সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
Monday, 27 April, 2026

যুক্তরাষ্ট্র চায় না বাংলাদেশের উন্নয়ন অব্যাহত থাকুক: শেখ হাসিনা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
  16 May 2023, 21:06

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সফরের সময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই সমালোচনা করেন। সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিবিসির সাংবাদিক ইয়ালদা হাকিম জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র কেন বাংলাদেশের বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন? এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে বাহিনীর ওপর তারা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, সেটা তাদের পরামর্শেই ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। তাদের সব প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছিল। যেভাবে তারা বাহিনীটাকে তৈরি করেছে, তারা তো সেভাবেই কাজ করছে বলে আমার বিশ্বাস। তাহলে কেন তারা এই নিষেধাজ্ঞা দিলো? এটা আমার কাছেও বিরাট এক প্রশ্ন।’

শেখ হাসিনার কাছে বিবিসি জানতে চায়, তাহলে কেন যুক্তরাষ্ট্র এটা করেছে বলে তিনি মনে করেন? তিনি বলছেন, ‘আমি জানি না, হয়তো তারা আমার কাজ অব্যাহত থাকুক তা চায় না। আমি বাংলাদেশের জন্য যেসব উন্নতি করেছি, সেটা তারা হয়তো গ্রহণ করতে পারছে না। এটা আমার অনুভূতি। একটা পর্যায়ে সন্ত্রাস সব দেশের জন্য সমস্যা হয়ে উঠেছিল। আমাদের দেশে আমরা সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করেছি। এরপর মাত্র একটা ঘটনা ঘটেছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ন্ত্রণ রাখতে কঠোর পরিশ্রম করেছে।’

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির আগে বাংলাদেশে বন্দুকযুদ্ধের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন বিবিসির ইয়ালদা হাকিম। নিষেধাজ্ঞা জারির আগে ২০১৮ সালে ৪৬৬ জন মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। ২০১৯ সালে ৩৮৮ জন ও ২০২০ সালে ১৮৮ জন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পর এই সংখ্যা মাত্র ১৫ জনে নেমে এসেছে।

এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেসব নম্বর তারা উল্লেখ করেছে, সেগুলো তারা প্রমাণ করতে পারেনি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব হত্যাকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করেনি। কারণ, আমরা প্রমাণ চেয়েছিলাম। সেগুলো তারা পাঠিয়ে দিক, আমরা তদন্ত করে দেখবো।’

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচেভেলের একটি তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে, র‌্যাবের দুই কর্মকর্তা গোপন তথ্য ফাঁস করে বলেছেন, এসব হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এসেছে। এই তথ্য তুলে ধরা হলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি না তারা কীভাবে এটা করেছে, কিন্তু আমেরিকায় কী ঘটছে, আপনি দেখতে পাচ্ছেন। সেখানে প্রায় প্রতিদিন একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটছে। এমনকি স্কুল, শপিং মল, রেস্তোরাঁয় হত্যাকাণ্ড ঘটছে। এমনকি স্কুল শিক্ষার্থীরা, সাধারণ মানুষ হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অথবা সশস্ত্র ব্যক্তির হাতে নিহত হচ্ছে। আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তাদের নিজেদের ব্যাপারে আরও মনোযোগী হওয়া। তাদের দেশের কী অবস্থা? তাদের উচিত শিশুদের জীবন রক্ষা করা। তারা নিজেদের লোকজনের ব্যাপারে যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তারা যেসব অভিযোগ করেছে, আমরা তাদের কাছে প্রমাণ চেয়েছিলাম। তারা দেয়নি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞা একটা খেলার মতো। এটা আমার কাছে এখনও পরিষ্কার নয় কেন তারা আমাদের দেশের প্রতি নিষেধাজ্ঞা দিলো?’

