বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪
Thursday, 18 July, 2024

টিকটকার মামুনের পক্ষ নিলেন তসলিমা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ডিপ্লোমেট ডটকম:
  20 Jun 2024, 20:50
টিকটকার মামুনের পক্ষ নিলেন তসলিমা!..................................ছবি: সংগৃহীত

টিকটকার প্রিন্স মামুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লায়লা আক্তার ফারহাদকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। যা নিয়ে ক’দিন ধরেই তোলপার নেট দুনিয়া। চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বিষয়টি নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা। কেউ লায়লার পক্ষে কেউবা মামুনের পক্ষে কথা বলছেন। আবার অনেকেই এড়িয়ে যাচ্ছেন। এবার এ ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

বুধবার (১২ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন তসলিমা নাসরিন। যেখানে টিকটকার মামুনের পক্ষ নিয়ে শেয়ার করেছেন নানা কথা।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘প্রিন্স মামুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রিন্স মামুন ছিল লায়লা আক্তারের জিগোলো। সেই অল্প বয়সী তরুণদের জিগোলো বলা হয় যারা টাকা পয়সা আর নানা উপহারসামগ্রীর বিনিময়ে বয়স্কা মহিলাদের সঙ্গ দেয়। মূলত যৌনসঙ্গ। ৪৮ বছর বয়সী লায়লা ২৪ বছর বয়সী মামুনকে জিগোলো হিসেবেই রেখেছিলেন। মামুনকে তিনি মাঝে মাঝে টাকা দিতেন, তার বিনিময়ে সুদর্শন তরুণটির সঙ্গ উপভোগ করতেন। মামুনকে শুধু যৌনসঙ্গী হিসেবে ব্যবহার করতেন না, মামুনকে তিনি টাকা রোজগারের জন্যও ব্যবহার করতেন।

মামুনের পেছনে তিনি যত টাকা ব্যয় করতেন, তার চেয়ে বেশি তিনি মামুনের সঙ্গে ভিডিও বানিয়ে আয় করতেন। জনপ্রিয় টিকটকার মামুন নাচতো বা গানের সঙ্গে ঠোঁট মেলাতো, তার পাশে রঙ করা পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থাকতেন লায়লা। এসব অর্থহীন রুচিহীন ভিডিও ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম, ফেসবুকে আপলোড করতেন তিনি। শুধু নাচ গানের ভিডিও নয়, মামুন খাচ্ছে, মামুন হাসছে, মামুন খেলছে– সব কিছুর ভিডিও তার করা চাই, মামুনের জন্য ভিউয়ার সংখ্যা এত বেশি ছিল যে, তিনি এ থেকে ভালো টাকা রোজগার করতেন। 

করতেনই বা বলি কেন, রোজগার এখনো করছেন। তিনি ধনী। মামুন দরিদ্র। তিনি মামুনকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন, মামুনকে খাওয়াচ্ছেন, পরাচ্ছেন। ইচ্ছে হয় মামুনকে তিনি টাকার বিনিময়ে সারাজীবনের জন্য কিনে নেন। মামুনকে বিয়ে করতে চান লায়লা। মামুনের কোনো ইচ্ছে নেই তার দ্বিগুণ বয়সী মহিলাকে বিয়ে করার। 

চাপাচাপি করলে এক শর্তে সে রাজি, তাকে লায়লার বাড়িটি লিখে দিতে হবে। পাকা জিগোলোর মতোই ব্যবহার মামুনের। কয়েক লাখ টাকা দিয়ে লায়লা হয়তো ভেবেছিলেন নিজের স্বপ্নপূরণ করবেন। কিন্তু মামুন চায় বাড়ি। মামুনকে লায়লা বাড়ি লিখে দেবেন কথা দিয়েও দেন না। মামুন সে কারণে লায়লাকে ছেড়ে চলে যায়।

লায়লার দরকার সঙ্গ, মামুনের দরকার টাকা। এ সম্পর্কটি শুরু থেকেই ছিল দেয়া নেয়ার। বাড়ি না পেয়ে লায়লার সঙ্গে তিন বছরের সম্পর্কে ইতি টানলেন মামুন। সম্পর্কে ইতি টানা মানবাধিকারের অংশ। মেনে নেয়া উচিত ছিল লায়লার, কিন্তু তিনি মেনে নেন না। যদিও যে কারোরই যেকোন বন্ধুত্বের, প্রেমের, বিয়ের, এমনকি জিগোলোর সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলার অধিকার আছে, কিন্তু মামুনকে সে অধিকার কিছুতেই দিতে চাননি লায়লা। 

