শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৬
Saturday, 04 July, 2026

৮ লাখের মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত যাওয়ার যোগ্য: মিয়ানমার

কূটনৈতিক  প্রতিবেদক,ঢাকাডিপ্লোমেটডটকম
  05 Apr 2025, 01:19
মিয়ানমারের সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় রোহিঙ্গারা ফাইল ছবি: রয়টার্স

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া তালিকাভুক্ত ৮ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার যোগ্য বলে জানিয়েছে দেশটির জান্তা সরকার। চূড়ান্ত যাচাই–বাছাইয়ের পর্যায়ে আছে আরও ৭০ হাজার রোহিঙ্গা।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যাবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি খলিলুর রহমানকে এ কথা জানিয়েছেন মিয়ানমারের জান্তা সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী ইউ থান শিউ। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে শুক্রবার বৈঠক করেন তাঁরা।
প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে শুক্রবার দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ২০১৮-২০ সালে ছয় ধাপে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের তালিকা দেয়। সেই তালিকা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা নিয়ে মিয়ানমারের নতুন দৃষ্টিভঙ্গিকে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের পথে বড় অগ্রগতি বলছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।
মিয়ানমারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের দেওয়া তালিকায় থাকা ৮ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে মিয়ানমার ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত যাওয়ার যোগ্য বলে শনাক্ত করেছে। এ ছাড়া চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে ৭০ হাজার রোহিঙ্গার নাম ও ছবি আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর বাইরে আরও সাড়ে ৫ লাখ রোহিঙ্গার যাচাই-বাছাইয়ের কাজ জরুরি ভিত্তিতে করবে জান্তা সরকার।
শুক্রবারের বৈঠকে মিয়ানমারে ভূমিকম্পে নিহতদের জন্য শোক জানানো হয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি মিয়ানমারের দুর্যোগপীড়িত জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা পাঠাতে বাংলাদেশ প্রস্তুত থাকার কথা জানানো হয়।
জানতে চাইলে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান গতকাল  গণমাধ্যমকে বলেন, ‘২০১৮ সালে আমরা মিয়ানমারকে ৮ লাখ রোহিঙ্গার তালিকা দিয়েছি। সম্ভবত ওই তালিকা থেকে ভ্যারিফাই (যাচাই-বাছাই) করে তারা একটা ফিগার (সংখ্যা) জানিয়েছে সরকারকে।’
১ হাজার ১০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ২০২৩ সালে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল জানিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, ‘সেটিও সফল হয়নি। এখন যেহেতু সরকারি পর্যায়ে ঘোষণা এসেছে, আমরা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে প্রস্তুত আছি।’
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি সই করেছিল মিয়ানমার। চুক্তি সইয়ের দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া শুরুর কথা ছিল। কিন্তু প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে, তা কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি তখন। পরে প্রত্যাবাসনও শুরু করা যায়নি। সে সময় নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, নিজ জমিতে ফেরার নিশ্চয়তাসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছিল রোহিঙ্গারা।
ওই সময় জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের মিয়ানমারবিষয়ক দূত ইয়াংহি লি রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি স্বেচ্ছায় হতে হবে বলে জানিয়েছিলেন কাতারভিত্তিক টিভি চ্যানেল আল-জাজিরাকে।
এরপর ২০২৩ সালের অক্টোবরে চীনের মধ্যস্থতায় ১ হাজার ১০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক পাঁচটি ট্রানজিট কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল।
২০২৩ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে কেন্দ্রগুলোর নির্মাণকাজ শেষ করে ডিসেম্বরে প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সেটি আলোর মুখ দেখেনি।
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বর্তমান নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ। এর মধ্যে ৮ লাখ এসেছে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পরের কয়েক মাসে। কিন্তু গত প্রায় আট বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো যায়নি।

Comments

  • Latest
  • Popular

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের আলোচনায় নজর রেখেছে ভারত

ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে অন অ্যারাইভাল ভিসা চাইলেন রাষ্ট্রদূত

সন্ত্রাসবাদের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখলেন সুপ্রিম কোর্ট, বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প

বাংলাদেশিদের জন্য আবার চালু হচ্ছে ভারতের পর্যটন ভিসা, শুরু ২৮ জুন

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে ১ কোটি ২৭ লাখ শিশুর শিক্ষায় ক্ষতি

রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় ‘স্মরণ ও শোক দিবস’ পালিত

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত

মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে সই হতে পারে ১৫-১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল

১০
মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ও
বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে হালাল পণ্যের বড় সম্ভাবনা
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে গতানুগতিক বাণিজ্যের বাইরে হালাল পণ্যের বড় সম্ভাবনা দেখছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার
সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী / সাড়ে তিন লাখের তথ্য যাচাই করে আড়াই লাখ রোহিঙ্গাকে নিজেদের নাগরিক বলছে মিয়ানমার
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মিয়ানমারে পাঠানো রোহিঙ্গাদের তালিকার মধ্যে মাত্র সাড়ে তিন লাখ
রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেওয়া মানে তারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে যেসব রোহিঙ্গা সৌদি আরবে গিয়েছিলেন, তাঁদের