
রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার উদ্যোগে ধানমন্ডি লেক-এ শুক্রবার “গার্ডেন অব মেমোরি” শীর্ষক এক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশিষ্ট অতিথি, শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে স্মরণ ও পরিবেশ সচেতনতার এক অর্থবহ উদ্যোগ গড়ে ওঠে।
“গার্ডেন অব মেমোরি” রাশিয়া থেকে শুরু হওয়া একটি আন্তর্জাতিক স্মারক উদ্যোগ, যা মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধ (১৯৪১–১৯৪৫)-এ নিহতদের স্মরণে উৎসর্গিত। প্রতি বছর রাশিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গাছ রোপণ করা হয়—প্রতিটি গাছ একটি প্রাণের প্রতীক হিসেবে—যা একই সঙ্গে ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় অবদান রাখে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিন, রাশিয়ান দূতাবাসের মিনিস্টার-কাউন্সেলর; বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সালাম, প্রশাসক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন; মিস আলেকজান্দ্রা এ. খ্লেভনই। পরিচালক, রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা; এবং স্থপতি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক, সোভিয়েত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (এসএএবি)
অনুষ্ঠানটি রাশিয়ান হাউস পরিদর্শনের মাধ্যমে শুরু হয়ে পরে লেকপাড়ে মূল আয়োজনে পরিণত হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মিস আলেকজান্দ্রা এ. খ্লেভনই ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ এবং মানবিক বন্ধন জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা বিভিন্ন দেশ ও প্রজন্মের মানুষকে একত্রিত করে।
তার বক্তব্যে ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিন ৯ মে ১৯৪৫-এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় প্রায় ২৭ মিলিয়ন মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়। তিনি নাৎসিবাদ পরাজয়ে সোভিয়েত জনগণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, এই বিজয় দিবস আজও ব্যক্তিগতভাবে গভীর তাৎপর্য বহন করে, কারণ প্রায় প্রতিটি পরিবারই এই যুদ্ধের প্রভাব বহন করেছে। তিনি আরও বলেন, এই বিজয়ের উত্তরাধিকার জাতীয় ঐক্য, গর্ব ও দেশপ্রেমকে আজও অনুপ্রাণিত করে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সালাম তার বক্তব্যে এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বাংলাদেশের পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে আগামী পাঁচ বছরে ২৫০ মিলিয়ন গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ লক্ষ গাছ রোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
উভয় বক্তাই উল্লেখ করেন যে “গার্ডেন অব মেমোরি” শুধু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন নয়, বরং বাংলাদেশ ও রাশিয়ার জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বের প্রতীক এবং পরিবেশ রক্ষায় যৌথ দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল সম্মানিত অতিথিদের দ্বারা ধানমন্ডি লেকে চারা রোপণ, যা বৈশ্বিক “গার্ডেন অব মেমোরি” উদ্যোগের অংশ।
অনুষ্ঠান শেষে রাশিয়ান হাউসে এক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়, যেখানে অতিথিরা অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের সুযোগ পান এবং সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হয়।
Comments