ফেসবুকে সারাক্ষণই মামুনের জন্য তার কান্নাকাটি চলতে থাকে, মিডিয়ার লোক নিয়ে চলে যান মামুনের গ্রামের বাড়িতে। মানুষকে দেখান মামুনকে তিনি খুব ভালোবাসেন। মামুনকে তিনি সত্যিই যদি ভালোবাসতেন, মামুন তার পায়ের নখের যোগ্য নয়, এ কথা বলতেন না বারবার। মামুনের বিরুদ্ধে মামলা করে তার সর্বনাশ করতেন না! লায়লার মতো চালাক চতুর নয় মামুন। সে বিশ্বাস করেছিল লায়লা তার ফ্যান, লায়লা তাকে ভালোবাসেন। লায়লা তার জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করবে। হয়তো কোনো দিন সে ভাবতে পারেনি, লায়লা তাকে একদিন জেলখানার ভাত খাওয়াবে।

মামুনের পারিবারিক সমস্ত তথ্য প্রকাশ করলেও তার নিজের বয়স কত, তার বিয়ে হয়েছিল কিনা, তার সন্তান আছে কিনা ইত্যাদি পারিবারিক কোনো তথ্যই প্রকাশ করেননি। মিডিয়া কোনো প্রশ্ন করলে তিনি কায়দা করে উত্তর এড়িয়ে গেছেন। মামুনের পরিবারের দারিদ্র্য নিয়ে, মামুন এবং তার পরিবারের সবার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কম তুচ্ছ তাচ্ছিল্য তিনি করেননি। নিজের ধন দৌলত নিয়ে লায়লা সব সময় গর্ব করেছেন, নিজের ডিগ্রি, নিজের বেতন, নিজের বাড়ি গাড়ি ধনদৌলত নিয়ে তার অহঙ্কারের শেষ নেই। 

আর মামুনকে কখন কত টাকা দিয়ে সাহায্য করেছেন, মামুনকে কত টাকা দামের কী উপহার দিয়েছেন, সবই বিশ্ববাসীকে বারবারই জানিয়ে দিয়েছেন। মামুন লায়লাকে বিয়ে করতে রাজি নয় বলে লায়লা এখন মামুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা ঠুকে দিয়েছেন, মামুন নাকি তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে। এমন বানোয়াট কথা অসৎ না হলে বলা যায় না। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যৌন সম্পর্ক করলে প্রতারণা হয়, ধর্ষণ হয় না। অনুমতি ছাড়া যৌনসম্পর্ক করলে হয় ধর্ষণ। 

লায়লার তো এ ব্যাপারে অনুমতির কোনো অভাব ছিল না। লায়লা বুঝে গিয়েছেন মামুন আর তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখবে না, জিগোলো সম্পর্কটিও চুকে বুকে গেছে। মামুনকে আগের মতো নিয়ন্ত্রণ করাও তার পক্ষে সম্ভব হবে না। বিয়ে করা তো হবেই না। এ কারণে তার এত রাগ মামুনের ওপর। মামুন যে তাকে ভালোবেসে বিয়ে করবে না, সে যে বিয়ে করলে টাকা কড়ি আর বাড়ি গাড়ির বিনিময়ে করবে, এটি লায়লা মেনে নিতে পারেননি। 

লায়লা বহুবার মামুনকে হুমকি দিয়েছেন তাকে বিয়ে না করলে বা তার সঙ্গে একত্রবাস না করলে, তার সঙ্গে আগের মতো ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েট’ না করলে বা ভিডিও না বানালে তিনি মামুনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণের মামলা তুলে নেবেন না। যখন দেখেছেন মামুন কিছুতেই তার কাছে ফিরে যাবে না, তখন বলেছেন, তাকে ৯০ লাখ টাকা দিলে তিনি মামলা তুলে নেবেন।

মামুনকে কী করে হেনস্থা করা যায়, কীভাবে তাকে নিঃস্ব করে ফেলা যায়, তিনি করছেন, এভাবেই তিনি তার অনুদার এবং প্রতিশোধপরায়ণ চেহারাটি প্রকাশ করছেন। মামুনের বড় দুই ভাই বোন প্রতিবন্ধী। তারা কথা বলতে পারে না। তার অসহায় মা বাবা আর ভাইবোনের জন্য টিকটিক আর ইউটিউব থেকে উপার্জিত টাকা দিয়ে একখানা একতলা বাড়ি বানিয়েছে মামুন, পরিবারের মানুষগুলোর মাথা গোজার ঠাঁই হয়েছে। 

