
বাংলাদেশ ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ শনিবার সন্ধ্যায় আঙ্কারায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসছেন। বৈঠকে বাংলাদেশে সমরাস্ত্র উৎপাদনসহ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য, জ্বালানি ও স্বাস্থ্য খাতের সহযোগিতা বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত মাসে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটি দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম বৈঠক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আজ সকালে ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। সেখান থেকে বৈঠকে অংশ নিতে আঙ্কারায় যাবেন। দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে তিনি সরকারি সফরে নিউইয়র্ক যাবেন।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ের সহযোগিতা অব্যাহত রেখে বিভিন্ন খাতে অংশীদারত্ব বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হবে। আর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ইরানে যুদ্ধের অবসান, রোহিঙ্গা সংকটে সহায়তার মতো প্রসঙ্গগুলো আসবে। এ ছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থিতার বিষয়ে সমর্থন চাওয়ার বিষয়ও আলোচনায় আসবে।
কূটনৈতিক সূত্রে আরও জানা গেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বৈঠকের পর দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে।
ঢাকা ও আঙ্কারার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশ অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, জ্বালানি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান এবং স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে জোর দেবে।
দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বৈঠকের পরে একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়াতে এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হবে। বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগামী কয়েক বছরে তুরস্ক তা ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে আগ্রহী।
দুই দেশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশে তুরস্কের রপ্তানি ছিল ৪৩০ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশ থেকে আমদানি ছিল ৯২৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার।
তুরস্কের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সাবাহর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে বর্তমানে আলোচনার প্রক্রিয়ায় থাকা বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়টি আসতে পারে। তুরস্কের কর্মকর্তাদের মতে, এসব চুক্তি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার আইনি কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
ডেইলি সাবাহর প্রতিবেদনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে দুই দেশের সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে সমরাস্ত্র উৎপাদনসহ সংস্থাটির সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশে সমরাস্ত্র উৎপাদনে তুরস্কের বিনিয়োগ, সামরিক কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার রূপরেখা চুক্তি করতে চায় তুরস্ক। আগামী কয়েক মাসের মধ্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের ঢাকা সফরের আগে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার রূপরেখা চুক্তি চূড়ান্ত করার তাগিদ দিতে পারে আঙ্কারা।
ডেইলি সাবাহর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিপক্ষীয় বিষয়ের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করতে পারেন। হাকান ফিদান জাতিসংঘ, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং ডেভেলপিং এইট (ডি–৮) এর মতো বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরবেন। আলোচনায় ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনাও উঠে আসতে পারে।
Comments