
বকেয়া ভাড়া চাইতে গিয়ে ভাড়াটিয়া কর্তৃক হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাভারের বিরুলিয়ার বাসিন্দা আকরাম হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভাড়াটিয়া কথিত ব্যবসায়ী নাজমা খাতুন বকেয়া ভাড়া পরিশোধ এবং ফ্লোর খালি না করে উল্টো তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও হুমকি দিচ্ছেন। এ অবস্থায় বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও আইনগত সমাধানে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভবন মালিক আকরাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, তাঁর মালিকানাধীন সাভারের বিরুলিয়ায় আকরান পুকুরপাড়ে অবস্থিত স্টার কমপ্লেক্সের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলার নির্ধারিত অংশ এবং নিচের টিনশেড ভবন জুতার ব্যবসা পরিচালনার জন্য ‘কুসুম কলি সু ফ্যাক্টরি’র চেয়ারম্যান মোসা. নাজমা খাতুন ভাড়া নেন। চুক্তি অনুযায়ী মাসিক ভাড়া ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অগ্রিম ১১ লাখ টাকা দেয়ার কথা ছিল।
তিনি দাবি করেন, ভাড়াটিয়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ফ্লোরগুলো ব্যবহার শুরু করেন। ডিসেম্বর ২০২৫ ও জানুয়ারি ২০২৬ মাসের ভাড়া কয়েক দফায় পরিশোধ করা হলেও পরবর্তীতে নিয়মিত ভাড়া ও অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। বকেয়া পরিশোধের জন্য বারবার সময় দেওয়া হলেও তা পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আকরাম হোসেন বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বকেয়া পরিশোধ করে ৩১ মে’র মধ্যে ফ্লোরগুলো খালি করে দেওয়ার জন্য ভাড়াটিয়াকে অনুরোধ করেন। পরে ভাড়াটিয়ার অনুরোধে সময় বাড়িয়ে জুলাই পর্যন্ত করা হলেও ওই সময়ের মধ্যেও বকেয়া ভাড়া পরিশোধ ও ফ্লোর খালি করা হয়নি বলে দাবি তার।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ভাড়া না পাওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এর প্রভাব তার ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধের ওপরও পড়েছে। ব্যাংক থেকে কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আকরাম হোসেনের দাবি, বর্তমান ভাড়াটিয়ার সম্মতি নিয়ে তিনি ফ্লোরগুলো নতুন করে ভাড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেন। এ বিষয়ে ‘ফ্যঙ্গলি ইলেকট্রনিক টেকনোলজি কোম্পানি’ এবং ‘হরিজন সুজ’ কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করেছেন বলে জানান তিনি। তবে বর্তমান ভাড়াটিয়া ফ্লোর খালি না করায় নতুন ভাড়াটিয়াদের কাছে জায়গা হস্তান্তর করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন ভবন মালিক।
তিনি বলেন, এ কারণে পুরোনো বকেয়া ভাড়ার পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক চুক্তির ক্ষেত্রেও তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ফ্লোর খালি করে দেয়া এবং বকেয়া ভাড়া দেয়ার তাগিদ দেয়ার পর থেকে ভাড়াটিয়া নাজমা বিভিন্নভাবে তাঁকে হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি স্থানীয় এক সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দলের নেতা পরিচয় দিয়ে তাঁকে ফোনে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ‘কুসুম কলি সু ফ্যাক্টরি’র শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আকরাম হোসেন। তার ভাষ্য, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ না হওয়ায় প্রায় পাঁচ মাস ধরে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। ফলে শ্রমিক-কর্মচারীরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ভাড়াকৃত ফ্লোর দ্রুত খালি করে তাকে বুঝিয়ে দেয়া, বকেয়া ভাড়া ও অন্যান্য বৈধ পাওনা আদায়ের ব্যবস্থা, কোনো আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া, নতুন ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে করা বৈধ ব্যবসায়িক চুক্তি বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টির দাবি করেন। এছাড়া কুসুম কলি সু ফ্যাক্টরির শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
Comments