
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ, পদোন্নতি, পদায়নে অনিয়ম দুর্নীতি। অভিযোগের মধ্যে আরো আছে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টেন্ডার কেনাকাটায় দুর্নীতি।
বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে এই অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরুর কথা জানান, দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম। তিনি বলেন, পদোন্নতি, বদলী বাণিজ্য, পদায়নসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
দুদকের অনুসন্ধানের তালিকায় থাকা অপর তিন কর্মকর্তা হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো: মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন ও উপসচিব মো: মাসুম আহমেদ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার মন্ত্রণালয়ের বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ, পদোন্নতির ক্ষেত্রে দুর্নীতি করেছেন। এছাড়াও অভিযুক্তরা ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়ন আদেশ করিয়ে ৭৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য ১.৫ কোটি টাকা এবং পদোন্নতিপূর্ব পছন্দ এর জায়গায় পদায়ন করার জন্য সর্বমোট ২ কোটি টাকার দুর্নীতি করার অভিযোগ।
দুদক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক ইতিমধ্যে চার সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে। দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে একটি টিমকে এ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একটি অভিযোগ জমা পড়েছিল। পরে সেটি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
জুলাই গণ অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হন আসিফ মাহমুদ। তিনি শুরুতে ছিলেন শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। এর পর থেকে তিনি স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। একই বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। তখন থেকে তিনি এনসিপির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন।
Comments