
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)’র মহাপরিচালক জিলবার্ট হোংবো সরকারের অগ্রাধিকারের সাথে সংহতি রেখে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আইএলও’র পক্ষ থেকে সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। ৩৫৬তম আইএলও গভর্নিং বডিতে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে জেনেভা সফররত শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সংস্থাটির মহাপরিচালক এ আশ্বাস দিয়েছেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মোঃ আব্দুর রহমান তরফদার অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকের শুরুতেই আইএলও মহাপরিচালক জিলবার্ট হোংবো একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য বর্তমান সরকারকে অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে এ গণতান্ত্রিক উত্তরণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। নতুন সরকারের সাথে আইএলও কাজ করতে আগ্রহী বলে তিনি জানান। শ্রমমন্ত্রী মহাপরিচালককে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ ও নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সরকারের জন্য গুরত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারগুলোর একটি। এক্ষেত্রে আইএলও’র সহযোগিতা বিশেষত আইএলও ঢাকা অফিস আরো বেশি উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। আইএলও মহাপরিচালক শ্রমমন্ত্রীর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেন এবং এক্ষেত্রে সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান আর্টিকেল ২৬ মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে মহাপরিচালকের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন শ্রমমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের কূটনৈতিক তৎপরতার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, মিশন আইএলওর বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ, সংস্থাটির গভর্নিং বডিতে সভাপতিত্ব, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় সমন্বয়ক এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে যার ফলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান মামলায় বিপুল সমর্থন পেয়েছে। এক্ষেত্রে দেশে শ্রমক্ষেত্রে উন্নয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ সুদৃঢ় করা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমমান অনুযায়ী অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, বহুজাতিক কোম্পানি ও বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা আরো সম্প্রসারিত করার ক্ষেত্রে মহাপরিচালকের সহযোগিতা কামনা করেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা যেমন- স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা, দুর্ঘটনা বিমা ইত্যাদি কার্যক্রমে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর অবদান রাখার ক্ষেত্রে মহাপরিচালক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিশ্রুত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার ও শ্রম অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট রয়েছে। জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন ও শ্রম অধিকার সমুন্নতকরণে কাজ করে যাচ্ছি।
শ্রমমন্ত্রী আগামী জুনে মহাপরিচালকের বাংলাদেশ সফরের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। বৈঠকে জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবদুস সামাদ আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
Comments