চীন সফর শেষে বুধবার রাতে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দেশে ফিরেছেন। এই সফরে তিনি চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) স্থলবাহিনীর পলিটিক্যাল কমিশনার জেনারেল শেন হুইসহ উচ্চপদস্থ চীনা সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তিনি দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত শুক্রবার সেনাবাহিনীর প্রধান পিএলএর সদর দপ্তরে পৌঁছালে তাঁকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। পরবর্তী সময় সেনাবাহিনীর প্রধান পিএলএর স্থলবাহিনীর পলিটিক্যাল কমিশনার জেনারেল শেন হুইয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তাঁরা দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা, জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনে সহায়তা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের সামরিক শিল্পের উন্নতিতে চীনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি আলোচনা করা হয়।
গত শনিবার সেনাপ্রধান চীনের নিরনকো গ্রুপের প্রেসিডেন্ট চেন ডিফ্যাংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তাঁরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে প্রচলিত নরিনকো গ্রুপের বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জামের আপগ্রেডেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ও উক্ত বৈঠকে আলোচিত হয়। এ ছাড়া সেনাপ্রধান পিএলএর একাডেমি অব অ্যারমার্ড ফোর্সের বেজিং ক্যাম্পাসের প্রশিক্ষণ সুবিধাদিসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন গবেষণাগার পরিদর্শন করেন।
আন্তর্জাতিক মানের উক্ত একাডেমিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন।
এ ছাড়া সফরকালে সেনাবাহিনীর প্রধান বেজিং ও শিয়াং–এ অবস্থিত নরিনকো গ্রুপের বিভিন্ন কারখানা ও গবেষণাকেন্দ্র, চায়না এয়ারস্পেস লংমার্চ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেড এবং আইসেং ইউএভি ফ্যাক্টরিসহ অন্যান্য আধুনিক অস্ত্র ও গোলা বারুদ তৈরির কারখানা পরিদর্শন করেন।
২০ আগস্ট (বুধবার) সেনাবাহিনী প্রধান সরকারি সফরে চীনে যান।
Comments