শেখ হাসিনা নিজের পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা তুলে ধরে বলেন, ‘এই খুনিরা দায়মুক্তি পেয়েছিল। আমি এমনকি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারিনি। আমার বিচার পাওয়ার কোনও অধিকার ছিল না। সেই সময় তারা কোনও নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। বরং একজন হত্যাকারী আমেরিকায় আশ্রয় নিয়েছে। আমরা তাদের বারবার অনুরোধ করেছি, তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য। তারা করেনি। কেন তারা শুনছে না, আমি জানি না।’

জাতীয় সংসদে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি প্রধানমন্ত্রী এক বক্তব্যে বলেছিলেন, আমেরিকা বাংলাদেশের ক্ষমতায় পরিবর্তন আনতে চায়। এই বক্তব্যের পক্ষে কী প্রমাণ আছে বিবিসির পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়। এর উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে একটা বড় প্রশ্ন হলো, কেন তারা নিষেধাজ্ঞা জারি করলো? যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশের সন্ত্রাস মোকাবিলার জন্য কাজ করছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তখন তারা লঙ্ঘনকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যারা ভুক্তভোগী, তাদের পক্ষে নয়।’

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, জাতিসংঘ, সবাই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে- এই তথ্য শেখ হাসিনাকে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘আমি জানি ১২টি প্রতিষ্ঠান মিলে এসব বক্তব্য দিয়েছে, কিন্তু তারা প্রমাণ করতে পারেনি। আমি জানি না কী আন্তর্জাতিক খেলা চলছে।’

কেন তারা আপনাকে সরাতে চাইবে? ইয়ালদা হাকিমের এই প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা আমার পিতাকে হত্যা করেছে, যারা আমার পরিবারকে হত্যা করেছে, এমনকি ১০ বছরের ভাইকে হত্যা করেছে, সেই ষড়যন্ত্রকারীরা চায় না এই পরিবারের কেউ ক্ষমতায় আসুক।’

নির্বাচন ইস্যুতে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন ও ভোটাধিকারের জন্য আমি সারা জীবন ধরে সংগ্রাম করেছি সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে। নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার জন্য আমরাই আইন করেছি। আমরা সবসময়ই চেয়েছি যেন মুক্ত ও স্বচ্ছ নির্বাচন হয়। এখন আমাদের ভোটার লিস্ট ছবিসহ তৈরি করেছি, আমরা স্বচ্ছ ব্যালট বক্সের ব্যবস্থা করেছি।’

Comments

  • Latest
  • Popular

সেরোভ একাডেমি অব ফাইন আর্টস-এর আয়োজনে দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য “বৈশাখী শিশু উৎসব ২০২৬”

সাইবার আইনের অপব্যবহার আগের সরকারের দমন–পীড়নেরই পুনরাবৃত্তি: এইচআরডব্লিউ

ঢাকায় “গার্ডেন অব মেমোরি” বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

টোকিও দূতাবাসে বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপাক্ষিক   বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানো নিয়ে মতবিনিময় সভা

ঢাকার ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের প্রশংসা করে তেহরান: ইরান দূতাবাস

কূটনীতিতে 'Banquet' বা 'রাষ্ট্রীয় ভোজসভা ' বলতে কি বুঝায়?

কূটনীতিতে 'দ্বিপাক্ষিক ' বলতে কি বুঝায়?

আর. পি. সাহা ইউনিভার্সিটি (আরপিএসইউ) তে চীন-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বের ৩০ বছরপূর্তি উপলক্ষে চলচ্চিত্র উৎসব

এসএএবি ও রাশিয়ান হাউস আয়োজন করল পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

রোহিঙ্গাদের সমুদ্রযাত্রায় ২০২৫ ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী: ইউএনএইচসিআর

১০
মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের প্রকল্প ঘোষণা
আজ, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের  রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মুঘল যুগের মুসা খান
একাত্তরে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব
১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন প্রতিনিধি সভায় একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে বিএনপি-জামায়াত ‘সম্মতি দিয়েছিল’: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির করার আগে এ বিষয়ে দুই রাজনৈতিক দল— বিএনপি ও জামায়াত থেকে
খলিল-ক্রিস্টেনসেন বৈঠক / যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর ঢাকায় আসছেন মার্চের শুরুতে
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর আগামী ৩ মার্চ দুই দিনের বাংলাদেশ