
আগামী ১৬ জুলাই উদযাপিত হবে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব। এ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) ৯ দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ২৪জুলাই উল্টো রথের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। প্রতি বছর চন্দ্র আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে শুরু হয় এ উৎসব। এর ৯ দিনের মাথায় হয় উল্টো রথযাত্রা।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর স্বামীবাগে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) মন্দিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরা হয়। এবারের রথযাত্রা উপলক্ষে বিশ্বশান্তি কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পদাবলী কীর্তন, ধর্মীয় নাটক, সংকীর্তনসহ থাকছে নানা আয়োজন।
প্রতি বছরের মতো এবারও রথযাত্রা শুরুর দিন ইসকনের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা রাজধানীর স্বামীবাগ থেকে বের হয়ে ঢাকেশ্বরি জাতীয় মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে। দাবি করা হচ্ছে, বিশ্বের মধ্যে ঢাকার বৃহত্তম রথশোভাযাত্রার খ্যাতি রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ইস্কনের সভাপতি সত্যরঞ্জন বাড়ৈ, ইসকনের সাধারণ সম্পাদক ভক্তিময় নিতাই স্বামী মহারাজ, কোষাধ্যক্ষ জ্যোতিশ্বর গৌরহরি দাস ব্রহ্মচারী, কার্যনির্বাহী সদস্য শ্রী শুভ নিতাই দাস ও জয় মহাপ্রভু দাস ব্রহ্মচারীসহ অনেকে।
আয়োজকরা বলেন, রথযাত্রা একটি সার্বজনীন উৎসবে পরিনত হচ্ছে। শোভাযাত্রা অসংখ্য মানুষের অংশগ্রহণ এটিই প্রমাণ করেছে।
ইসকনের বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ভক্তিময় নিতাই স্বামী মহারাজ বলেন, জাতি ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকলে এ উউসবে সামিল হয়। এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে রথযাত্রা হবে। শোভাযাত্রায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। মহোৎসব সফল করতে সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শোভাযাত্রাসহ উৎসব উপলক্ষে নিরাপত্তায় নিজস্ব প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবে।
উৎসব এবং শোভাযাত্রায় সবাইকে অংশ নেওয়ার জন্য সনাতন সম্প্রদায়সহ ভক্তদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস-ভগবান জগন্নাথ দেব হলেন জগতের নাথ বা অধীশ্বর। জগৎ হচ্ছে বিশ্ব আর নাথ হচ্ছেন ঈশ্বর। তাই জগন্নাথ হচ্ছেন জগতের ঈশ্বর। তার অনুগ্রহ পেলে মানুষের মুক্তিলাভ হয়। জীবরূপে তাকে আর জন্ম নিতে হয় না। এ বিশ্বাস থেকেই ভক্তরা রথের ওপর জগন্নাথ, শুভদ্রা ও বলরামের বিগ্রহ স্থাপন করে সেই রথ টেনে নিয়ে যাবেন এক মন্দির থেকে অন্য মন্দিরে। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবে মেলা। সেখানে দূর-দূরান্ত থেকে আসবেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা।
Comments