বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসিতে মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে। শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধায় ভার্জিনিয়ার আর্লিংটন কাউন্টির কেনমোর মিডল স্কুল অডিটোরিয়ামে এই দিবসটি পালন করা হয়।
আর্লিংটন কাউন্টি ও আর্লিংটন আর্টস এর সার্বিক সহযোগিতায় ডিসি একুশে এলায়েন্সের (ডিসিইএ) আয়োজন ও সামাজিক সংগঠন ধ্ৰুপদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আর্লিংটন কাউন্টি এবং ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার ২৯টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই অমর একুশে এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয় !
অনুষ্ঠানের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত প্রচার ও সমবেত কণ্ঠে "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো" পরিবেশন করা হয়। এরপর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটের উপর নির্মিত একটি প্রামাণ্য চিত্র তুলে ধরা হয়।
অতপর আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন অনুষ্ঠানের
সমন্বয়ক প্রিয় বাংলার ড. প্রিয়লাল কর্মকার। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের উপ-রাষ্ট্রদূত ডিএম সালাউদ্দিন মাহমুদ, আর্লিংটন কাউন্টির কমিশন ফর দ্যা আর্টস এর চেয়ারম্যান মি. অ্যাডাম গ্রীণ ও সাবেক চেয়ারম্যান মিজ. মার্শা সিমেল, ইউএস সিনেটর মার্ক আর ওয়ার্ণার-এর আউটরিচ রিপ্রেজেনটেটিভ মিজ. জ্যাকলিন মারমল, ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাবলিক হিউম্যানিটিজ কনসাল্টেন্ট অ্যান্ড রাইটার মি. ডেভিড বিয়ানজার, আর্লিংটন স্কুল বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও ড্রিম প্রজেক্টের প্রতিষ্ঠাতা ড. এমা ভায়োল্যান্ড-স্যানচেজ, আর্লিংটন স্টুডিও পজের প্রতিষ্ঠাতা ড. সুষ্মিতা মজুমদার প্রমুখ।
ডিএম সালাউদ্দিন মাহমুদ তার সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বলেন, ৫২'র ভাষা আন্দোলনে আমাদের ভাইয়েরা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বলেই আজ আমরা আমাদের মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলি। তিনি বলেন, ভাষা আমাদের যোগাযোগের মাধ্যম-এক অনন্য উপহার। আর এই উপহার ছাড়া আমরা আমাদের মনের ভাষা প্রকাশ তথা যোগাযোগ করতে পারতাম না। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সকল ভাষাভাষীর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাশীল হবার ও ভাষা রক্ষায় কাজ করার দায়িত্ব রয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ভাষার জন্য কমিউনিটি সদস্যদের সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেনন তিনি। এ পর্যায়ে আর্লিংটন কাউন্টির কমিশন ফর দ্যা আর্টস এর চেয়ারম্যান মি. অ্যাডাম গ্রীণ ও ইউএস সিনেটর মার্ক আর ওয়ার্ণার-এর আউটরিচ রিপ্রেজেনটেটিভ মিজও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
অতপর আমন্ত্রিত অতিথিরা একুশের বেদীতে ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অতপর বিশিষ্ট আবৃত্তিকার অদিতি সাদিয়া রহমানের নির্দেশনায় শিশু শিল্পীদের পরিবেশনা -"অ আ-র ফুলঝুড়ি" পরিবেশিত হয়। এতে শিশুরা সমবেত কণ্ঠে "চল চল চল", "ভোর হলো দোর খোল", "হাট্টি মাটি মটিম", "আহ কি আনন্দ আকাশে বাতাসে"গানগুলো পরিবেশন করে। এছাড়া আলী আনন্দের সংকলন ও পরিচালনায় বাংলা বর্ণমালা নিয়ে শিশুদের সমবেত গান "অ আ" পরিবেশন করা হয়। এ পর্বে শফিকুল ইসলামের গ্রন্থনা ও পরিচালননায় অমর একুশের উপর একটি ভিডিও চিত্রও প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠান সূচীতে মাহবুব লেনিনের গবেষণা ও গ্রন্থনায় "হাজার বছরের বাংলা ভাষা," শিল্পী রোজারিওর পরিচালনা ও ক্যারিওগ্রাফিতে নৃত্যালেখ্য "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো," হিরণ চৌধুরীর গবেষণা ও পরিচালনায় "হাজার বছরের বাংলা গান, কবিতা ও নৃত্য" অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়াও ছোটদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
সবশেষে এবারের একুশে এলাায়েন্সের প্রধান সমন্ময়ক হিরণ চৌধুরীর ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও আয়োজক সংগঠনগুলো ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
উল্লেখ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলামনাই ফোরাম, ইনক (ডুয়াফি), প্রিয় বাংলা, ধ্রুপদ, ইনক, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসি (বাগডিসি), বাংলাদেশী এন্টারপ্রেনার্স সোসাইটি অব ট্যালেন্টস (বেষ্ট), জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই এসোসিয়েশন ইন ডিসি ও একাত্তর ফাউন্ডেশনসহ ওয়াশিংটন ডিসি, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ড নিয়ে গঠিত বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসির ২ঌটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের জোট 'ডিসি একুশে এলায়েন্স'-এর উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়।
বেষ্ট প্রেসিডেন্ট ড. ফয়সাল কাদের ও বিশিষ্ট উপস্থাপিকা তাসকিন বিনতে সিদ্দিকীর উপস্থাপনায় এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় আমেরিকানসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী উপস্থিত ছিলেন।
Comments