন্ত্রী শুক্রবার বিকেলে রাজধানী ঢাকার পলাশী মোড়ে অবস্থিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষ্যে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, "আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন—‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আর যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তবে আমরা প্রত্যেকেই ‘সবার আগে বাংলাদেশী’। আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।" অতীতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "অতীতে যারা মনে করত এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল যে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’, এ দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত ছয় মাসে দেশের সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আচার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনগণই বিচারক, আপনারা ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন এবং আগামীতেও গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় রাখতে এবং সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আপনাদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা থাকবে। সংবিধান ও ধর্মীয় অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো প্রকার বৈষম্য করা যাবে না। তিনি বলেন, সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সরকার কেবল সংবিধানে এটি কিতাবী রূপে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না, বাস্তবেও এই সাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। ভাষার ব্যবহারে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, "আমরা সচরাচর‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু আমি মনে করি ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটির আর প্রয়োজন নেই। আজ থেকে আমাদের বলতে হবে—আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব। এই ইতিবাচক চর্চাই সমাজকে আরও সুন্দর করবে।" মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ এর সভাপতিত্বে সমাবেশ ও মিছিলে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-০৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)। অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। উল্লেখ্য, জন্মাষ্টমীর মিছিলটি পলাশী মোড় (ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন) থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়। 
Sonali Bank
ক্র্যাব সদস্য সন্তানদের রোবোটিক্স প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) সদস্যদের সন্তানদের নিয়ে দিনব্যাপী রোবোটিক্স প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উইংস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রযুক্তি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্যায়সবের) যৌথ আয়োজনে শনিবার

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে আরো সময় লাগবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা সজীব ভুঁইয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত দুদকের

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ইরানের রাষ্ট্রদূতের, মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার অবসান প্রত্যাশা ঢাকার

সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই এ দেশের সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ক্র্যাব সদস্য সন্তানদের রোবোটিক্স প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে আরো সময় লাগবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক আজ শুক্রবার একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কায় এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। চুক্তিতে
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। আজ সোমবার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ গ্রহণের পর তিনি বাকিংহাম প্যালেস থেকে ১০ নম্বর ডাউনিং
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের সফরে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে পালাম বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। আজ রাতেই তাঁরা এক নৈশভোজে অংশ নেবেন।
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ বৃহস্পতিবার ভারত যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্বের ২৫তম বার্ষিকী উদযাপন করতেই মূলত পুতিনের এ সফর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদনের তথ্য
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফরকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনাসহ ভারত–রাশিয়া সামরিক সহযোগিতায় নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারতের সামরিক সরঞ্জামের বড় অংশ এখনো
দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সূত্রটা কী? এককথায় মাহাথির মোহাম্মদের জবাবটা হলো, শরীর ও মন—দুটিকেই সব সময় কাজের মধ্যে রাখতে হবে। তাহলেই মিলবে দীর্ঘ জীবন। তিনি নিজেও এর ব্যতিক্রম নন। সুস্থতা
বাংলার অজানা ইতিহাস নিয়ে ‘স্বর্গভূমি বাংলা’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠিত
বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির গৌরবময় ও ইতিবাচক দিক তুলে ধরে সাংবাদিক ও গবেষক, রয়াল হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি (ইউকে)-এর অ্যাসোসিয়েট ফেলো মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান-এর নতুন বই ‘স্বর্গভূমি বাংলা’-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠান রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৮টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত দেড় সহস্রাধিক দর্শকের উপস্থিতিতে প্রকাশনা সংস্থা রুটস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্সের পরিচালক প্রফেসর ড. শেখ তৌফিক এম হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খ্যাতিমান প্রত্নতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান। বইয়ের লেখক মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান অনুষ্ঠানে বাংলার গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে একটি আকর্ষণীয় প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. শেখ তৌফিক এম হক বলেন, বাংলার ইতিহাসকে শুধু রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক অবদানকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ‘স্বর্গভূমি বাংলা’ সেই প্রয়োজনীয় আলোচনাকে সমৃদ্ধ করবে এবং পাঠকের সামনে বাংলার ইতিহাসের একটি বিস্তৃত ও ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরবে। সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের মধ্যে যে সমৃদ্ধ অতীতের পরিচয় পাওয়া যায়, তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা জরুরি। প্রচলিত ইতিহাসের বাইরে গিয়ে বাংলার নিজস্ব শক্তি, সৃজনশীলতা ও সভ্যতার অবদানকে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বইটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। লেখক মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান বলেন, প্রায় দুই দশকের গবেষণা ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে তিনি ‘স্বর্গভূমি বাংলা’ রচনা করেছেন। বাংলার মানুষ যুদ্ধ, উপনিবেশ স্থাপন কিংবা লুটপাটের মাধ্যমে নয়; বরং মেধা, শিক্ষা, দক্ষতা, শিল্প, বাণিজ্য, সৃষ্টিশীলতা ও উদার মানবিকতার মাধ্যমে বিশ্বে প্রভাব বিস্তার করেছে—বইটিতে সেই ইতিহাসই তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। ‘স্বর্গভূমি বাংলা’ বই হাজারো বছর ধরে কৃষি, বাণিজ্য, শিল্প, শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলার অবদান এবং বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতা ও অঞ্চলের সঙ্গে বাংলার যোগাযোগ ও প্রভাবের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। গ্রন্থে বলা হয়েছে, প্রাচীন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতাগুলোর সমসাময়িক হিসেবে বাংলা কোনোভাবেই পিছিয়ে ছিল না। পরবর্তী সময়েও বাংলার বাণিজ্য ও উৎপাদন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলায় উৎপাদিত বস্ত্রের জন্য ইউরোপের বাজারে ব্যাপক চাহিদা ছিল; আরব ও আফ্রিকাতেও বাংলার পণ্য ছিল সমাদৃত। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বাংলার বাণিজ্য ও সংস্কৃতির প্রভাব বিস্তৃত ছিল বলে বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে আরও তুলে ধরা হয়েছে, বাংলা তার প্রভাব বিস্তার করেছে উপনিবেশ স্থাপন, যুদ্ধ, রাহাজানি বা লুটপাটের মাধ্যমে নয়; বরং অসাম্প্রদায়িক ও উদার মানবিকতা, মেধা, দক্ষতা, শিক্ষা, শিল্প, বাণিজ্য ও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে। আতিথেয়তা, বদান্যতা ও মানবিকতার জন্যও বাংলার যে স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে উঠেছে, বইয়ে তারও অনুসন্ধান করা হয়েছে। প্রায় দুই দশকের গবেষণা ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে রচিত ‘স্বর্গভূমি বাংলা’ প্রচলিত ধারার ইতিহাসচর্চার বাইরে গিয়ে বাংলার গৌরবময় ও ইতিবাচক ইতিহাসকে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করেছে।
২২ আগস্ট, ২০২৬
 নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে শাকিব খান সেরা অভিনেতা ও বুবলী সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত
নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রথম আসরে থাকছে জায়েদ খানের চমক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুশকিন দিবস ও রুশ ভাষা দিবস উদযাপন

রাশিয়া দিবসে ঢাকায় সাংস্কৃতিক মেলা, প্রদর্শনী ও আন্তর্জাতিক কনসার্টের আয়োজন

রাশিয়া দিবস উপলক্ষে রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যেখানে রাশিয়ান ও বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং রাশিয়ার বন্ধুদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই। তিনি রাশিয়া দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, রাশিয়ান ফেডারেশনের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন জাতির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব জোরদারে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ভূমিকা সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। এরপর বক্তব্য দেন বাংলাদেশে রাশিয়ান ফেডারেশনের দূতাবাসের মিনিস্টার-কাউন্সেলর ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিন । তিনি রাশিয়া ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সাংস্কৃতিক ও মানবিক সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন। অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক পর্বে আধুনিক রাশিয়াকে তুলে ধরে একটি মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা প্রদর্শন করা হয়, যেখানে দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের ইয়েলাবুগা কলেজ অব কালচার অ্যান্ড আর্টস-এর লোকসংগীত ও নৃত্যদল “আলাবুগা”-এর পরিবেশনা। রুশ ও তাতার লোকসংগীত, বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনা এবং নৃত্যের মাধ্যমে তারা রাশিয়ার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করেন। কনসার্টে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীতশিল্পী রাজিল গাব্বাসভ ঐতিহ্যবাহী লোকবাদ্যযন্ত্র পরিবেশন করেন এবং তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের সম্মানিত শিল্পী দিলইয়ারা মিরোভায়েভা বিশেষ সংগীত পরিবেশন করেন। সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণ করে “হ্যাপিনেস” নামের একটি শিশু নৃত্যদল, যার সদস্যরা সোভিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সন্তান। তাদের পরিবেশিত বাংলা ঐতিহ্যবাহী নৃত্য রাশিয়া ও বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দর্শকদের মুগ্ধ করে। বাংলাদেশে বসবাসরত রাশিয়ান স্বদেশী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তারা “গ্লিয়াঝু ভ ওজিওরা সিনিয়ে” গান-কবিতা আবৃত্তি করেন এবং জনপ্রিয় রুশ লোকসংগীত “করোবেইনিকি”-এর সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ অংশ তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রকে উৎসর্গ করা হয়, যেখানে এর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং রাজধানী কাজান সম্পর্কে দর্শকদের পরিচিত করা হয়। কনসার্টের পর অতিথিরা রাশিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক মেলায় অংশগ্রহণ করেন এবং দুটি প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। “মাল্টিকালচারাল রাশিয়া” প্রদর্শনীতে রাশিয়ার বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়, আর “প্রিস্টিন রাশিয়া” প্রদর্শনীতে দেশটির অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বন্যপ্রাণী উপস্থাপন করা হয়। মেলায় মাতরিয়োশকা রঙ করার কর্মশালা, রুশ ধাঁচের ফটোজোন, স্মারক সামগ্রীর প্রদর্শনী, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পানীয় এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। এই উদযাপন বাংলাদেশে রুশ সংস্কৃতির প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায় এবং দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করে।

রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় রুশ ঐতিহ্য আবিষ্কার: মাতরিয়োশকা ডল পেইন্টিং মাস্টার ক্লাস অনুষ্ঠিত

রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় রুশ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় করিয়ে দিতে এক প্রাণবন্ত ও সৃজনশীল মাতরিয়োশকা ডল পেইন্টিং মাস্টার ক্লাসের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় সেরোভ একাডেমী অব ফাইন আর্টসের সহযোগিতায়। সেরোভ একাডেমী অব ফাইন আর্টসের সদস্যসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী এই সৃজনশীল কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা প্যাস্টেল, জলরং ও পোস্টার কালারের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী রুশ মাতরিয়োশকা পুতুল রঙ করার কৌশল শিখেন। পুরো কর্মশালাজুড়ে ছিল প্রাণবন্ত ও অনুপ্রেরণাময় পরিবেশ, যেখানে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশের পাশাপাশি মাতরিয়োশকা পুতলের ইতিহাস, প্রতীকী তাৎপর্য এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারেন। এই ব্যতিক্রমধর্মী মাস্টার ক্লাসটি সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে, যা সৃজনশীল শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

“ফ্রেমস অব মেমোরি” চলচ্চিত্র উৎসবে মুগ্ধ বাংলাদেশের হাজারো শিক্ষার্থী

রাশিয়ান হাউস ইন বাংলাদেশ সফলভাবে সমাপ্ত করেছে তাদের ব্যতিক্রমধর্মী সপ্তাহব্যাপী চলচ্চিত্র প্রদর্শনী “মস্কো থেকে বাংলাদেশ: ফ্রেমস অব মেমোরি” । মহান বিজয় দিবসের ৮১তম বার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে গত ১৪ মে শুরু হওয়া এই বৃহৎ চলচ্চিত্র উৎসব আজ সমাপ্ত হয়েছে। উৎসবটি দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছে। রাজধানী ঢাকার বাইরেও আয়োজন সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎসবটি জাতীয় পরিসরে ব্যাপক সাড়া সৃষ্টি করে। ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউস অডিটোরিয়ামে প্রতিদিনের প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিশেষ বৃহৎ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (CBIU)এবং এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (DIU) এ। দর্শকদের জন্য প্রদর্শিত হয় সোভিয়েত চলচ্চিত্রের কালজয়ী সব সৃষ্টি, যার মধ্যে ছিল “ব্যালাড অব আ সোলজার”, “কাম অ্যান্ড সি”, “ইভানস চাইল্ডহুড”, “দে ফট ফর দেয়ার কান্ট্রি” এবং সমাপনী প্রদর্শনীতে ছিল “দ্য ক্রেইন্স আর ফ্লাইং” । প্রতিটি ভেন্যু প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়, যেখানে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধের গভীর ইতিহাস, চলচ্চিত্র শিল্পের নবতর উদ্ভাবন এবং মানবিক দৃঢ়তা ও শান্তির অভিন্ন মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুনভাবে জানার সুযোগ পায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের অংশীদার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ধারাবাহিক সহযোগিতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টা দুই দেশের সংস্কৃতিকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।