কিছুদিন আগে ঢাকায় একটি সেলুনের ব্যবসা শুরু করেছে সে। হাজারো ভক্ত মামুনকে দেখতে এসেছিল। সেই সেলুনের উদ্বোধনের দিন লায়লা গিয়েছেন। প্রেস কনফারেন্সের ভিড়ে সবাইকে দেখিয়ে নিজের ওড়না দিয়ে মামুনের মুখের ঘাম মুছে দিয়ে দরদী প্রেমিকার অভিনয় করে আসার দুদিন পর লায়লা ধর্ষণের মামলা ঠুকে দিয়েছেন মামুনের বিরুদ্ধে।

লায়লার আত্মীয়স্বজন মিলিটারিতে, ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশও মনে হয় মিলিটারির আদেশ পালন করতে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকে। সত্যিকার নারী নির্যাতক আর ধর্ষকরা দেশময় ঘুরে বেড়াচ্ছে, পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে না। আর মামুনের মতো স্ট্রাগল করা এক তরুণকে তড়িঘড়ি গ্রেফতার করেছে। রিমান্ডে নেয়া হবে বেচারাকে, বেধড়ক পেটানো হবে। যে তরুণ লায়লার চক্রান্তের শিকার, সে এখন শিকার হচ্ছে মিথ্যে মামলার, ফেঁসে গেছে আইনের মারপ্যাঁচে। 

মামুনের আত্মীয়স্বজন লায়লার আত্মীয়স্বজনের মতো প্রভাবশালী নয়। সুতরাং মামুনকে ভুগতে হচ্ছে, ভুগতে হবে। না বুঝে সে আটকে গেছে লায়লার পাতা ফাঁদে। মামুনকে মুক্ত করার জন্য, আশা করছি, মানবাধিকারের জন্য যে আইনজীবীরা লড়েন, এগিয়ে আসবেন। লায়লা আর মামুনের এ দ্বন্দ্ব বা লড়াই আসলে নারীবাদ আর পুরুষতন্ত্রের লড়াই নয়, এ ধনি আর দরিদ্রের লড়াই, সবল আর দুর্বলের লড়াই, দম্ভ আর অসহায়ত্বের লড়াই, শিকারি আর শিকারের লড়াই।

নারী হয়ে জন্ম নিয়েছে বলেই সে ভালো, সে সত্যবাদী, এ আমি মনে করি না। পুরুষ যেমন বদমাশ হতে পারে, নারীও তেমন বদমাশ হতে পারে।’

উল্লেখ্য, ১০ জুন প্রিন্স মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ১১ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয় তাকে। এর আগে গত ৯ জুন প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করেন লায়লা।

Comments

  • Latest
  • Popular

রেসিডেনসিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী ফারহান নিহত

কোটা নিয়ে আপিল শুনানি রোববার

আগামী তিনদিন এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

দেশজুড়ে সংঘর্ষ, ২৪ ঘণ্টায় নিহত ১১ 

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় দুই মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিলেন প্রধানমন্ত্রী

উত্তরায় গুলিতে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষার্থী নিহত 

কমপ্লিট শাটডাউনে সংঘর্ষে অচল ঢাকা 

সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

রংপুরে ‘লজ্জায়’ আ.লীগ-ছাত্রলীগের দুই শতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ

বাড্ডায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে পুলিশের রাবার বুলেটে নিক্ষেপ, আহত বহু শিক্ষার্থী

১০
কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে তারকাদের অবস্থান 
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের একদফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল সারা দেশ। শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে
অনন্ত আম্বানির বিশেষ অতিথিরা যে উপহার পেলেন 
অতিথিদের আতিথেয়তায় কোনও ত্রুটি রাখতে চান না গৃহস্থেরা। আম্বানি পরিবারের বিয়েতে সে কথা যেন আরও
অনন্ত-রাধিকার বিয়েতে যা ঘটালেন রেখা ঐশ্বরিয়া কার্দাশিয়ান ও অনন্যা
অনন্ত আম্বানি ও রাধিকা মার্চেন্ট বিয়ে করেছেন ১২ জুলাই। মুম্বাইয়ের জিও ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টারে বসেছে
রাজকে তিতা করলা বললেন পরীমণি
ঢালিউডের আলোচিত নায়িকা পরীমণি। সম্প্রতি একটি টিভি অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে শাকিব খানসহ কয়েকজন নায়ককে ফল
Error!: SQLSTATE[42S22]: Column not found: 1054 Unknown column 'parent_cat_type' in 'field list'