বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
Wednesday, 07 October, 2026

প্রেম ও দ্রোহের সুরকার এবং হেলাল হাফিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ডিপ্লোমেট ডটকম:
  14 Dec 2024, 21:33
প্রেম ও দ্রোহের সুরকার হেলাল হাফিজ....................................ছবি: সংগৃহীত

এখন যৌবন যার মিছিলে যাওয়ার তার শ্রেষ্ঠ সময়/ এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাওয়ার তার শ্রেষ্ঠ সময়’ এই কালজয়ী পঙ্‌ক্তির রচয়িতা কবি হেলাল হাফিজ, যিনি প্রেম ও দ্রোহের কবি হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিলেন।

শৈশব থেকে স্বাধীনতার প্রান্তর
হেলাল হাফিজের জীবনের গল্প এক বেদনা ও সংগ্রামের গল্প। ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার বড়তলী গ্রামে জন্ম। শৈশবেই মায়ের মৃত্যু তার জীবনকে গভীর শূন্যতায় আচ্ছন্ন করে। নেত্রকোনা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ১৯৬৭ সালে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তাল ষাটের দশক আর দেশের স্বাধীনতার পূর্ববর্তী অগ্নিগর্ভ পরিবেশ তার কবিতার প্রধান উপাদান হয়ে ওঠে।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লেখা তার ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতাটি যেন মিছিলের প্রতিধ্বনিতে রূপ নেয়। তার কবিতার লাইন— “এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়”— গণআন্দোলনের স্লোগান হয়ে ওঠে। এই কবিতাটি তাকে এনে দেয় অভূতপূর্ব খ্যাতি।

অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে যান হেলাল হাফিজ। সেদিন নিজের হলে থাকলে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হতো। কারফিউ উঠে গেলে নিজের হলে ফিরে গিয়ে দেখেন ধ্বংসস্তূপ আর লাশের স্তূপ। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তার জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সেই রাতে বেঁচে থাকার গল্পে মিশে আছে নির্মলেন্দু গুণের সঙ্গে তার ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ।

সাংবাদিকতা ও সৃজনশীল জীবন
স্বাধীনতার পর সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন হেলাল হাফিজ। ১৯৭২ সালে দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকায় সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর কাজ করেন দৈনিক দেশ এবং যুগান্তর-এ।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি তার কবিতা চর্চা চলতে থাকে। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ ‘যে জ্বলে আগুন জ্বলে’ তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়। গ্রন্থটি তুমুল সাড়া ফেলে এবং তার ৩৩টির বেশি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১২ সালে প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতা ৭১’। তার তৃতীয় ও শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা’ প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালে।

প্রেম ও দ্রোহের কবি
হেলাল হাফিজ প্রেম ও দ্রোহের চেতনায় সমৃদ্ধ কবিতা লিখে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। তার কবিতার গভীরতা ও সাহসিকতা বাংলাদেশি সাহিত্যের একটি অনন্য অধ্যায়। ব্যক্তিগত জীবনে বেদনা এবং সামাজিক-রাজনৈতিক প্রতিকূলতা তাকে এক নিভৃতচারী কবির জীবন বেছে নিতে বাধ্য করে।

শেষ দিনগুলো
জীবনের শেষ দিনগুলোতে তিনি একান্তে কাটিয়েছেন। মহামারি করোনা শুরুর আগে থাকতেন সেগুনবাগিচার কর্ণফুলী হোটেলে। পরে প্রেস ক্লাবকেন্দ্রিক জীবন ছেড়ে ইস্কাটন এলাকায় ভাইয়ের বাসায় কিছুদিন কাটান। তবে শিগগিরই হোটেলকেন্দ্রিক জীবনে ফিরে যান।

হেলাল হাফিজের জীবন ছিল সংগ্রাম, প্রেম, দ্রোহ, এবং সৃষ্টিশীলতার এক অমূল্য উদাহরণ। তার কবিতাগুলো বাংলাদেশি সাহিত্যের ঐতিহ্যে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Comments

  • Latest
  • Popular

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

১

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২

ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসে স্পেস ফেস্টিভ্যাল: স্পুটনিক-১ উৎক্ষেপণের ৬৯ বছর পূর্তি উদযাপন

৩

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেন ফোরামের সভা ও মানববন্ধন

৪

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সিঙ্গাপুরের বিদায়ী চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের সাক্ষাৎ

৫

ভারত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযানের জন্য প্রস্তুত: রাজনাথ সিং

৬

অপরাধে যুক্ত হলে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি ফৌজদারি ব্যবস্থা

৭

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

৮

সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

৯

ডিআইজিসহ পুলিশে ৩১ পদে রদবদল

১০
বাংলার অজানা ইতিহাস নিয়ে ‘স্বর্গভূমি বাংলা’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠিত
বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির গৌরবময় ও ইতিবাচক দিক তুলে ধরে সাংবাদিক
মহাকাশ অভিযাত্রার পথিকৃৎকে সম্মাননা / ঢাকার জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে ইউরি গাগারিনের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন
মানবজাতির প্রথম মহাকাশযাত্রার ৬৫তম বার্ষিকী এবং আন্তর্জাতিক মানব মহাকাশযাত্রা দিবস উপলক্ষে আজ ঢাকার জাতীয় বিজ্ঞান
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেলেন যারা
সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪ ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর
অবশেষে কাজী নজরুল ইসলামকে ‌‘জাতীয় কবি’র রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি
অবশেষে বাংলাদেশের জাতীয় কবির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলেন কাজী নজরুল ইসলাম। ১৯৭২ সালের ৪ মে বাংলাদেশে