
আংকারায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. আমানুল হক গত ১৫ জুন টার্ক অ্যাব্রোড অ্যান্ড রিলেটেড কমিউনিটিজ (ওয়াইটিবি)-এর প্রেসিডেন্ট আবদুলহাদি তুরুসের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে বৈঠকটি শুরু হয়। গত ১৬ জুন আংকারায় বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে।
এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে ওয়াইটিবি-এর সভাপতি দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন এবং তুরস্কের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালি মুসলমানদের সমর্থন ও অবদান গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ভ্রাতৃত্ব ও আধ্যাত্মিক বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার নবযাত্রায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব উন্নয়ন ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশকে একটি উদীয়মান এবং অপার সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন, বাংলাদেশের বিপুল যুবসমাজ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের তরুনদের জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নে ওয়াইটিবি ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান যে, ওয়াইটিবি -এর কার্যক্রম কেবল উচ্চশিক্ষা বৃত্তি প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং যুব উন্নয়ন ও নেতৃত্ব কর্মসূচি, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সাংস্কৃতিক কূটনীতি, এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো বিষয়েও কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ওয়াইটিবি মিডিয়া লিটারেসি, সিটিজেন জার্নালিজম, মোবাইল জার্নালিজম, কনটেন্ট ক্রিয়েশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল মিডিয়া এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল কনটেন্ট প্রোডাকশন বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে। তিনি বাংলাদেশি আগ্রহীদের এসব কোর্সে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এবং উল্লেখ করেন যে, এসব প্রশিক্ষণের জন্যও ওয়াইটিবি বৃত্তি প্রদান করে থাকে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়াইটিবি -এর বৃত্তি ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং জানান যে, বাংলাদেশ থেকে যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা প্রয়োজন হলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সহায়তা প্রদান করতে পারে। তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি করার অনুরোধ জানান, কারণ তুরস্কের মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশের কারণে তুরস্ক বর্তমানে অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
ওয়াইটিবি-এর সভাপতি রাষ্ট্রদূতের প্রস্তাবসমূহকে স্বাগত জানান এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত ওয়াইটিবি-এর সহযোগিতাকে একটি দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোর আওতায় আনতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তাবও উত্থাপন করেন। এ বিষয়ে উভয় পক্ষ একযোগে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়।
বৈঠকটি শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
Comments