রোববার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬
Sunday, 01 November, 2026
নেপালের রাষ্ট্রদূত

নেপাল ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত

ঢাকা পোস্ট
  17 Sep 2026, 14:40

বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি বলেছেন, ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ধাক্কা সামলে নেপাল ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। দেশটির অধিকাংশ পর্যটনকেন্দ্র, বিমানবন্দর, হোটেল ও পর্যটন সেবা স্বাভাবিক রয়েছে। বাংলাদেশি পর্যটকদের নেপাল ভ্রমণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নেপাল ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, নেপাল দৃঢ় এবং নেপাল আপনাদের জন্য উন্মুক্ত।’
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (এটিএফ) ২০২৬ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে গত ২৬ আগস্ট নেপালে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির কথা স্মরণ করেন নেপালের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ওই দুর্যোগ ছিল নজিরবিহীন। কয়েক মিনিটের মধ্যে বরফ, পানি, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত বিভিন্ন জনপদে আঘাত হানে। এতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্যোগের পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের প্রাথমিক ধাপ শেষ করে এখন পুনর্গঠন, পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসনের দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রাথমিক হিসাবে পুনর্গঠনে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি প্রয়োজন হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পাশাপাশি পর্যটন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত।
তবে নেপালের পর্যটন খাতের ওপর দুর্যোগের প্রভাব নিয়ে পর্যটকদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানান ঘনশ্যাম ভান্ডারি। তিনি বলেন, দুর্যোগের প্রভাব মূলত নদীর অববাহিকা বরাবর নির্দিষ্ট একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল। দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোর বড় অংশই অক্ষত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো চালু রয়েছে, হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো পর্যটকদের সেবা দিচ্ছে এবং ট্রাভেল ও ট্রেকিং এজেন্সিগুলোও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের পর্যটন সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতিগত নানা মিল রয়েছে। বাংলাদেশি পর্যটকদের পছন্দের গন্তব্যগুলোর মধ্যে নেপাল অন্যতম। ২০২৫ সালে প্রায় ৬০ হাজার বাংলাদেশি নেপাল ভ্রমণ করেছেন।
পর্যটন খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে ঘনশ্যাম ভান্ডারি বলেন, সরকার, পর্যটন বোর্ড, বিমান সংস্থা, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেলসহ বেসরকারি খাতের অংশীদারদের যৌথভাবে কাজ করতে হবে। এ ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে পর্যটনবিচিত্রার সম্পাদক ও এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, মালদ্বীপ- শ্রীলঙ্কা সহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা। 

Comments

  • Latest
  • Popular

 ‘জনগণের পুলিশ’ গড়ে তোলার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

১

বাংলাদেশ-জাপান ছয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি

২

শেখ হাসিনা দেশে এলে মবের শিকার হবেন না, ন্যায় বিচার পাবেন: তথ্য উপদেষ্টা

৩

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের সৌজন্য সাক্ষাৎ

৪

জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী

৫

আরামবাগ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক্স স্টুডেন্ট ফোরামের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই উপহার

৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ

৭

ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার পেলেন মাহমুদা চৌধুরী ও মেজবাউর রহমান সুমন

৮

চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

৯

কুইন্স কমনওয়েলথ পদক পেলো আনান মুস্তাফিজ

১০
ভারত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযানের জন্য প্রস্তুত: রাজনাথ সিং
ভারত যুদ্ধ নয়, শান্তি চায় উল্লেখ করে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ভারতের শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে
ব্রিফিংয়ে হুমায়ুন কবির / সম্পর্ক নতুনভাবে শুরু করতে চাই, তাই ভারতে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত
বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রিসেট (নতুনভাবে শুরু করা) চায় উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে ভারতের রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী
কলকাতার আবাসিক হোটেলে আগুন, ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ অন্তত ৯ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত