সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬
Monday, 23 March, 2026

কিছু ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে যুক্ততার ঝুঁকি স্পষ্টভাবেই তুলে ধরব: ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন

প্রথম আলো
  21 Jan 2026, 20:35
ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে ছবি: ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সৌজন্যে

গত অক্টোবরে মার্কিন সিনেটে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের শুনানিতে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন চীনের সঙ্গে যুক্ততায় ঝুঁকির বিষয়টি বাংলাদেশের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছিলেন। ঢাকায় নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেওয়ার পর প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সে কথা আবার স্মরণ করিয়ে দিলেন তিনি। ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে যুক্ততায় ঝুঁকির যে বিষয়টি রয়েছে, তা তিনি স্পষ্টভাবে অন্তর্বর্তী সরকার বা নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে তুলে ধরবেন।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন ক্রিস্টেনসেন। এরই এক পর্যায়ে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।
গত বছরের অক্টোবরে মার্কিন সিনেটের শুনানিতে ক্রিস্টেনসেন দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কথা বলেছিলেন। বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
আজকের মতবিনিময় সভায় ঢাকাকে বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝে না ফেলে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিষয়গুলো আমার জন্য বিশেষ আগ্রহের ক্ষেত্র। এই দায়িত্ব পালনের আগে ওয়াশিংটনে আমি এ বিষয়ে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছি এবং বাংলাদেশেও আমার এ নিয়ে কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে শক্তিশালী সামরিক সহযোগিতা রয়েছে। ক্রমে তা আরও জোরদার হচ্ছে।’
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানান, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সব শাখার সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্ব রয়েছে। নৌবাহিনীর সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ে, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও মহড়ার মাধ্যমে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সঙ্গে অপারেশনাল প্রস্তুতি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ গত এক বছরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহড়া পরিচালনা করেছে বলে উল্লেখ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। নৌবাহিনীর সঙ্গে অপারেশনাল প্রস্তুতির জন্য ‘টাইগার শার্ক’, সেনাবাহিনীর সঙ্গে শান্তিরক্ষা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ও চিকিৎসা–সংক্রান্ত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘টাইগার লাইটনিং’সহ আরও নানা ধরনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য প্রতিবছর প্রায় ১৫ লাখ মার্কিন ডলার পেশাদার সামরিক শিক্ষায় সহায়তা দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনা ও সক্ষমতা উন্নয়নে আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করছি, বিশেষ করে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে তারা কীভাবে আরও বিস্তৃত ভূমিকা রাখতে পারে, পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে কীভাবে আরও কার্যকর হতে পারে, সে বিষয়ে। আমরা সামরিক সরঞ্জাম কেনার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়েও সহায়তা করছি এবং কোনটি বাংলাদেশি বাহিনীর জন্য সবচেয়ে উপযোগী হতে পারে, তা খতিয়ে দেখছি।’
বাংলাদেশের বাজেট বাস্তবতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নতুন সক্ষমতা আত্মস্থ করার সক্ষমতাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘শুনানিতে আমি যেমন বলেছিলাম, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সামগ্রিক প্রভাব নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশে আমি সব বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখব, সেটা অন্তর্বর্তী সরকার বা নতুন নির্বাচিত সরকার হোক। এখানে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে যুক্ততায় ঝুঁকির যে বিষয়টি রয়েছে, সেটা আমি স্পষ্টভাবে তুলে ধরব।’
অংশীদার দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতার চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নানা বিকল্প রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যেমন আছে, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে আমরা আমাদের মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর উপযোগী কোনো ব্যবস্থা চিহ্নিত করতে সহায়তা করি, যা বাংলাদেশি বাহিনীর প্রয়োজনের সঙ্গে আরও মানানসই বা তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যদি উপযুক্ত কোনো ব্যবস্থা না থাকে, সে ক্ষেত্রেও আমরা আমাদের মিত্রদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে সেই চাহিদা পূরণে সহায়তা করি।’
বাংলাদেশে নির্বাচনে যে-ই জয়ী হোক না কেন, তার সঙ্গেই কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে যে-ই জয়ী হোক না কেন, তার সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন। তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক ইতিবাচক সম্ভাবনা রয়েছে বলে আমি মনে করি। এমন অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি, যার মধ্যে আছে অর্থনীতি, বাণিজ্য, ব্যবসা ও নিরাপত্তা।’
দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন বলেন, বাংলাদেশে কে নির্বাচিত হবে, কে বাংলাদেশে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার হিসেবে দায়িত্ব নেবে, এটি বাংলাদেশের জনগণের একটি সার্বভৌম সিদ্ধান্ত এবং এটি শুধু বাংলাদেশের জনগণেরই সিদ্ধান্ত। এতে অন্য কোনো দেশের বলার কোনো অধিকার নেই। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নতুন সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে মতপ্রকাশ বাংলাদেশের জনগণের সার্বভৌম অধিকার।
বাংলাদেশে সব পক্ষের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুক্ততার প্রসঙ্গ টেনে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমরা সবার সঙ্গে কথা বলি। ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক, সবার সঙ্গে কথা বলার আমাদের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এখানে রাজনৈতিক পরিসরের সব দিক থেকেই ২০ বছর ধরে আমার বন্ধু রয়েছে। তবে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ যে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে যে–ই জয়ী হোক না কেন, তার সঙ্গেই আমরা কাজ করব।’
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ জানিয়ে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন বলেন, ‘২০২৪ সালের আগস্ট থেকে আমরা এখানে ব্যাপক পরিবর্তন দেখেছি। আমার মনে হয়, আমরা সামনে আরও পরিবর্তন দেখতে থাকব।’
এ প্রসঙ্গে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন, বাংলাদেশের জনগণ কথা বলেছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারা আবারও তাদের মতপ্রকাশের সুযোগ পাবে। যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক ইতিবাচক সম্ভাবনা রয়েছে বলে আমি মনে করি। এমন অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি। আবারও বলছি, অর্থনীতি, বাণিজ্য, ব্যবসা ও নিরাপত্তা। আর সে কারণেই আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাকে এই পদে নির্বাচন করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে এখানে আসার সুযোগ দিয়েছেন।’
বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছেন উল্লেখ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আপনাদের সবার সঙ্গে কাজ করতে, এই আলোচনা চালিয়ে যেতে আমি আগ্রহী।’

Comments

  • Latest
  • Popular

একাত্তরে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত, অংশ নেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

তারেক রহমানকে ‘ঈদ মোবারক’ জানালেন নরেন্দ্র মোদি

চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদুল ফিতর শনিবার

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন আজ

ঢাকায় ক্রিমিয়া-রাশিয়া পুনর্মিলনের ১১তম বার্ষিকী পালন

পবিত্র শবে কদর আজ

বইমেলায় সার্ক কৃষি কেন্দ্রের দুই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

ভিসা নবায়নের সুযোগ পাচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীরা

১০
একাত্তরে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব
১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন প্রতিনিধি সভায় একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে বিএনপি-জামায়াত ‘সম্মতি দিয়েছিল’: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির করার আগে এ বিষয়ে দুই রাজনৈতিক দল— বিএনপি ও জামায়াত থেকে
খলিল-ক্রিস্টেনসেন বৈঠক / যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর ঢাকায় আসছেন মার্চের শুরুতে
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর আগামী ৩ মার্চ দুই দিনের বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন বার্তা / বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়ন ও প্রতিরক্ষা চুক্তি করার আহ্বান জানালেন ট্রাম্প
বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের
Error!: SQLSTATE[42S22]: Column not found: 1054 Unknown column 'parent_cat_type' in 'field list'