
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে আরো একটু সময় লাগবে। তবে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব ইজতেমার বিষয়ে সাদপন্থীদের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। সভায় স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং তাবলীগ জামাতের (সাদপন্থী) প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাদ ও যুবায়েরপন্থীরা ইজতেমার জন্য আলাদা তারিখ প্রস্তাব করেছে। তবে সরকার চাচ্ছে দুই পক্ষই একত্রে বসে একটা তারিখ নির্ধারণ করুক।
এর আগে জুবায়েরপন্থীদের সাথে আলোচনা হয়েছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তারই ধারাবাহিকতায় আজ সাদপন্থীদের সাথে বৈঠক হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এ বছর ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি প্রথম পর্ব এবং ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা অনুষ্ঠিত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এ বছর আমরা সবার সাথে আলোচনা করে এই তারিখ নির্ধারিত করেছি।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের কারণে এক বছর তাবলীগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা হয়নি। আজকে দুই অংশের একটি পক্ষ (মাওলানা সাদপন্থী) নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইতোপূর্বে বেশকিছু দিন আগে জুবায়েরপন্থী হিসেবে যারা পরিচিত তাদের সাথেও কথা হয়েছে। তাদেরকেও বলেছিলাম আমরা দু’পক্ষের সাথেই কথা বলব।
মন্ত্রী আরো বলেন, প্রস্তাবিত এই দুইটি তারিখ শেষ হবার পর একটা রিজনেবল সময়ে এক পর্বে সাদপন্থীরা ইজতেমা করতে চান। আমরা বলেছি, এ বিষয় নিয়ে আমরা অপর পক্ষের সাথে আলোচনা করব। সংশ্লিষ্ট সবাই এবং গোয়েন্দা বাহিনীর সাথে কথা বলব। সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। আমরা চাই যাতে কোনো ধরনের সংঘর্ষ না হয়। কারণ ইতোপূর্বে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এজন্য আমরা বিষয়টি লক্ষ্য রেখে সিদ্ধান্ত নিব। যেহেতু আমরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেইনি, তাই এর বেশি এই মুহূর্তে আমরা কিছুই বলতে পারছি না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুবায়েরপন্থীদের দাবি তারা দুই পর্বে করতে চান। অপরদিকে সাদপন্থীদের দাবি হচ্ছে রমজানের আগে এবং ওই দুই পর্বের মধ্যবর্তী সময়ে এক পর্বে ইজতেমা করা। অথবা নভেম্বরের শেষ দিকে প্রস্তাবিত এই দুই পর্ব শুরুর আগেই সাদপন্ত্রীরা ইজতেমা করতে চান।
তিনি বলেন, জুবায়ের অংশ প্রস্তাব দিয়েছিল সাদপন্থীরা যেন অন্য কোথাও ইজতেমা করে। আমরাও বলেছিলাম, আমার এতে যা সহযোগিতা করার করব। কিন্তু এতে মাওলানা সাদের অনুসারীরা সম্মত হননি। আমরা দুই পক্ষকেই একত্রে ইজতেমা করার আহ্বান জানিয়েছি।
মন্ত্রী আরো বলেন, মাওলানা সাদ সাহেবের আগমনের বিষয়টি ধর্ম মন্ত্রণালয় দেখবে। তারা সিদ্ধান্ত নেবে। এটা ভিসানীতি অনুসারে দেখা হবে। এ বিষয়ে এখন আমরা চূড়ান্ত কিছু বলতে পারব না। ভিসানীতি অনুসারে যেভাবে ক্লিয়ারেন্স নিতে হয় সেভাবে নিবে। তারপরে দেখা যাবে।
Comments